কুয়াশায় বাসের সিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তিতে ভারতগামী যাত্রীরা



আজিজুল হক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বেনাপোল (যশোর)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঘন কুয়াশায় মাঝ নদীতে ফেরি আটকে যানবাহন চলাচলা ব্যহত হওয়ায় পরিবহন সিডিউলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফলে গত কয়েকদিন ধরে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতগামী যাত্রীদের। ভারত ফেরত যাত্রীরাও একই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সাধারণত ঢাকা থেকে সন্ধ্যা বা রাতে রওনা হওয়া বাস বেনাপোল পৌঁছানোর কথা পরদিন ভোরে। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় সেই বাস পৌঁছাচ্ছে পরের দিন বিকাল বা সন্ধ্যায়। ফলে যাত্রীরা সময় মতো ভারতে প্রবেশ করতে পারছেন না। এতে তারা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ভারতগামী যাত্রী সাবিনা জানান, ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার আট ঘণ্টার মধ্যে বেনাপোল পৌঁছানোর কথা থাকলেও সেই বাস পৌঁছাতে সময় লাগছে ২০ ঘণ্টা। ফলে দিনভর খাওয়া, ঘুম, গোছল কিছুই ঠিকমতো হচ্ছে না। দীর্ঘ সময় বাচ্চাদের নিয়ে গাড়ির মধ্যেই থাকতে হচ্ছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

ভারত ফেরত যাত্রী শাহিন রহমান জানান, ব্যবসার কাজে ভারতে গিয়েছিলেন। ঢাকায় ফিরতে এখন বেনাপোলে এসে কোনও বাস পাচ্ছেন না। কাউন্টারগুলো বলছে কুয়াশায় ফেরিঘাটে আটকে আছে বাস। জরুরী প্রয়োজনে এখান থেকে দ্রুত যাওয়ার বিকল্প কোনও ব্যবস্থাও নেই।

ভারতগামী যাত্রী বাবলু ঘোষ জানান, চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে যেতে চাচ্ছেন। ডাক্তারের সিরিয়ালও দেওয়া হয়েছিল। ভোর ৬টার মধ্যে তাদের বাস বেনাপোল বন্দরে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু ঠিক সময়ে বাস না পৌঁছানোয় সিরিয়াল বাতিল করতে হয়েছ। আবার তিনদিন পর সিরিয়াল পাওয়া যাবে।

সিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তিতে যাত্রীরা
সিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তিতে যাত্রীরা

বেনাপোলে সোহাগ পরিবহনের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম জানান, কুয়াশার কারণে ফেরিঘাটে বাস আটকে থাকছে। সকাল ১০টার পর ফেরি ছাড়ছে। এরপর রাস্তায় যানজট। গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগছে। এতে চাল-যাত্রী সবার দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মানবাধিকারকর্মী মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল জানান, হরতাল-অবরোধ বা কুয়াশার কারণে পাসপোর্টধারী যাত্রীরা গন্তব্যে যেতে পারেন না। কিন্তু বেনাপোল বন্দর এলাকায় যাত্রীদের রাতযাপন বা বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত আবাসিক হোটেল না থাকায় তাদের কষ্ট ভোগ করতে হয়। যাত্রীদের কাছ থেকে বন্দর সেবার নামে ট্রাক্স আদায় করা হলেও তাদের পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া হয় না। ফলে যাত্রীদের রাস্তায় বসে সময় পার করতে হয়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব জানান, অফিস নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৬টায় বেনাপোল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শুরু ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেষ হয়। তবে করোনার কারণে ৭২ ঘণ্টা আগের নেগেটিভ রিপো্ট প্রয়োজন হচ্ছে। বর্তমানে মেডিকেল ও বিজনেজ ভিসায় যাত্রী যাতায়াত বেশি। ট্যুরিস্ট ভিসা এখন পর্যন্ত যাতায়াত বন্ধ রয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) আতিকুল ইসলাম জানান, সারাদিন যত যাত্রী যাতায়াত করেন তার ৬০ শতাংশ যাত্রী সকাল ১০টার মধ্যে ভারতে প্রবেশ করেন। তবে কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যহত হওয়ায় যাত্রীরা সময় মত বেনাপোলে পৌঁছাতে পারছে না। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত মাত্র ৭৫ জন যাত্রী ভারতে প্রবেশ করেছেন।

জানা যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণে প্রতিবছর ১৫-১৭ লাখ যাত্রী ভারতে যান । ভ্রমণ খাত থেকে সরকারের প্রায় একশ কোটি টাকার মতো রাজস্ব আসে। ২০২০ সালে বেনাপোল দিয়ে তিন লাখ চার হাজার ৫০০ জন দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে প্রবেশ করেছেন। ফলে ভ্রমণ বাবদ রাজস্ব আয় হয়েছে ১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। এর আগে ২০১৯ সালে এ পথে ভারতে ভ্রমণে যান ১২ লাখ ৫৫ লাখ ৯০০ জন যাত্রী। ওই সময়ে ৬৮ কোটি ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়।