মহাসড়কে ঘন কুয়াশা, যান চলাচল ব্যাহত



মাহিদুল মাহিদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
মহাসড়কে ঘন কুয়াশা, স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত

মহাসড়কে ঘন কুয়াশা, স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত

  • Font increase
  • Font Decrease

শীতের সকালে কুয়াশার ঘনঘটা। সড়ক মহাসড়ক ঢেকে গেছে ঝাপসা আবরণে। মহাসড়ক গুলোতে একটু পর পর চলছে গাড়ি। ঘন কুয়াশার কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে যানচলাচল। দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়েই গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছে সাধারণ যাত্রী ও চালকরা।

উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৩৭ টি জেলার মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করেন ঢাকা-আরিচা, নবীনগর-চন্দ্রা ও টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড মহাসড়ক দিয়ে। আর এই সড়কগুলো বিকেল থেকেই ঢাকা শুরু হয় কুয়াশায়। সকালে কুয়াশার ঘনত্ব আরও বেড়ে যায়। ফলে দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়েই চালক চালাতে থাকে গাড়ি। যাত্রীরাও আতঙ্কে ঘাপটি মেরে বসে থাকে সিটেই।

শনিবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে সাভারের ঢাকা-আরিচা, নবীনগর-চন্দ্রা ও টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, কুয়াশার চাদরে মোড়া মহাসড়কসহ পুরো এলাকা। সড়কে সামনে হালকা দেখা গেলেও আনুমানিক ১০ মিটার পরেই কুয়াশায় হারিয়ে যায় সড়ক। এতে চরম আতঙ্ক উৎকণ্ঠা নিয়ে ধীরে ধীরে গাড়ি চালাচ্ছেন চালকরা। যাত্রীরাও রয়েছেন ভয়ে।

দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়েই গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছে সাধারণ যাত্রী ও চালকরা

উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধা থেকে ছেড়ে আসা শ্যামলী পরিবহনের চালক আশরাফুল বার্তা২৪.কম'কে বলেন, গাড়ি চালাতে খুব সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। কুয়াশার কারণে খুব বেশি দূর দেখা যাচ্ছে না। কাজ হচ্ছে না ফগলাইটের আলোয়। তাই আস্তে আস্তে ১ ঘণ্টার পথ দুই ঘণ্টায় যেতে হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী যাওয়া সৌদিয়া পরিবহনের চালক হান্নানের সাথে কথা হলে তিনি বার্তা২৪.কম'কে বলেন, এবার একটু আগেভাগেই জেঁকে বসেছে শীত। কুয়াশাও রেকর্ড ভাঙতে পারে এবার। এই কুয়াশায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে যাত্রীও কমে গেছে। শীতে আমাদের মতো গাড়ি চালকের ক্ষতিই হবে বেশি। করোনার থাবার ক্ষত না শুকাতেই আবার বাগড়া দিচ্ছে শীত। এরকম কয়েক দিন থাকলে সন্তানদের একটা শীতের পোশাকও কিনে দিতে পারবো না।

কুয়াশার কারণে খুব বেশি দূর দেখা যাচ্ছে না। কাজ হচ্ছে না ফগলাইটের আলোয়

আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনের যাত্রী আয়েশা বলেন, কর্মজীবী মানুষ হিসেবে বাসায় বসে থাকার কোন সুযোগ নেই। জীবিকার তাগিদে জীবন শঙ্কা থাকলেও বেরিয়ে পড়তে হয় ঘর থেকে। সঠিক সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছতে স্বাভাবিক নিয়মের চেয়ে আগে বের হতে হয়। কুয়াশায় সড়কে গাড়ির গতি কমিয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। তাই সঠিক সময়ে পৌঁছতে বাসা থেকে ১ ঘণ্টা আগেই বের হতে হলো। জীবন ও জীবিকার তাগিদে অতিরিক্ত কুয়াশায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলছি শীতের পথ।

বগুড়া থেকে আসা শাহ-ফতেহ আলী গাড়ির যাত্রী তানিয়া বার্তা২৪.কম'কে বলেন, আমি কাল রাতে গাড়িতে উঠেছি। বগুড়া থেকে বাইপাইল আসতে স্বাভাবিক সময় লাগে ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা। আজ তো প্রায় ৭ ঘণ্টা লেগেছে। চালক অত্যন্ত দক্ষ হওয়ায় বেঁচে গেছি দুর্ঘটনা থেকে। শীত যতো দিন থাকবে আর রাতে কখনও গাড়িতে উঠবো না। খুব ভয় নিয়ে বাইপাইল পৌঁছলাম।

নিরাপদ সড়ক চাই ধামরাইয়ের সভাপতি নাহিদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, শীতে কুয়াশা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। যেহেতু কুয়ার ঘনত্ব বেশি, গাড়ির গতি কম রেখে ফগলাইট ব্যবহার করে চালকের গাড়ি চালানো উচিত। একই সাথে গাড়ি চালনায় অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এসময় চোখে ঘুম নিয়ে চালকদের গাড়ি না চালানোর অনুরোধ জানান তিনি।