‘পিকে হালদারের বান্ধবী হতে না পেরে অনেকেই আপসোস করছে’



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎকারী পিকে হালদারকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে এনে কঠোর শাস্তির দাবি করে জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম রওশন আরা মান্নান বলেছেন, দেশে কতজন পিকে হালদার আছে দুর্নীতি দমন কমিশনকে খুঁজে বের করতে হবে। পিকে হালদারকে কঠোর শাস্তি দিলে ভবিষ্যতে এধরনের পিকে হালদার আর তৈরি হবে না। অনেক মেয়েরা এখন পিকে হালদারের বান্ধবী হতে না পেরে আফসোস করছেন। কারণ এত টাকা তারা পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রওশন আরা মান্নান বলেন, এই দেশে এত দুর্নীতি বেড়ে গেছে, যত অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হচ্ছে, দেশের দুর্নীতিও তত বেড়ে যাচ্ছে। এটা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। বাংলাদেশ আর কতজন পিকে হালদার আছে, দুর্নীতি দমন কমিশন যেন তাদেরকে খুঁজে বের করে এবং পিকে হালদার যেটা কানাডায় আছে তাকে যেভাবেই হোক ধরে এনে এই দেশে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। এত টাকা নিয়ে যদি দেশের বাইরে চলে যেতে পারে, তাও আবার বান্ধবীদেরকে নিয়ে। তাদের যদি শাস্তি দেওয়া না হয় তাহলে ভবিষ্যতে একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে। অনেকে এভাবে টাকা-পয়সা নিয়ে বিদেশে চলে যাবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি চেষ্টা করেন ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি দিতে পারেন। তাহলে ভবিষ্যতে এধরনের পিকে হালদার আর তৈরি হবে না। অনেক মেয়েরা এখন পিকে হালদারের বান্ধবী না হতে পেরে আফসোস করছেন। কারণ এত টাকা তারা পেয়েছে। সে কারণে এটা বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, হলমার্কের এমডি কাশিমপুর কারাগারে যেভাবে তার বান্ধবীকে নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছে মনে হয় যেন একটা বিয়ে বাড়ি। এগুলো বন্ধ করতে হবে। সে টাকা দিয়ে, হাজার হাজার লাখ লাখ টাকা দিয়ে এগুলো ব্যবস্থা করেছে। আর এই টাকাগুলি যদি নিজের হতো তাহলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু এ টাকাগুলো ব্যাংকের টাকা, ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে তারা এভাবে খরচ করছে বান্ধবীদের পেছনে। এর সুষ্ঠু বিচার হওয়া দরকার। নতুবা বন্ধ হবে না দুর্নীতি। ব্যাংকের দুর্নীতি বন্ধ হবে না, মানুষের দুর্নীতিও কমবে না।

স্কুল খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামের ছেলে মেয়েরা তো ডিজিটালের সুযোগ সুবিধা পায় নাই। সুতরাং তারা এখন অস্থির হয়ে পড়েছে। স্কুলে যাওয়ার যে একটা আনন্দ এবং স্কুলে যেয়ে পড়াশোনার যে প্রতিযোগিতা সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। সেজন্য ছেলে মেয়েরা এখন আর ঘরে বসে থাকতে চায় না। অভিভাবকরা অনুরোধ করেছেন, যেন আপনারা যদি সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন ক্লাস খুলে দেন। অথবা বিকল্পভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন, একটা ক্লাস একদিন বা সপ্তাহে দুইদিন গেলেও বাচ্চারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরত্ব বজায় রেখে বসতে পারে। সেটা করা যায় কি না সরকারকে ভেবে দেখার অনুরোধ করেন তিনি।

কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণার দাবি করে বলেন, কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি কুমিল্লাকে বিভাগ করার। কিছু আশে পাশের জেলা আছে তারা নাকি অনেকেই যেতে চায় না, তো যে কয়জনে যেতে চায় তাদেরকে নিয়ে যদি করা হয়, আর যারা যেতে চায় না তাদেরকে নিয়ে আরেকটা বিভাগ করা হোক। আর যে কয়জন কুমিল্লার সাথে থাকতে চায় তাদেরকে নিয়েই কুমিল্লা বিভাগ করা হোক।