অক্সফোর্ডের টিকা ভারতের সেরাম হয়ে আসবে বাংলাদেশে

  করোনা টিকা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪. ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার নতুন স্ট্রেন ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে ব্রিটেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ভাইরাসটির নতুন এই ধরণ মোকাবিলায় অনেক দেশ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে খবর এলো-অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা যুক্তরাজ্যে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে।

দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার রেগুলেটরি এজেন্সি (এমএইচআরএ) এ টিকাটি নিরাপদ ও কার্যকর হওয়ায় ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে।

এদিকে ভারতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকারের টিকা প্রকল্পের ভারতীয় অংশীদার সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি ‘কোভিশিল্ড’ টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিতে বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল বৈঠকে বসছে বুধবার (৩০ ডিসেম্বর)। সেরাম ইনস্টিটিউট চাচ্ছে, আজকের মধ্যেই ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা টিকাটির জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিক।

টিকা অনুমোদন পাওয়ার পরপরই গণহারে প্রয়োগের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ভারত সরকার। সেরাম কোভিশিল্ড টিকা সরকারের কাছে প্রতি ডোজ ২৫০ রুপিতে বিক্রি করবে।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা ভারতে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেলে তা বাংলাদেশের মানুষও পাবে। ইতিমধ্যে দুটি দেশের বাজারে একই সময়ে টিকা দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। গত ৫ নভেম্বর ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত করোনার টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সেরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে বলা আছে, তারা ভারত ও বাংলাদেশের বাজারে একই সময়ে টিকা দেবে। সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত টিকা ভারতে জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেলে তখন তা বাংলাদেশেও আসবে। চুক্তি অনুসারে সেরাম ইনস্টিটিউটের কারখানায় তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ টিকা পাবে বাংলাদেশ। এই টিকা দেড় কোটি মানুষকে দেওয়া সম্ভব হবে।

এছাড়া সরকারের মন্ত্রী সচিব থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বারবার জানুয়ারিতে টিকা আসবে বলে জানিয়ে আসছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন ৫০ লাখ করে ৬ মাসে তিন কোটি ডোজ টিকা আসবে।

ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টিকা সংগ্রহ ও ক্রয়, টিকা পরিবহন-সংরক্ষণ-বিতরণ বিষয়ে একটি জাতীয় পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, মহামারির সময় রোগ শনাক্তের কিটের ব্যবহারসহ অনেক কিছুতে জরুরি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কোনো দক্ষ ও যোগ্য প্রতিষ্ঠান কোনো টিকার অনুমোদন দিলে এই সময়ে বাংলাদেশে তা ব্যবহারে বাধা থাকার কথা নয়।

চুক্তির আওতায় প্রথম ধাপে পাওয়া তিন কোটি ডোজ টিকা কিনে জনগণের মাঝে বিনামূল্যে দেবে বাংলাদেশ। এই টিকা কিনতে মোট প্রস্তাবিত খরচের অর্ধেক টাকা ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে, টিকা পরিবহন ব্যয়সহ প্রতি ডোজের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫ মার্কিন ডলার। টিকার আনুষঙ্গিক উপকরণের জন্য ব্যয় ১ দশমিক ২৫ ডলার ধার্য করা হয়। এতে প্রতি ডোজ টিকা বাবদ মোট খরচ দাঁড়ায় ৬ ডলার ২৫ সেন্ট। প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নেয়া তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের মোট মূল্য দাঁড়ায় এক হাজার ৫৮৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৭৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

বিশ্বের মধ্যে রাশিয়া প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে নিজেদের তৈরি টিকা ব্যবহার শুরু করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেকের টিকার অনুমোদন দেয় যুক্তরাজ্য। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য এই টিকা ব্যবহার শুরু করেছে। ফাইজারের টিকা যুক্তরাষ্ট্রেও জরুরি ব্যবহারে অনুমোদন দিয়েছে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। যুক্তরাষ্ট্রেও ব্যবহারও শুরু হয়েছে। এছাড়া কানাডা, বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশে ফাইজারের টিকা অনুমোদন ও ব্যবহার শুরু হয়েছে।

  করোনা টিকা