চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে করোনা টিকা পেতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

  করোনা টিকা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

**আসছে কোভ্যাক্সের দেওয়া ফাইজারের টিকা

**২৫ জানুয়ারির মধ্যেই আসবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকা


ভারতের টিকা রফতানি নিয়ে টালাবাহানা। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসা নিয়ে ধোঁয়াশা। এসব কিছু মিলে করোনাভাইরাসের টিকা আনতে বিকল্প পথ খুঁজছে বাংলাদেশ। টিকা পাওয়াকে অনেকটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে সরকার। সরকারের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে করোনার টিকা বিষয়ে বেশ তৎপর দেখা গেছে।

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও জার্মান প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেকের করোনা টিকা নেওয়ার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বৈশ্বিক জোট জিএভিআ ‘র কোভ্যাক্স প্রকল্প বাংলাদেশের ৪ লাখ মানুষের জন্য ফাইজারের টিকা দিতে চেয়েছে। কোল্ড চেইন ও সিরিঞ্জ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এই টিকা গ্রহণে ইচ্ছুক সরকার।

ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিনামূল্যে ফাইজারের টিকা দিতে গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশসহ ১৯২ টি দেশকে চিঠি দিয়েছে কোভ্যাক্স। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শিগগিরই কোভ্যাক্সকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে।

ফাইজারের টিকা সরবরাহ ও প্রদানে বেশ জটিলতা রয়েছে। কারণ এই টিকা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে হবে। এছাড়াও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডোজ সংরক্ষণে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় সিস্টেমের ঘাটতি রয়েছে। তবে সব চ্যালেঞ্জ পার করে সরকার চাচ্ছে এই টিকা নিতে।

ফাইজারের টিকা নেওয়ার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, কোভ্যাক্সের দেওয়া এই সুযোগ আমরা কোনভাবেই হাতছাড়া করতে চাই না। ফাইজারের টিকা সরবরাহ, বিতরণ ও সংরক্ষণে আমরা পরিকল্পনা করছি।

সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) এক কর্মকর্তা জানান, ফাইজারের টিকা সংরক্ষণে সরকার কোল্ড চেইনের সরঞ্জামের বিষয়ে মূল্যায়ন করছে। দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডিপফ্রিজ যেগুলো আছে, সেগুলোকে জীবাণুমুক্ত করে টিকা রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এটার জন্য যে কোল্ডচেইন দরকার, সেটা আইইডিসিআরসহ সরকারি কয়েকটি ল্যাবরেটরিতে আছে। তবে টিকা রাখার আগে ল্যাবরেটরির ফ্রিজগুলোকে ভাইরাসমুক্ত করতে হবে।

সরকার চাইলে ফাইজারের টিকা দেশে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটি পক্ষে জানানো হয়, ফাইজারের টিকা রাখার তেমন ব্যবস্থা দেশে নেই। পরিমাণ বুঝে রাখার ব্যবস্থা করা যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, কোভ্যাক্স বিনামূল্যে এই টিকা দিচ্ছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে এ টিকা আসতে পারে। কোভ্যাক্স চিঠিতে বলেছে, অবশ্যই প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের এই টিকা দিতে হবে। সংরক্ষণের জটিলতার কারণে শুধুমাত্র রাজধানীতেই এই টিকা দেওয়া হতে পারে।  

এদিকে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে অনিশ্চিয়তার মধ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিডেট। কোম্পানিটি জানিয়ে দিয়েছে ২১ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকার প্রথম চালান আসবে। বেক্সিমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ আসবে। এরপর প্রতিমাসে ৫০ লাখ করে টিকার ডোজ আসবে।  

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, টিকাদান কর্মসূচিকে ঘিরে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। দেশে টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে টিকাদান কার্যক্রম। টিকা পেতে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। এছাড়া ঠিকানা ও মেবাইল নম্বর লাগবে। আর এই অ্যাপ তৈরিতে ব্যয় হবে ৯০ কোটি টাকা।  টিকা প্রয়োগ কর্মসূচির ১৫ থেকে ২০ দিন আগে অ্যাপে নিবন্ধনের বিষয়ে জানিয়ে দেওযা হবে।

টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে করোনা টিকা বিতরণ কোর কমিটির প্রধান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, অ্যাপে নিবন্ধনের বিষয়ে আগে থেকে প্রচার চালানো হবে। এছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে তথ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে, চাইলে সেখান থেকে সহযোগিতা নিতে পারবেন।

  করোনা টিকা