মেয়েদের গোপন ভিডিও ধারণ করে প্রতারণা, গ্রেফতার ১



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
গ্রেফতারকৃত ইয়াসিন রাতুল। ছবি: বার্তা২৪.কম

গ্রেফতারকৃত ইয়াসিন রাতুল। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কৌশলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের গোপন ভিডিও ধারণ করে প্রতারণা এবং মোবাইল ফোন চুরি করে ফেসবুক আইডি দখলে নিয়ে মেয়েদের ব্ল্যাকমেইল করার দায়ে রাতুল নামে এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় সিআইডি রাজধানী বাংলামোটর এলাকা থেকে মোহাম্মদ ইয়াসিন রাতুল কে গ্রেফতার করে।

সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,প্রেমের ফাঁদে ফেলে নারীদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেন রাতুল। এরপর সেই যৌনদৃশ্য ভিকটেমের মোবাইলে ধারণ করে মোবাইল নিয়ে গোপনে সটকে পড়তেন। মোবাইল বিক্রির আগে ভিকটিমের ভিডিও কন্টেন্ট এবং ফেসবুক আইডির দখল নিয়ে রাখতেন রাতুল। সেটা দেখিয়ে দিনের পর দিন ওইসব তরুণীদের ব্ল্যাকমেইল করতেন। এমন একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার নামে। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে এমন বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

গ্রেফতার কালে তার কাছে থাকা প্রতারণা এবং ব্ল্যাকমেইলে ব্যবহৃত ২টি মোবাইল, ১০টি সিম উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে চারটি ফেক ফেসবুক আইডি এবং নয়টি জিমেইল একাউন্ট পাওয়া যায়।

জানা গেছে, মোহাম্মদ ইয়াসিন রাতুল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ আবু তাহেরের ছেলে। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে ঢাকার মিরপুরে চলে আসে রাতুল। প্রথমে স্থানীয় এক নেতার বাসায় চা বয় হিসেবে কাজ নেন। পরবর্তিতে মোহাম্মদপুর রিংরোডে একটি শো রুমে সেলসম্যানের চাকরি নেন। হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দিয়ে অপরাধের পথে পা বাড়ান। যৌন ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কাজে জড়িয়ে পড়েন।

রাতুলের প্রতারণা স্বীকার এমন একজন ভিকটিম সিআইডি সাইবার ক্রাইমে কাছে তার অভিযোগে জানান, ‘৬ মাস যাবত রাতুলের সাথে পরিচয়, ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় আমরা দেখা করি। একদিন আমাকে চাঁদপুর যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। আমার দুইবন্ধুসহ রাতুলের সাথে লঞ্চে চাদপুর যাই। লঞ্চে থাকাকালীন আমার বন্ধুদের কোন একসময়ের অনুপস্থিতিতে আমার মোবাইলে কৌশলে আমার নগ্ন ভিডিও ধারণ করে। আমরা লঞ্চ থেকে ঢাকায় নামার পর রাতুলের মোবাইলে ব্যালেন্স না থাকায় আমার মোবাইল নিয়ে ফোন করার কথা বলে সদরঘাট থেকে সে সটকে পড়ে। আমি অনেক সময় তার জন্য অপেক্ষা করি কিন্তু সে আর আসে নাই। সে আমার মোবাইলে থাকা বিকাশের ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেয় এবং পরেরদিন ন্যুড ভিডিও দিয়ে আমাকে হুমকি দেয় যে ২৫ হাজার টাকা না দিলে আমার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিবে। আমার ফেসবুক আইডিও সে তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। সে আমাকে এবং আমার মা বাবাকেও ফোন করে চাপ দেয় টাকার জন্য। টাকা না পেলে আজ ৪টার পর সে ভিডিও ছড়িয়ে দিবে।’

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি সাইবার ক্রাইম রাতুলকে গ্রেফতার করে এবং ব্যবহ্রত সকল মোবাইল উদ্ধার করে সেখানে অন্তত দশজন ভিকটিমের তথ্য পায়। তাদের সবারসহ অনেক মেয়ের ন্যুড কন্টেন্ট পাওয়া যায় রাতুলের মোবাইলে। ফেক কল এবং ভুয়া হিস্ট্রীর অ্যাপসসহ প্রতারণায় ব্যবহ্রত নানান টেকনলজি বিষয়ে রাতুলের মোবাইলে প্রচুর তথ্য পাওয়া যায়।

আরো একজন ভিকটিমের তথ্য পান সাইবার ক্রাইম ইউনিটি যিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালযের শিক্ষার্থী। ছয় মাস আগে ভিকটিম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একজন ইউটিউবার মেয়ের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হতে তানজুমা আফরোজ নামের একজন মিডিয়া ব্যক্তির সন্ধান পায় যা আসামি রাতুলেরই তৈরিকৃত ফেক আইডি। ভিকটিম সরল বিশ্বাসে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করেন। প্রথমে ফেসবুক চ্যাটিং এবং পরবর্তীতে ফোনালাপ হয়। উক্ত ফোনালাপ গুলোতে আসামি বিশেষ সফটওয়ারের মাধ্যমে ভিকটিমের সাথে মেয়ে কণ্ঠে কথা বলে।

পরবর্তীতে তানজুমা আফরোজ নামক ফেক আইডিটি আসামি রাতুলকে ভিকটিমের সাথে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দেয়। এভাবে ভিকটিমের সাথে উক্ত আইডিধারী আসামি সুসম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে এই সম্পর্ক প্রেমের রূপ নেয়। রাতুল এমন বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে সকল ভিকটিমদের বিশ্বাস আস্হা অর্জনকরে। আসামি ভিকটিমদের ভিডিও কলে আসার প্ররোচনা দেয় পরবর্তীতে সেই ন্যুড ভিডিও স্ক্রিন রেকর্ড করে রাখে। এরপর আসামি ভিকটিমদের দেখা করার জন্য ডেকে আনে, প্রথম দেখাতেই সে ভিকটিমের ফোন মোবাইল কৌশলে চুরি করে পালিয়ে যায়। চুরিকৃত মোবাইল হতে তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে ফরমেট দিয়ে সে মোবাইল বিক্রি করে দেয়। বিক্রির পূর্বে ভিকটিমের ফোনের ফেসবুক, জিমেইল অ্যাকাউন্টে দখলে নেয়। সেই হ্যাককৃত ফেসবুক এর সহায়তা নিয়ে পরবর্তী কোন অন্য এক ভিকটিমকে টার্গেট করে।

সাইবার পুলিশ সেন্টার সিআইডি অভিযোগ প্রাপ্তির পর অনুসন্ধান করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আসামিকে শনাক্ত করে এবং বাদীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডি সাইবার মনিটরিংয়ের একটি বিশেষ টিম অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইয়াসিন রাতুল কে গ্রেফতার করে।

গতকাল ১৬ ই নভেম্বর শাহজাহানপুর মডেল থানার মামলা নং ১১, ধারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৩(২), ২৪(২),২৫(২), ৩০(২), ৩৫(২) এবং পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১), ৮(২) ধারায় তার নামে মামলা করা হয়েছে।