পৌর নির্বাচন: ত্রিশালে বিদ্রোহী প্রার্থীতেই নৌকা ডুবির আশঙ্কা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌর এলাকায় জামায়াত-বিএনপি’র ভোট বেশি বলে মনে করেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। তাদের মতে, ২৭ হাজার ভোটারের মধ্যে ১৪-১৫ হাজার ভোটার এন্টি আওয়ামী লীগ মনোভাবাপন্ন। কিন্তু গত চার পৌর নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা সুবিধা করতে পারেনি। বর্তমানে সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীই নির্বাচিত হন।

কিন্তু এবার ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। তারা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবিএম আনিছুজ্জামান শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকলে নৌকার প্রার্থীর ভরাডুবি হবে এবং বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেন।

এ বিষয়ে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চানু বলেন, ‘বর্তমান মেয়র তো বিদ্রোহী প্রার্থী না, তিনি স্বতন্ত্র। সাধারণ মানুষকে নিয়ে তার একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। তবে গত বুধবার অনুষ্ঠিত দলের বৈঠকে তাকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে।’

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, ‘বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে অনেক ভোট নিজের ঝুলিতে তোলেন। এখনও আমরা নির্বাচনি কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করিনি। তবে আশা করছি এবার ভোট ধানের শীষেই বেশ পড়বে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামীম মন্ডল ভোটের মাঠে অপরিচিত মুখ। গত পৌর নির্বাচনে আমিন সরকার শক্তভাবে নাড়া দিলেও এবার দলীর শীর্ষ নেতারা মনোনয়নের জন্য সুপারিশই করেননি। এমনকি বর্তমান প্রার্থী ওই দুই নির্বাচনেই আমীন সরকারের বিরোধীতা করেছেন প্রকাশ্যে।’

অভিযোগ আছে, ২০১১ ও ২০১৫ সালের নির্বাচনে উপজেলা বিএনপির ষড়যন্ত্রে আমিন সরকারকে পরাজিত হতে হয়েছে। এমন তিক্ত অভিজ্ঞতায় আমিনসহ বিএনপির অনেক ত্যাগী নেতারা এখন ভোটের মাঠে সক্রিয় নন।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, ভোটের মাঠে এমন হিসাব-নিকাশ শেষ পর্যন্ত চললে এবারও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবিএম আনিছুজ্জামান বিজয়ী হতে পারেন। গত নির্বাচনেও আনিছ নৌকার বিদ্রোহী হলে বিএনপির ভোটাররা তাকে ভোট দেন। ফলে তিনি বিজয়ী হন।’

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি শামীম বিদ্রোহী প্রার্থী আনিছুজ্জামানের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফারুকও পরোক্ষভাবে তার পক্ষে কাজ করছেন।

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার ধারণা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীর সঙ্গে বিএনপি নেতাদের গোপন সমঝোতা আছে। সরকারি দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়তো পরোক্ষভাবে বিএনপি সমর্থন করছে। তা না হলে বারবার বিএনপি’র নেতারা তার সঙ্গেই লিয়াজোঁ করবেন কেন?’

এদিকে, এক মেয়র প্রার্থীর মৃত্যুতে ত্রিশাল পৌরসভায় ভোটের পুনঃতফসিল হয়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পুনঃতফসিল অনুযায়ী, মেয়র পদে পৌরসভায় মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ১৭ জানুয়ারি, মনোনয়ন বাছাই ১৯ জানুয়ারি, প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ জানুয়ারি।