জুয়ার বোর্ডে ডাকাতি, নদীতে লাফ দিয়ে ৩ জুয়াড়ি নিখোঁজ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, জামালপুর
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

  • Font increase
  • Font Decrease

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জুয়ার বোর্ডে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত ডাকাত দলের ডাকাতি থেকে আত্মরক্ষায় ৩ জুয়াড়ি নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজ রয়েছে বলে পরিবারের দাবি। এঘটনায় শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) দিনব্যাপি নিখোঁজের পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ধর্না দিলেও জিডি নেয়নি পুলিশ।

এদিকে তিন জুয়াড়িকে খুঁজে না পাওয়ায় হতাশায় রয়েছেন নিখোঁজের পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের মীরকুটিয়া’র পূর্বে বাসুরিয়ার পশ্চিমে নির্গম যমুনা নদীর বালুর চরে। অজ্ঞাত ডাকাত দলের হামলায় জুয়ার বোর্ডের মালিক আব্দুল মান্নান (৫০) কে কুপিয়ে আহত করেছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আওনা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য কুমারপাড়া গ্রামের সিদ্দিক তালুকদারের ছেলে লিটন তালুকদার, পোগলদিঘা ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের আজাহার আলী’র ছেলে খোকন মিয়া ও পিংনা নরপাড়া গ্রামের মৃত বাহেজ আকন্দের ছেলে আব্দুল মান্নান সরকার ও কান্দারপাড়া আলীর নেতৃত্বে আওনা ও পিংনা ইউনিয়ন এবং তারাকান্দিসহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে মোবাইল ফোনে জুয়াড়ি সরবরাহ করে ভ্রাম্যমাণ জুয়ার বোর্ড বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা চালিয়ে আসছিল।

পিংনা ইউনিয়নের ভূতের পাড়া ননী ঘোষের বাড়ির পাশে জুয়ার বোর্ডে বসানোর প্রতিবাদ করে আওনা ইউনিয়নের মোবারক হোসেন রাজা মেম্বার। পরে তারা ওই এলাকারে মীরকুটিয়া’র পূর্বে বাসুরিয়ার গ্রামের পশ্চিমে নির্গম যমুনা নদীর পশ্চিমে বালুর চরে বেশ কিছু দিন ধরে দিনরাত জুয়ার বোর্ড চালিয়ে আসছিল।

এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অজ্ঞাত ডাকাত দল হামলা চালিয়ে জুয়ার বোর্ডের মালিক আব্দুল মান্নানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এবং লিটন তালুকদার ও খোকন মিয়াকে পিটুনি দিলে তারা নদী সাতরিয়ে চলে আসে। ডাকাতদের হামলায় জুয়া বোর্ড মালিক ও খেলোয়াড়দের নিকট থেকে টাকা ও দামি মোবাইল নিয়ে নেয়।

জুয়াড়িদের মধ্যে অনান্যরা নদী সাতরিয়ে চলে আসলেও টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া গ্রামের মৃত জমসের আলী খানের ছেলে হাফিজুর রহমান(৩৭), একই জেলার ভূয়াপুর উপজেলার নিকলাপাড়া গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে ফজল মন্ডল (৩৩) এবং সরিষাবাড়ী উপজেলার পাখিমারা গ্রামের শামছুল হকের ছেলে ছানোয়ার হোসেন ছানু (৪০) নিখোঁজ রয়েছে পরিবারের দাবি।

এ ব্যাপারে নিখোঁজ ছানোয়ার হোসেন ছানু’র স্ত্রী রোজিনা বেগম জানান, ‘আমার স্বামীকে খোঁজাখুজি করে পাইতাছিনা।’

তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জিডি করতে আসা হাফিজুর রহমানের স্ত্রী নাছিমা বেগম ও ফজল মন্ডলের চাচা আব্দুস সাত্তার জানান, জুয়া খেলার আসরে ডাকাতি হয়েছে লোক মারফত এ খবর পেয়ে আমরা রাত থেকে অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে জিডি করতে এসেছিলাম। আমাদের জিডি নেয়নি পুলিশ।

আহত জুয়ার বোর্ড মালিক আব্দুল মান্নানের স্ত্রী রমনি সরকার জানান, ‘আমার স্বামীকে অজ্ঞাত ডাকতরা কুপিয়ে টাকা নিয়ে গেছে। তাকে ভূয়াপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, পরে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেছে। সেখানে ভর্তি করিয়েছি।’

তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দে’র ইনচার্জ মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের পরিবার পরিজন ফাঁড়িতে জিডি করতে এসেছিল। তাদেরকে স্ব-স্ব থানায় জিডি করার জন্য বলা হয়েছে। অন্য থানা থেকে দায়ের করা জিডি’র বিষয়ে সহায়তা চাইলে মোবাইলে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা সহায়তা করবো।

এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মো. ফজলুল করীম জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। বিষয়টি পূর্বে অবগত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করতাম।