‘জীবনেও ভাবি নাই পাকা ঘরে ঘুমাবো’



সাহিদুর রহমান, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, জামালপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

`গোটা জীবনটা ভাঙা ছাপড়া ঘরেই কাটিয়েছি, নুন আনতে পানতা ফুরায়। কিসের জন্য স্বপ্ন দেখবো পাকা ঘরের জন্য। কিন্তু শেষ বয়সোত (বয়সে) আসি প্রধানমন্ত্রী আমাইকে পাকা ঘরের ব্যবস্থা করে দিছে। আমি কখনও ভাবি নাই পাকা ঘরে ঘুমাবো। এহন আমি পাকা ঘরে শুইতে পারছি।’

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে সেমি পাকা বাড়ি পেয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ফুলবানু বেওয়া (৬৫)। তিনি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সিরাজাবাদ এলাকায় ভূমিহীন বাসিন্দা ছিলেন। শুধু ফুলবানু বেওয়াই নন এই উপজেলায় দুহুনি বেওয়া, আসমত আলী, সৈয়দ আলীও একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তারা জানান, বসতভিটা-জমি গাংগে (নদীতে) চলে গেছে। তাই অন্যজনের জমিতে কোনও রকম ছাপড়া ঘর তুলে থাকতেন। স্বপ্নেও ভাবেননি নিজের জমি ও পাকা ঘরে ঘুমাতে পারবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে পূরণ হয়েছে। এ জন্য তারা শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার সুস্থতা কামনা করেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় জামালপুর জেলার ৭ উপজেলায় সরকারি খাস জমিতে ‘ক’ শ্রেণির ১৪৭৮টি ভূমিহীন পরিবারের বসবাসের জন্য তৈরি করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সেমি পাকা বাড়ি।

জেলা ও উপজেলায় খাস জমি খুজেঁ ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ২ শতাংশ জমি দিয়ে এসব ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। রান্নাঘর সংযুক্ত টয়লেটসহ অন্যান্য সুবিধা থাকছে এসব বাড়িতে। দুই কক্ষের প্রতিটি আধাপাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। গৃহ নির্মাণের সরাসরি কাজের তদারকি করছেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য জেলায় মোট এক হাজার ৪৭৮টি ঘরের মধ্যে এক হাজার ২২০টি ঘর নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।’

ইতোমধ্যে এক হাজার ৪৭৮টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে দুই শতাংশ করে খাসজমি বন্দোবস্ত করা হয়েছে, কবুলিয়ত দলিল সম্পাদন এবং খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সারাদেশে একযোগে ঘর প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরপরই এ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে জমি ও ঘরের দলিলপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হবে প্রতিটি পরিবারের হাতে।