শান্তির পথে পার্বত্য চট্টগ্রাম



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
শান্তির পথে পার্বত্য চট্টগ্রাম।

শান্তির পথে পার্বত্য চট্টগ্রাম।

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে মাত্র সাতটি বৈঠকের মাধ্যমে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি করা সম্ভব হয়েছে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, তা পার্বত্যাঞ্চলে শান্তির আবহ তৈরি করেছে। সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছে শান্তির পরিবেশ।

শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে বিগত ২৩ বছরে বেশ কিছু পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হয়েছে। তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং নিয়ন্ত্রণাধীন ৩৩টি দফতর-সংস্থার মধ্যে রাঙামাটিতে ৩০টি, খাগড়াছড়িতে ৩০টি এবং বান্দরবানে ২৮টি হস্তান্তর করা হয়েছে। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে গঠন করা হয়েছে ভূমি কমিশন। প্রত্যাগত ১২ হাজার ২২৩টি উপজাতি শরণার্থী পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

সংসদ উপনেতার নেতৃত্বে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিল-২০১০ জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। ক্ষুদ্র তিন পার্বত্য জেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিভিন্ন দফতরে চাকরির ক্ষেত্রে নৃগোষ্ঠীর লোকদের নির্ধারিত কোটা অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৃগোষ্ঠীর জন্য কোটা সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিষদ আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালে জারিকৃত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড অধ্যাদেশ বাতিল করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন ২০১৪ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে।

ভূমিবিষয়ক আইন ও বিধিমালা ছিল না। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি আইন ২০০১ প্রণয়ন এবং ২০১৬ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্থ-সামাজিকভাবেও উন্নয়ন হয়েছে। অনেক উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন বাজেট ছিল ৫০.৫৭ কোটি টাকা, আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বরাদ্দ হয়েছে ৯১৫.৮৩ কোটি টাকা। তিন পার্বত্য জেলায় দুই হাজার ৮৯৯ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। দুর্গম হওয়ার কারণে যেখানে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব নয়, এ রকম পাঁচ হাজার ৫০০টি পরিবারকে সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

শান্তিচুক্তির আগে পার্বত্য অঞ্চলে মাত্র ২০০ কিলোমিটার রাস্তা ছিল। রুমা ও থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদীর ওপর কোনো সেতু ছিল না। এখন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাস্তা ও বিভিন্ন আকারের সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। শান্তিচুক্তির পর এক হাজার ৫৩২ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ১০৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে এবং প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে।

শান্তিচুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রামে টেলিযোগাযোগ, মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের আওতা বৃদ্ধি এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করা হয়েছে, যা শান্তিচুক্তির আগে ছিল না বললেই চলে। চুক্তির আলোকে পার্বত্য জেলায় কৃষি, স্বাস্থ্য, নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির পাশাপাশি বেশ কিছু এলাকা পর্যটন উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধীভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি চালু রয়েছে। ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের আওতায় দারিদ্র্য বিমোচন তথা জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েক শ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

সংঘাত থেকে শান্তির পথে পার্বত্য চট্টগ্রামের অগ্রযাত্রা কণ্টকমুক্ত নয়। শান্তি বিরোধী নানা গোপন তৎপরতা হিংসা ও সন্ত্রাস বাড়াচ্ছে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘শান্তি চুক্তি’ ও ‘স্থায়ী শান্তি’ প্রসঙ্গ দুটি আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা প্রতিনিয়ত চর্চা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হয়। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিকে এ লক্ষ্যে অব্যাহতভাবে কাজ করতে হয়। ‘শান্তির পক্ষে’ ও ‘শান্তির জন্য’ সহায়ক পরিবেশ ও পরিকাঠামো গঠন এবং নাগরিক সমাজে আস্থা, বিশ্বাস, সৌহার্দ্য, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সমঝোতা বজায়ের মাধ্যমে তরান্বিত করতে হয় শান্তির গতিবেগ।

‘চুক্তি’ স্থায়ী শান্তি পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর গুরুত্ব অপরিসীম। পাশাপাশি সময়ের পরিবর্তনে ক্রমে ক্রমে তৈরি হওয়া শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী ইস্যুগুলোর প্রতিও নজর দেওয়া অপরিহার্য। এজন্য সরকার ও জনসংহতি সমিতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে শান্তি, নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ হানিকর প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সতর্ক, সজাগ থেকে নিরাপত্তা ও শান্তির পক্ষে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি সকলেরই প্রত্যাশা। অশান্তির আগুন সকলের জন্যই বিপজ্জনক এবং অশান্তির কুফল ভয়াবহ ও ক্ষতিকর। অতীতে দেশে-বিদেশে অশান্তির ভয়াবহ পরিণাম দেখা গেছে। ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সার্বক্ষণিক ভাবে একযোগে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। অশান্তি নয়, সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তিতে স্থায়ী শান্তির পথে অগ্রসর হওয়াই কল্যাণকর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সম্পন্ন শান্তিচুক্তির পটভূমিতে শান্তি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা সূচিত হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় শান্তি ও উন্নয়নের জনপদে পরিণত হবে পার্বত্য চট্টগ্রাম। চুক্তির বর্ষপূর্তিতে এ আশাবাদ সকলের।

তাজিয়া মিছিলে ছুরি, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি নিষিদ্ধ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র আশুরা আজ। কারবালার শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনার স্মরণে দিনটি বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল বের হবে। এই তাজিয়া মিছিলে দা, ছুরি, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আঁতশবাজি ও পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

তাজিয়া মিছিল নির্বিঘ্নে চলা নিশ্চিত করতে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ডিএমপি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পবিত্র আশুরা উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এসব তাজিয়া মিছিলে পাইক দলভুক্ত ব্যক্তিবর্গ দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে অংশগ্রহণ করে যা ক্ষেত্র বিশেষে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। যা ধর্মপ্রাণ ও নগরবাসীর মনে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টিসহ জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি স্বরূপ।

তাছাড়া মহররম মাসে পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে আঁতশবাজি ও পটকা ফোটানো হয়। যা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আঁতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই আদেশ তাজিয়া মিছিল শুরু হতে শেষ সময় পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

;

জেনে নিন কোথায় কখন লোডশেডিং



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতির জন্য দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক আজও লোডশেডিং শুরু হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলবারের (৯ আগস্ট) তালিকা প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো।

ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো), ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউসন কোম্পানি (ওজোপাডিকো), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এর ওয়েবাসাইটের নির্দিষ্ট লিংককে গিয়ে এই তালিকা দেখতে পারবেন গ্রাহকরা।

আজকে কোন এলাকায় কখন লোডশেডিং হবে, এর সূচি দেওয়া হয়েছে। দেখে নেওয়া যাক।

https://www.desco.org.bd/bangla/loadshed_b.php

http://www.wzpdcl.org.bd/

https://nesco.portal.gov.bd/site/page/13ccd456-1e1d-4b24-828d-5811a856f107

http://reb.portal.gov.bd/site/page/c65ac273-d051-416f-9a93-5cd300079047

https://bpdb.portal.gov.bd/site/page/cafea028-95e6-4fca-8fea-e4415aef9a60

https://www.desco.org.bd/bangla/loadshed_b.php

জ্বালানি সাশ্রয়ে উচ্চ ব্যয়ের ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের পর সরবরাহ সংকটে দেশজুড়ে প্রতিদিন সূচি ধরে কোথাও এক ঘণ্টা আবার কোথাও ২ ঘণ্টা করে লোডশেডিং করা শুরু হয় মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) থেকে।

এর আগে ১৮ জুলাই লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

;

নৌযানে ভাড়া সমন্বয়ে আট প্রস্তাব ওয়ার্কিং কমিটির



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের পরিপ্রেক্ষিতে নৌযানে যাত্রী ভাড়া সমন্বয়ের লক্ষ্যে আটটি প্রস্তাব দিয়েছে ওয়ার্কিং কমিটি। কমিটি ১৯, ২২, ২৫, ৩০, ৩৫, ৪০, ৪২ অথবা ৫০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে।

সোমবার (৮ আগস্ট) রাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, দুপুরে সাত সদস্যের ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করেন নৌ পরিবহন সচিব মো. মোস্তফা কামাল।

এর আগে, নৌপরিবহন সচিব জানিয়েছিলেন, মালিকদের প্রস্তাবিত ভাড়ার হার বেশি। এজন্য কমিটি করা হয়েছে। কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য কাজ করবে ওয়ার্কিং গ্রুপ। আজ কমিটি পুনরায় বসবে। যা ১০ তারিখের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রজ্ঞাপন হওয়ার আগ পর্যন্ত আগের ভাড়াতেই লঞ্চে যাত্রী পরিবহন করবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার পক্ষ থেকে লঞ্চ ভাড়া ১০০ ভাগ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবনা নিয়ে মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক জ্বালানি তেলের (ডিজেল) মূল্য লিটার প্রতি ৩৪ টাকা বৃদ্ধি করায় এবং বিশ্ববাজারে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের খোলা বাজারে মবিলের মূল্য ৫০ শতাংশ, প্লেট, এঙ্গেল, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড ও গ্যাস সহ স্প্রে পার্সের মূল্য প্রায় ২০০ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় লঞ্চের বর্তমান যাত্রীভাড়া ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটার ২.৩০ টাকার স্থলে ২.৩০ টাকা বৃদ্ধি করে ৪.৬০ টাকা এবং ১০০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে প্রতি কিলোমিটার দূরত্বের জন্য বর্তমান ২.০০ টাকার স্থলে ২.০০ টাকা বৃদ্ধি করে ৪.০০ টাকা নির্ধারণ করা।

;

অসুবিধা না হলে আইজিপি যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন: পররাষ্ট্রসচিব



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন

পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে জাতিসংঘ। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বেনজীর আহমেদ নিউইয়র্কের এই সম্মেলনে যেতে পারবেন কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, কোনো রকম অসুবিধা না হলে আইজিপি সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন।

সোমবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঢাকা সফররত মার্কিন আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিশেল জে সিসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এ রকম জাতিসংঘের মিটিংয়ে যেতে গেলে একটি কনভেশন আছে। তবে অতীতে আমরা এ নিয়মের ব্যতিক্রমও দেখেছি। আগে থেকে বলা মুশকিল।

আইজিপি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এ বিষয়ে আমরা এখনও যোগাযোগ করিনি। তবে সামনের দিনগুলোতে যোগাযোগ করব।

গত ৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়েছে, ওই সম্মেলনে অংশ নেবেন বেনজীর আহমেদসহ ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল। আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সম্মেলন হবে। ৩০ আগস্ট তাদের ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের এই দলে আরও রয়েছেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব আবু হেনা মোস্তফা জামান, মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মু. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) নাশিয়ান ওয়াজেদ ও সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (এআইজি) মোহাম্মদ মাসুদ আলম।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) ও বর্তমান আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ৭ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র ও রাজস্ব বিভাগ।

;