মিয়ানমারের ওপর কঠোর চাপ তৈরি করা দরকার



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তিনি উল্লেখ করেন, মিয়ানমার সরকার যাতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই পদ্ধতিতে জরুরি ভিত্তিতে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশটির ওপর কঠোর চাপ তৈরি করা দরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ভন লিন্ডে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো ডি আসেস বেনেটেজ সালাস এবং নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিকটার-সুইডেনসের সঙ্গে সাক্ষাতকালে এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে নতুন রাষ্ট্রদূতদের তাদের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানানোর পর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোর দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন পরিসরের আলোচনা করেন। ড. মোমেন এই তিনটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দুর্দান্ত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন যা বন্ধুত্বপূর্ণ, মতের মিল, পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর দ্বারা চিহ্নিত।

স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো ডি আসেস বেনেটেজ সালাস

পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে গত এক দশকে বাংলাদেশের গৌরবময় উন্নয়নমূলক যাত্রা সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন।

মোমেন সুইডিশ, স্পেনীয় এবং নরওয়েজিয়ান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (এসইজেড) কারখানা স্থাপনের জন্য আমন্ত্রণ জানান। এসইজেজে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত করের সুবিধা এবং আকর্ষণীয় বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগ-বান্ধব প্যাকেজ গ্রহণ করতে পারে এবং পাশাপাশি বাংলাদেশের জনসংখ্যার উপাত্ত এবং বৃহত্তর দেশীয় বাজারের সুবিধা নিতে পারে।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিকটার-সুইডেনসে

বর্তমান সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ম্যান্ডেটের কথা উল্লেখ করে তিনি রাষ্ট্রদূতদের আইসিটি সেক্টরে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন সম্পর্কে অবহিত করেন। বাংলাদেশের ২৮টি হাই-টেক পার্কের কথা উল্লেখ করে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতদের তাদের নিজ নিজ দেশের বিনিয়োগকারীদের এই হাই-টেক পার্কগুলিতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

ড. মোমেন বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার পর তিন বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ অনুকূল পরিবেশ তৈরি না করায় একটিও রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা যায়নি।

তিন রাষ্ট্রদূতই রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশের নেওয়া মানবিক অবস্থানের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাধারণ মানবিক পদক্ষেপের জন্য বাংলাদেশের গভীর প্রশংসা করেন।