৪৮ বছর ধরে ঘোল বিক্রি করেন সুভাষ



মো. রফিকুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মাদারীপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রবাদে আছে 'দুধের সাধ ঘোলে মিটে না' তবুও গরম কিংবা শীতে একটু প্রশান্তির জন্য ঘোলের চাহিদা এখনও রয়েছে। অতীতে গ্রাম-গঞ্জের মানুষের মধ্যে ঘোল খাওয়ার প্রবণতা বেশি। তবে সহজলভ্য না হওয়ায় ঘোল খাওয়ার সুযোগ পান না অনেকে। তারপরও অনেকে জীবিকার তাগিদে ঘোল তৈরি ও বিক্রি করেন। গত ৪৮ বছর ধরে ঘোল বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন মাদারীপুরের শিবচর পৌরসভার নয় নং ওয়ার্ডের খানকান্দি এলাকার বাসিন্দা সুভাষ ঘোষ (৬৪)।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালে ভারতে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েও দেশে ফিরে যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। তবে নিজের অজ্ঞতা, অবহেলা এবং স্বাক্ষী-প্রমাণ না থাকায় মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। আবার জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স কম হওয়ায় পান না বয়স্কভাতাও। ফলে জীবন সায়ান্বে এসে এখনও ঘুরে ঘুরে ঘোল বিক্রি করতে হয় তাকে।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে শিবচর উপজেলার খানকান্দি এলাকায় সাথে কথা হয় সুভাষ ঘোষের সাথে। এ সময় গল্পের ছলে তার জীবন সংগ্রাম সম্পর্কে জানা যায়। তার সংসারে দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রী আছেন। বড় মেয়ে সীমা ও ছোট মেয়ে মুক্তাকে বিয়ে দিয়েছেন। আর একমাত্র ছেলেটি শিবচর বাজারের এক স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ের বিয়ের সময় করা দেনা-পাওনা এখনও শোধ করতে পারেননি তিনি।

গ্রামে ঘারে বয়ে নিয়ে ঘোল বিক্রি করছেন সুভাষ ঘোষ
গ্রামে ঘারে বয়ে নিয়ে ঘোল বিক্রি করছেন সুভাষ ঘোষ

এ সময় সুভাষ ঘোষ জানান, সপ্তাহে দুই দিন উপজেলার কাওড়াকান্দি ঘাট সংলগ্ন ভেইলীবাজার থেকে দুধ সংগ্রহ করেন তিনি। সেটা দিয়ে স্ত্রীর সহযোগিতায় নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুধ থেকে মাখন আলাদা করা হয়। এরপর মাখন বাদে দুধ মিশ্রিত ঘন পানি ঘোলে পরিণত হয়। পরে সেই ঘোল মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করতে হয়। সেই ঘোল কাঁধে নিয়ে পাড়া বা হাটেবাজারে হাঁকডাঁক ছেড়ে বিক্রি করেন সুভাষ। এলাকায় তাকে ‘ঘোল সুভাস’ নামেই সবাই চেনে।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিনই তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিবচর বাজার, পাচ্চর মাদবরেরচর এলাকায় ঘোল বিক্রি করেন। ঘোলে অল্প লবণ দিয়ে প্রতি গ্লাস ২০ টাকা দরে বিক্রি করেন। প্রতিদিন খরচ বাদে তার আয় হয় ৩০০-৪০০ টাকা।

খানকান্দি সৈয়দ আসরাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র রাকিবুল জানায়, চাচার ঘোলের কদর সর্বত্র। স্কুলে ঘোল আনলে বন্ধুদের সাথে মাঝে মাঝে খাওয়া হয়।

আরেক ছাত্র মারুফ জানায়, পাশাপাশি থাকায় উনার বাড়ি থেকে প্রায়েই ঘোল কেনা হয়।

সুভাষ ঘোষ জানান, ১৯৭২ সাল থেকে তিনি ঘোল বিক্রি করে আসছেন। বড় ভাইয়ের কাছ থেকেই ঘোল বানানো শিখেছিলেন তিনি। বর্তমানে বংশে তিনিই এ পেশায় আছেন।