টাঙ্গাইলে সবজির চারা চাষে লাখ টাকা আয়!



অভিজিৎ ঘোষ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে সবজির চারা চাষে লাখ টাকা আয়!

টাঙ্গাইলে সবজির চারা চাষে লাখ টাকা আয়!

  • Font increase
  • Font Decrease

শীতের জনপ্রিয় সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা উৎপাদন করে কৃষক ইউসুফ আলী মাসে আয় করছে লাখ টাকা। ৪০ শতাংশ জমিতে সবজি চারা উৎপাদন করছেন তিনি। শুধু ওই দুই সবজিই নয় সাথে বেগুন আর কাঁচামরিচের চারাও রয়েছে তার জমিতে।

জেলার ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের পাঁচটিকড়ি গ্রামের কৃষক ইউসুফ সবজির চারা উৎপাদনের পর সেগুলো হাট-বাজার বিক্রি করেন।

পাঁচটিকড়ি গ্রামে সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষক ইউসুফ আলী তার ৪০ শতাংশ জমিতে বেশি লাভের আশায় ধানের পরিবর্তে মৌসুমকালীন সবজির চারা উৎপাদন করেন। এরপর সেই জমিতে লাগানোর জন্য সবজি চারা রেখে বাকি চারা বাজারে বিক্রি করেন। তবে অধিকাংশ সময় তার ক্ষেত থেকেই বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা চারা কিনে নিয়ে যান। ইউসুফ আলী ৪০ শতাংশ জমিতে ৭টি ভিট তৈরি করেছেন পৃথক পৃথকভাবে। একেক ভিটে একেক সবজি চারা উৎপাদন করছেন তিনি। তার এই সবজি চারা পরিপক্ক হয়ে বিক্রির উপযোগী হতে মাস খানেক সময় লাগে। ইউসুফ আলীর ক্ষেতে চারজন শ্রমিক পানি ও পরিচর্যার কাজ করেন।

সবজির মধ্যে বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, সিম, লাল শাক, মরিচ, বেগুন। কেউ কেউ জমিতে ফুলকপির পাশাপাশি লালশাকের চাষ করছেন টাঙ্গাইলের চাষিরা

এদিকে একই গ্রামের আরো অনেকেই শীতকালীন সবজির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন। সবজির মধ্যে বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, সিম, লাল শাক, মরিচ, বেগুন। কেউ কেউ জমিতে ফুলকপির পাশাপাশি লালশাকের চাষ করছেন।

পাঁচটিকড়ি গ্রামের আরেক কৃষক আব্দুল লতিফ তার ৩৫ শতাংশ জমিতে শুধু ফুলকপি চাষ করছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। তার আশা চাষ ভালো হলে ফুলকপি বাজারে বিক্রি করে দুইগুণ টাকা আয় করবেন।

ইউসুফ আলীর ছেলে জুয়েল বলেন, শীত মৌসুম এলে প্রতি হাজার ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়। তবে কয়েকদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১৮শ থেকে ১৭শ টাকায়। ক্ষেত থেকেই দূর-দূরান্তের কৃষকরা এসে সবজি চারা নিয়ে যায়।

পাঁচটিকড়ি গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী বলেন, প্রায় দুইমাস পানিতে তলিয়ে ছিল জমি। এরপর পানি শুকনোর পর সবজি চারা উৎপাদন শুরু করি। ধান চাষ থেকে সবজি চারা ও সবজি চাষে বহুগুণ লাভ। চারা উৎপাদনে কৃষি অফিস থেকে কোন সহায়তা পাননি। শ্রমিক খরচসহ প্রায় ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চারা বিক্রি উপযোগী হওয়ার পর সেগুলো বিক্রি হবে দুই লাখ টাকার মতো। এই চারা উৎপাদন শেষে এখানে আবার চারা রোপণ করা হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে এই জমিতে বারো মাস সবজি চাষ ও চারা উৎপাদন করি।

উপজেলা কৃষি অফিসার দিলশাদ জাহান বলেন, সম্প্রতি উপজেলার ৭০০ কৃষকের মাঝে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা হিসেবে সবজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সবজি চাষে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।