হত্যার পর আনন্দ মিছিল, গ্রেফতার ৩ আসামির দুই দিনের রিমান্ড



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
এজাহার ভুক্ত আসামি আশুলিয়া থানা থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক টিটু ও ধামসোনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক সাজ্জাদ হোসেন বাবু

এজাহার ভুক্ত আসামি আশুলিয়া থানা থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক টিটু ও ধামসোনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক সাজ্জাদ হোসেন বাবু

  • Font increase
  • Font Decrease

সাভারের আশুলিয়ায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রী শাহজাদা খন্দকার মনাকে (৫৫) হত্যা করে আনন্দ মিছিল করে আসামিসহ টিটু বাহিনী। এদের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতার করে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে পাঠালে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা চিফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক মনিকা খান এই রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ড মঞ্জুর হলে আসামিদের থানায় আনা হয়।

এর আগে ২২ জানুয়ারি রাতে আশুলিয়া থানায় বাদী হয়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই শাহাবুদ্দিন খন্দকার পিন্টু। পরে আসামি ৩ জনকে গ্রেফতার করে আজ দুপুরে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

নিহত শাহজাদা মনা আশুলিয়ার ডেন্ডাবর নতুন পাড়া এলাকার মৃত নুরুল হক খন্দকারের ছেলে। তিনি ইলেকট্রিক টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধেও মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আশুলিয়া থানার ডেন্ডাবর নতুন পাড়া এলাকার জমির মোল্লার ছেলে নুরুজ্জামান (৩৫), নড়াইল জেলার নড়াগতি থানার খাশিয়াল গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে রেজাউল ইসলাম পারভেজ (১৯) ও মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার কচুয়া গ্রামের লিটনের ছেলে মেহেদী হাসান নাজমুল (২৫)। তারা সবাই ডেন্ডাবর নতুন পাড়া এলাকার বর্তমানে স্থায়ী বাসিন্দা।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার ডেন্ডাবর নতুন পাড়া এলাকার আলাউদ্দিন মিস্ত্রির ছেলে আল আমিন ওরফে বাবু মিজি (২৬), একই এলাকার শাহজাহানের ছেলে ও আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ টিটু (৩০), শাহজাহান সরকারের ছেলে ও আশুলিয়া থানা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নেতা সাইফুল ওরফে ছোট সাইফুল (৩৮), কবির হোসেনের ছেলে রনি (২৪), জয়পুরহাট জেলা সদর থানার রিপন হোসেনের ছেলে রকি (২১), একই এলাকার ইসলামপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে ও যুবলীগকর্মী আরিফ (৩০), টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার সিনন্দীন গ্রামের নান্নু মিয়ার ছেলে সুমন (২৫) ও একই জেলার দেলদুয়ার থানার নান্দুলিয়া গ্রামের মৃত আমির খানের ছেলে রাব্বী (১৯)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা ওই এলাকায় ক্লাব প্রতিষ্ঠা করে গান-বাজনা ও নেশায় আসক্ত হয়ে যায়। প্রতিবেশীদের এসব কর্মকান্ডে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগীদের পক্ষে মনা আসামিদের গান-বাজনা ও নেশার জগৎ থেকে ফিরে আসতে বললে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে যায়। পরে গত ২১ জানুয়ারি আবার ওই ক্লাবে গিয়ে তাদের গান-বাজনা বন্ধ করতে বললে তাকে বেধরক পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরতর আহত করে। এসময় মনাকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেলে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে আসামিরা আনন্দ মিছিল করে।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি সামিউল আলম শামীম বলেন, অপরাধীর অপরাধের দায় কখনও সংগঠন নেবে না। তারা দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুর রাশিদ বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে ৩ জনকে গ্রেফতার করে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।