৩০ নভেম্বরের মধ্যে ফয়জুল-মামুনুলকে গ্রেফতারের দাবি



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রতিবাদ সমাবেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের

প্রতিবাদ সমাবেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেফতার না করলে আগামী ১ ডিসেম্বর সমগ্র দেশে একযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

শনিবার (২৮ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে শাহবাগ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল শেষে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুনের সঞ্চালনায় উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ভাস্কর শিল্পী রাশা, গৌরব ৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফএম শাহীন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্যসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

প্রতিবাদ সমাবেশে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, মহানবী (সা.) এর অবমাননা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ বিরোধিতাকারী মামুনুল-ফয়জুল গংদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এরা ইসলামের শত্রু, মানবতার শত্রু। যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙতে আসবে, আমরা তাদের হাত ভেঙে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিবো। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তিকে কঠোর হস্তে দমন করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

ভাস্কর শিল্পী রাশা বলেন, সৌদিআরব, ইরান, ইরাক, তুরস্কসহ বিশ্বের সকল মুসলিম দেশে ভাস্কর্য রয়েছে। মৌলবাদীরা ভাস্কর্য ও মূর্তির পার্থক্য নিয়ে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে। ইসলামের দৃষ্টিতে ভাস্কর্য বৈধ। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতাকারীদের মূল উদ্দেশ্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সরকার পতনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। সময় এসেছে এদের লাগাম টেনে ধরার।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন বলেন, সম্প্রতি একটি ইসলামী ধর্মসভায় হেফাজত ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক কর্তৃক মহানবীকে (সা.) প্রকাশ্য দিবালোকে অবমাননা করা হয়েছে। মহানবী ((সা.) কিভাবে ঠোঁট নাড়াতেন এটা তিনি দেখেছেন এবং হুবহু বলে দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন। ইসলামের দৃষ্টিতে মহানবী (সা:) এর কোনো অবয়ব দেখানো সম্পূর্ণ হারাম। ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হক প্রকাশ্য দিবালোকে মহানবী (সা.) এর অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে নবীজীকে অবমাননা করেছেন। নবীজীকে অবমাননা করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নবীজীর অবমাননাকারী মামুনুল হক ও ফয়জুল করীমকে গ্রেফতার না করলে আগামী ১ ডিসেম্বর সমগ্র দেশে একযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। প্রত্যেকটি মুসলমানের উচিত নবীজীর অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার পাশাপাশি ধর্ম ব্যবসায়ী, ইসলামের শত্রু মামুনুল হককে বয়কট করা। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অপরাধে মামুনুল হককে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।

এছাড়াও কিছুদিন আগে মৌলবাদী অপশক্তি মামুনুল হক ও ফয়জুল করিম কর্তৃক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। দেশের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী এহেন বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। জাতির পিতার ভাস্কর্য অপসারণের দাবি যারা তুলেছে, সেই মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ না নিলে আমরা দেশ ও জাতির ‘সমূহ বিপর্যয়ের’ আশঙ্কা প্রকাশ করছি।

আল মামুন আরও বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনে বাধা প্রদান এবং স্থাপিত ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়েছে চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। গত ১৩ নভেম্বর করোনাকালীন যাবতীয় বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে তারা যেভাবে গেণ্ডারিয়ার ধূপখোলার মাঠে সমাবেশ করেছে এবং যে ভাষায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি বিষোদগার করেছে, তা রাষ্ট্রদ্রোহিতাতূল্য অপরাধ হলেও এখন পর্যন্ত এদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সাত দফা দাবি জানায়। এর মধ্যে রয়েছে- মহানবীকে (সা.) অবমাননা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরােধিতা করার অপরাধে ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হক ও ফয়জুল করিমকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জেলা, উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশে অবিলম্বে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে এবং পবিত্র মসজিদ-মাদ্রাসাগুলােতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বন্ধ করতে হবে। বিভিন্ন ধর্মীয় সভা ও সামাজিক যােগাযােগমাধ্যমে ধর্মীয় উসকানিমূলক গুজব ছড়ানাে ও অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ধর্ষণের মতো বলাৎকারের অপরাধে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নিপীড়ন বন্ধে মনিটরিং সেল গঠন করে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সব মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় সংগীত বাজানাে, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানাে বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রয়ােজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।