চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাঁধ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাঁধ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাঁধ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

  • Font increase
  • Font Decrease

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গোমস্তাপুরে বাঁধ সংস্কারে লাখ লাখ টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সংস্কারের নামে বাঁধের ওপর ও পাশের জমি থেকে গাছপালা ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে এলাকাবাসী ও বন বিভাগের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায়ও গোমস্তাপুর উপজেলার আলীনগর- বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের পাবদামারী চুড়ইল বিলের প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করার প্রয়োজন পরে। এ জন্য বাজেট নির্ধারণ করা হয় ৭৯ লাখ ২৭ হাজার ৫৮৮ টাকা। মোট ১৬টি গ্রুপে ভাগ করে সাড়ে ৩ মাসে ৩০ শতাংশ জনবল ও ৭০ শতাংশ মেশিন দিয়ে সংস্কার করার কথা।

অভিযোগ আছে, শর্তানুযায়ী আড়াই মিটার দূর থেকে মাটি নিয়ে বাঁধ সংস্কার করার কথা থাকলেও সেটা না করে মেশিন দিয়ে বাঁধের পাশের জমি মাটি কাটা হয়েছে। ফলে সেখানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জমিগুলো চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ৩০ শতাংশ জনবল দিয়ে কাজ করানোর কথা থাকলেও সেটা না করে মেশিন দিয়ে কাজ করে মজুরি বাবদ লাখ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প এলাকার দু’পাশে প্রকল্প চিহ্নিতকরণ তথ্যবোর্ড দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। বাঁধের ওপর বন বিভাগের ও বাঁধের পাশের জমির মালিকদের রোপন করা গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য কয়েক লাখ টাকা।

সংস্কারের নামে বাঁধের ওপর ও পাশের জমি থেকে গাছপালা ধ্বংস করা হয়েছে

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দুরুল হোদা সেন্টু জানান, বাঁধের পাশে অবস্থিত তার আমবাগান থেকে জোর করে মাটি কেটে বাঁধের উপর ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ও বাঁধ কমিটিকে অবহিত করা হলেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

আরেক কৃষক দুরুল হক জানান, তাকে না জানিয়েই তার জমি থেকে মাটি নেওয়া হয়েছে। ফলে তার জমি চাষবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও বাঁধ সংলগ্ন জমির মালিক রুহুল আমিন সিহাব জানান, তাকেও না জানিয়ে গাছ কাটা হয়েছে এবং মাটি উঠানো হয়েছে। ফলে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এ  বিষয়ে উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা সারওয়ার জাহান বলেন, ‘বাঁধের দু’পাশে বন বিভাগের রোপন করা ৮৯টি গাছ অবৈধভাবে কেটে নিয়েছে বাঁধ কমিটি। গাছগুলো ২০০১ সালে রোপণ করা হয়। ঘটনা জানার পর গোমস্তাপুর থানা পুলিশের সহায়তায় কিছু গাছ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গোমস্তাপুর থানায় একটি মামলা করা হয়।’

এ প্রসঙ্গে পাবদামারি চুড়ইল বিল বাঁধ কমিটির সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘নিয়ম মেনেই বাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। তাছাড়া বাঁধের পাশের জমির মালিকদের অবহিত করে গাছ কাটা হয়েছে এবং মাটি নেওয়া হয়েছে। জমির মালিকরা যে অভিযোগ করছেন তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সুলতানুল ইমাম বলেন, ‘বাঁধ সংস্কারের স্বার্থেই পাশের গাছগুলো কাটা হয়েছে। তবে সংস্কারে যদি কোনও অনিয়ম হয় তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’