চসিক নির্বাচন: ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে হামলা, কেন্দ্রে ভোটার ও এজেন্টে প্রবেশ করতে না দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন বর্জনের এ ঘোষণা দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম সকাল ৯টার দিকে পাহাড়তলী রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনি কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় সরকার সমর্থকদের হামলার শিকার হন। এরপর নগরের ২৫, ৩৯, ২৮, ২৯, ১৩, ১৪, ১২ নং ওয়ার্ডসহ সিটির সব কেন্দ্র থেকে হাত পাখার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। শুধু তাদের বের করে দিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি, যারা কেন্দ্রে প্রবেশ করেছিলেন তাদের ভোট দিতেও দেয়া হয়নি।

এ অবস্থায় রিটার্নিং কর্মকতা হাসানুজ্জামানের কাছে লিখিতভাবে ভোট কারচুপি ও নেতাকর্মীদের মারধরের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, আজ সকাল আটটায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এরপর সকাল পৌনে নয়টার দিকে নগরের বহদ্দারহাটের এখলাছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট দিয়ে জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। তবে জয়-পরাজয় যা–ই হোক, তিনি তা মেনে নেবেন বলে জানান।

অন্যদিকে, সকাল ১০টার দিকে নগরীর বাকলিয়া টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রশাসনিক ভবন কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সিটির সব ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিয়োগ করেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন। মোট ৪১ ওয়ার্ডে ৭৩৫টি কেন্দ্রের ৪ হাজার ৮৮৬টি বুথে ভোট গ্রহণ চলছে। এর মধ্যে ৪২৯ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এসব কেন্দ্রের ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করছেন ৭৭৫ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৪ হাজার ৮৮৬ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৯ হাজার ৭৭২ জন পোলিং এজেন্ট।

চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। যার মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন শাহাদাত হোসেন।

এছাড়া ৪১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিল পদে মোট প্রার্থী হয়েছেন ২২৬ জন। যার মধ্যে ৩৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন মোট ১৬৯ জন। আর ৩১ নম্বর আলকরণ ওয়ার্ডের প্রার্থী তারেক সোলেমান সেলিম মারা যাওয়ায় এবং ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত হারুন অর রশিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এই দুই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হচ্ছে না। আর সংরক্ষিত ১৪টি ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন ৫৭ জন।

অন্যদিকে, ভোট কেন্দ্রের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন প্রায় ৯ হাজার পুলিশ সদস্য এবং ২৫ প্লাটুন বিজিবি মোবাইল টিমে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছে।