অসময়ে গড়াই নদীতে ভাঙন, নদীগর্ভে বেড়িবাঁধ-পাকা স্থাপনা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজবাড়ী
অসময়ে গড়াই নদীতে ভাঙন। ছবি: বার্তা২৪.কম

অসময়ে গড়াই নদীতে ভাঙন। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত গড়াই নদীতে দেখা দিয়েছে অসময়ে ভাঙন। অসময়ে গড়াই নদীর ভাঙনে এরই মধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে বেড়িবাঁধ, বসতভিটা, কৃষি জমি ও পাকা স্থাপনা।

প্রতিবছর পানি বৃদ্ধি ও কমার সাথে সাথে নদী ভাঙন দেখা দিলেও এবছরের চিত্র পুরোটাই ভিন্ন। শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। ভাঙনে নদী পাড়ের মানুষ তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় ভেঙে গেছে জঙ্গল ইউনিয়নের সমাধিনগর-নারুয়ার বেড়িবাঁধ।

বসতভিটা ও কৃষি আবাদী জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ছবি: বার্তা২৪.কম

গত এক সপ্তাহের ভাঙনে বেড়িবাঁধ, কয়েক শ বাড়িঘর, রাস্তা, গাছপালা ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। উপজেলার সবচেয়ে বেশি ভাঙনের কবলে পড়েছে জঙ্গল ইউনিয়নের সমাধিনগর, আগ-পটোরা, পুষ-আমলা গ্রাম সহ নারুয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা।

সরেজমিন দেখা যায়, গড়াই নদীর ভাঙনে সমাধিনগর-নারুয়া বেড়িবাঁধের ২০০ মিটার অংশ ভেঙে গিয়েছে। এতে করে মাঝারি ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিকল্প সড়ক দিয়ে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও অটোভ্যান ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

অপরদিকে জঙ্গল ইউনিয়নের পুষআমলা গ্রামের বেশ কিছু বসতভিটা ও কৃষি আবাদী জমি কয়েকদিন আগে নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছে। অনেকে নিজেদের রক্ষার জন্য ঘর-বাড়ী ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে।

প্রতি বছর গড়াই নদীর পাড় ভাঙছে। ছবি: বার্তা২৪.কম

এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছর গড়াই নদীর পাড় ভাঙে। সরকার ভাঙন রোধে স্থায়ী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না। ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড নামমাত্র কিছু জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রক্ষার চেষ্টা করে। তাদের অভিযোগ এতে করে সরকারের লাখ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। যা লোপাট করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নদী ভাঙন কবলিত বাসিন্দা কালিপদ বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, কয়েক বছর ধরে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। বর্তমানে নদী পাড়ের শত শত স্থানে বড় আকারের ফাটল দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে গড়াই নদীর আধা কিলোমিটার অংশ ভেঙে গিয়েছে। এখন আর আমার বসতবাড়ীতে থাকা সম্ভব নয়। ভাঙন পাড়ে বাসিন্দাদের জন্য নতুন করে গৃহনির্মাণের দাবি করেন তিনি।

পাকা স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ছবি: বার্তা২৪.কম

বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে জঙ্গল এবং নারুয়া ও জঙ্গল ইউনিয়নের শত শত ঘরবাড়ী নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। বালুর বস্তার পরিবর্তে তাদের অর্থিক সহায়তা প্রদান করে অন্য স্থানে ঘর নির্মাণ করলে সরকারের অর্থ খরচ কম হবে এবং নদী পাড়ের মানুষগুলোও উপকৃত হবে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল আহাদ বলেন, গড়াই নদীর ভাঙন কবলিত সম্পূর্ণ অংশ মেরামত করা সম্ভব নয়। বর্তমান ভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। গুরুত্বপূূর্ণ ভাঙন কবলিত স্থান মেরামতসহ ভাঙনরোধে এক কোটি সতের লাখ টাকার চাহিদা দেওয়া হয়েছে। সেটি অনুমোদন হলে ভাঙনরোধে কাজ শুরু হবে।