বিকৃত যৌনাচারের কারণে রক্তক্ষরণে মারা গেছে স্কুলছাত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর কলাবাগানের মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ছাত্রী বিকৃত যৌনাচারের শিকার হয়েছে এবং তার যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ফরেনসিক চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ। তবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

শুক্রবার (০৮ জানুয়ারি) ওই স্কুলছাত্রীর ময়নাতদন্ত শেষে এ কথা জানান সোহেল মাহমুদ।

তিনি জানান, যোনি ও পায়ুপথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে ফলে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছে কি না, তার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে কেমিক্যাল পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। এসব রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবে। রিপোর্টের জন্য সপ্তাহ দুয়েক অপেক্ষা করতে হবে।

এর আগে বয়স নির্ধারণের জন্য মরদেহের প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যান বলে জানান চিকিৎসক এই চিকিৎসক।

বৃহস্পতিবার (০৭ জানুয়ারি)  সকালে গ্রুপ স্টাডির কথা বলে বাসা থেকে বের হয় রাজধানীর ধানমণ্ডির মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের ওই শিক্ষার্থী।  চিকিৎসকরা জানান, বন্ধুর বাসায় গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে রাজধানীতে গ্রুপ স্টাডির কথা বলে ডেকে নিয়ে 'ও' লেভেলের ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ধর্ষণের পর হত্যা: দিহানের ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

মামলার প্রধান অভিযুক্ত তানভীর ইফতেফার দিহানকে একমাত্র আসামি করে মেয়েটির বাবা ধর্ষণ ও হত্যার মামলা দায়ের করেন রাজধানীর কলাবাগান থানায়।

মামলার এজহারে মৃত ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় আমার স্ত্রী অফিসের জন্য এবং আমি সকাল সাড়ে ৯ টায় ব্যবসায়ীক কাজে বের হয়ে যাই। পরে আনুশকা সকাল সাড়ে ১১ টায় আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে সে কোচিং এর পেপার্স আনতে বাহিরে যাচ্ছে। এই কথা বলে সে সকাল ১১ টা ৪৫ মিনিটে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

তিনি বলেন, বেলা ১টা ১৮ মিনিটে ইফতেখার ফারদিন দিহান আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে আনুশকা তার বাসায় গিয়েছিল, আনুশকা সেখানে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে রাজধানীর আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের জরুরি বিভাগে ভর্তি করিয়েছে। এ কথা শুনে আমার স্ত্রী বেলা ১টা ৫২ মিনিটের দিকে হাসপালে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে আমার স্ত্রী কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে জানতে পারে আনুশকাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

তিনি এজাহারে আরও অভিযোগ করেন, আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পারি দিহান আমার মেয়েকে প্রেমের প্রলুব্ধে ধর্ষণের উদ্দ্যেশ্যে তার বাসায় বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে দিহান ফাঁকা বাসায় আমার মেয়েকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় অমানবিক কার্যকলাপ করায় আনুশকার গোপনাঙ্গ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে অচেতন হয়ে যায়। পরে ধর্ষণের ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে দিহান চালাকি করে আমার মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার মেয়ে মৃত ঘোষণা করেন।