বেনাপোলে আটকে পড়া ভারত ফেরত যাত্রীরা ১০ ঘণ্টা পর ইমিগ্রেশন ছাড়লো



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বেনাপোল (যশোর)
ভারত ফেরত যাত্রীরা ইমিগ্রেশন ছাড়লো। ছবি: বার্তা২৪.কম

ভারত ফেরত যাত্রীরা ইমিগ্রেশন ছাড়লো। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অবশেষে ১০ ঘণ্টা পর বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আটকা পড়া যাত্রীদের গন্তব্যে ফেরার অনুমতি মিলেছে।

ভারত থেকে ফেরার সময় সাথে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা করোনা নেগেটিভ সনদ না থাকায় আজ সকাল থেকে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে আটকে ছিল এসব যাত্রীরা। এসব যাত্রীদের অধিকাংশই ভারতে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য।

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকে ভারত ফেরত বাংলাদেশিদের করোনা নেগেটিভ সনদ লাগবে নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট থেকে করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে বিজনেস ও মেডিকেল ভিসায় দেশি-বিদেশি যাত্রীদের ভারত ভ্রমণের সুযোগ হয়। আজ থেকে এসব যাত্রীদের ভারত হতে ফিরতেও লাগছে করোনা নেগেটিভ সনদ।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ পরিদর্শক মহাসিন উদ্দীন জানান, দেশে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে এর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার সময় দেশি-বিদেশি সকলের করোনা নেগেটিভ সনদ লাগছিল। এখন দ্বিতীয় ধাপে করোনা সংক্রমণ রোধে ভারত থেকে ফেরার সময়ও ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা করানো নেগেটিভ এ সনদ লাগবে। আজকে যেহেতু এ নিয়ম কার্যকর হয়েছে তাই অনেকে জানতে না পেরে সনদ সংগ্রহ করতে পারে নাই। বিষয়টি উপর মহলের সাথে কথা বলে মানবিক কারনে যাত্রীদের বাংলাদেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে আগামীকাল থেকে সনদ ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবেনা।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার বিচিত্র মল্লিক জানান, পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আজ থেকে ভারত ফেরত দেশি, বিদেশি সব যাত্রীদের বাংলাদেশে আসতে হলে করোনা নেগেটিভ সনদ প্রয়োজন হচ্ছে। যারা এ খবর জানতেন না তারা আটকা পড়েন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে তারা অনুমতি দিলে যাত্রীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে মানবিক কারণে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল কাল থেকে কড়াকড়িভাবে এ নিয়ম কার্যকর হবে।

জানা যায়, বেনাপোল থেকে ভারতের প্রধান বাণিজ্যিক শহর কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে এ পথে চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণে পাসপোর্টধারী যাত্রীরা বেশি যাতায়াত করে থাকেন। প্রতিবছর এ পথে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ দেশি-বিদেশি যাত্রী যাতায়াত করে । এদের কাছ থেকে ভ্রমণকর বাবদ সরকারের রাজস্ব আসে প্রায় ১০০ কোটির কাছাকাছি।

চীনে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশ ভারতে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিরোধ হিসাবে দুই দেশের সরকার নানান ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর মধ্যে গত ১৩ মার্চ ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় যাতায়াত বন্ধ হয় বাংলাদেশিদের। বাংলাদেশেও আটকে পড়েন ভারতীয়রা। এতে বিশেষ করে গুরুতর রোগীরা চিকিৎসার জন্য যেতে না পেরে বেকায়দায় পড়েন। যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের লোকসানে ছিলেন। পরবর্তীতে ১৭ আগস্ট থেকে প্রথমে বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরার সুযোগ হয়। পরে বাংলাদেশিদের মেডিকেল আর বিজনেস ভিসায় যাতায়াতে সুযোগ দেয় ভারত সরকার।।