চসিক নির্বাচন: এগিয়ে আ.লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ইনসেটে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী

ইনসেটে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের ফলাফল আসতে শুরু করেছে। মোট ৭৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০০টি কেন্দ্রের ভোটের বেসরকারি ফলাফলে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

জানা গেছে, ২০০ কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ৭৭ হাজার ২৩২ ভোট। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ১০ হাজার ৫৯৮ ভোট।

এখন পর্যন্ত ঘোষিত ২০০ কেন্দ্রের ফলাফলে মেয়র পদে আম প্রতীকে আবুল মনজুর ১ হাজার ৮৬ ভোট, মোমবাতি প্রতীকে এম এ মতিন ৩৬৬ ভোট, হাতি প্রতীকে খোকন চৌধুরী ২০৩ ভোট, চেয়ার প্রতীকে ওয়াহদ মুরাদ ১৮৭ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে জান্নাতুল ইসলাম ১ হাজর ২৫ ভোট পেয়েছেন।

তবে বিকেল তিনটার দিকে, কেন্দ্রে ভোটার ও এজেন্টে প্রবেশ করতে না দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম।

সকাল ৮টার দিকে নগরের পাহাড়তলীতে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ঘের ঘটনায় আপন ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিজামউদ্দীন নামে আরেক ভাই নিহত হন। তিনি ১২ নম্বর ওয়ার্ডের (সরাইপাড়া) আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী সাবের আহম্মদের কর্মী। আর ঘাতক ব্যক্তির নাম সালাউদ্দিন কামরুল। তিনি ১২নং সরাইপাড়া ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল আমিনের কর্মী।

আর এদিন সকাল ১০টার দিকে নগরের খুলশী থানাধীন ইউসেপ আমবাগান কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আলাউদ্দিন আলো (২৮) নামে এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

এছাড়া নগরীরর চকবাজার কাতালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘর্ষে একজন আহত হয়েছেন।

আর লালখান বাজার চানমারি রোডের শহীদ নগর সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল পৌনে ৯টা থেকে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় হকিস্টিক ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায় দুই পক্ষ। কাঁচের বোতল, ইটপাটকেল ছোড়া হয় এলোপাতাড়ি। পরে বিজিবি-পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ লাইন কেন্দ্রেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এতে আহত হয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল হাসনাত বেলালের সমর্থক শহীদুল ইসলাম শহীদ।

প্রসঙ্গত, আজ সকাল আটটায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এরপর সকাল পৌনে নয়টার দিকে নগরের বহদ্দারহাটের এখলাছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট দিয়ে জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। তবে জয়-পরাজয় যা–ই হোক, তিনি তা মেনে নেবেন বলে জানান।

অন্যদিকে, সকাল ১০টার দিকে নগরীর বাকলিয়া টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রশাসনিক ভবন কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সিটির সব ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিয়োগ করেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন। মোট ৪১ ওয়ার্ডে ৭৩৫টি কেন্দ্রের ৪ হাজার ৮৮৬টি বুথে ভোট গ্রহণ চলছে। এর মধ্যে ৪২৯ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এসব কেন্দ্রের ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করছেন ৭৭৫ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৪ হাজার ৮৮৬ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৯ হাজার ৭৭২ জন পোলিং এজেন্ট।

চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। যার মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন শাহাদাত হোসেন।

এছাড়া ৪১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিল পদে মোট প্রার্থী হয়েছেন ২২৬ জন। যার মধ্যে ৩৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন মোট ১৬৯ জন। আর ৩১ নম্বর আলকরণ ওয়ার্ডের প্রার্থী তারেক সোলেমান সেলিম মারা যাওয়ায় এবং ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত হারুন অর রশিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এই দুই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হচ্ছে না। আর সংরক্ষিত ১৪টি ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন ৫৭ জন।

অন্যদিকে, ভোট কেন্দ্রের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন প্রায় ৯ হাজার পুলিশ সদস্য এবং ২৫ প্লাটুন বিজিবি মোবাইল টিমে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছে।