সস্তায় তাজা ফল-শাকসবজি নিশ্চিতে নগর কৃষি নীতিমালা জরুরি



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম 
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাকালে সৃষ্ট বৈষম্য কমাতে দুই বছরের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে বিশিষ্টজনরা। তারা এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কৌশল নিরূপণ এবং বাজার ও সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘নগরে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিতে সহায়ক নীতি গ্রহণে করণীয়’ শীর্ষক শিরোনামে এক ওয়েবিনারে দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন।

আর্ক ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও মেয়র এলায়েন্স ফর হেলদি সিটি’র যৌথ উদ্যোগে এ ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা বলেন, অসংক্রামক রোগ সারা বিশ্বে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর অন্যতম কারণ। বাংলাদেশেও এটি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। কারণ বর্তমানে দেশে ৬৭ শতাংশ মৃত্যুর কারণ অসংক্রামণজনিত রোগ। এসডিজির লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগজনিত মৃত্যু ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

বক্তারা বলেন, অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া নগরায়ন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা; অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস; তাজা শাক-সবজি-ফলমূল কম খাওয়া; শরীরচর্চা, ব্যায়াম বা পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রমের অভাব; অতিরিক্ত স্থুলতা; অনিয়ন্ত্রিত মাদক সেবন এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার এবং পরিবেশ দূষণ।

তারা আরও বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণে উৎসাহী করতে ফল, সবজি গ্রহণে উৎসাহী এবং ট্রান্সফ্যাট, অতিরিক্ত চিনি, লবণ গ্রহণে নিরুৎসাহিত করতে সচেতনতা, পুষ্টি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদন্ড প্যাকেটে যুক্ত করা, খাদ্যে লবণ গ্রহণে নিরুসাহিত করা, উচ্চ কর আরোপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং বিজ্ঞাপন বন্ধ করার পদক্ষপে গ্রহণ জরুরি। 

ওয়েবিনারে তারা আরও বলেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণে জনগণকে উৎসাহী করতে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ এ দুটি সমান্তরালভাবে করা সম্ভব না। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদনের জন্য ভর্তুকি এবং কর হ্রাস একটি কার্যকর উপায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যের ফুড সাপ্লাই চেইনের আইন ও সাহায়ক নীতি প্রণয়ন, সংশোধন, পরিমার্জন করা না হলে জনগণের কাছে সুফল পৌঁছে দেয়া সম্ভব নয়।

ওয়েবিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও আর্ক ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. রুমানা হকের সভাপতিত্বে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম, ধামরাই পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব গোলাম কবির, সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ ডাবলু, গাইবান্ধা ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

আর ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএলপিএ এর সেক্রেটারি সৈয়দ মাহবুবুল আলম।

ওয়েবিনারে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), এইড, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন, ডাস, গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটি, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

কেএমপি’র ৩ কর্মকর্তা পেলেন পিপিএম সেবা পদক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, খুলনা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ’র (কেএমপি) চৌকস, দক্ষ, মেধাবী ও মানবিক ৩ পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন পিপিএম-সেবা পদক।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) কেএমপি সূত্র এ তথ্য জানায়।

কেএমপি সূত্র জানায়, ২০২০ ও ২০২১ সালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে চাঞ্চল্যকর মামলা সমূহের রহস্য উদঘাটন, কৃতিত্বপূর্ণ, সাহসীকতা এবং বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাদেরকে “পিপিএম-সেবা” পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

পদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন, কেএমপি’র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সোনালী সেন, বিশেষ পুলিশ সুপার রাশিদা বেগম এবং এসআই (নি:) মোহাম্মদ আবু সাঈদ।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে জনাব সোনালী সেন, অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ), কেএমপি, খুলনা চাঞ্চল্যকর মামলাসমূহের রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সেবামূলক কাজ এবং শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ “পিপিএম-সেবা” পদকে ভূষিত হয়েছে।

২০২০ সালে জনাব রাশিদা বেগম, বিশেষ পুলিশ সুপার, সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ, কেএমপি, খুলনা কৃতিত্বপূর্ণ, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা এবং দক্ষতার সহিত বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে প্রশংসনীয় অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ “পিপিএম-সেবা” পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। তিনি কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব রোধে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন, শ্রমিক আন্দোলনকালীন ও সার্বক্ষণিক মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখায় ভূমিকা, ভিআইপি/ভিআইপি, বিদেশীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণসহ নাগরিক সেবা প্রদানে দায়িত্ব পালনকালে পেশাদারিত্বের যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এটি শুধু বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের জন্যই নয়, দেশের নারী সমাজের কাছেও অনুসরণীয়, অনুকরণীয় ও অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে চিরকাল।

২০২০ সালে জনাব মোহাম্মদ আবু সাঈদ, এসআই(নি:), খুলনা থানা, কেএমপি, খুলনা এর কর্তব্যপরায়নতা, নিষ্ঠা, সততা, আন্তরিকতা, বিচক্ষণতা, সাহসীকতা এবং বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে “পিপিএম-সেবা” পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

;

সিরাজগঞ্জে তিন এমপি করোনায় আক্রান্ত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সিরাজগঞ্জে তিন এমপি করোনায় আক্রান্ত

সিরাজগঞ্জে তিন এমপি করোনায় আক্রান্ত

  • Font increase
  • Font Decrease

সিরাজগঞ্জের তিনজন সংসদ সদস্য (এমপি) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং জেলা যুবলীগের সভাপতিও আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে সবাই দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আক্রান্ত ব্যক্তিরা হলেন, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ, কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী, রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৃপ্তি কনা মন্ডল এবং জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল। 

শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে দ্বিতীয়বারের মতো করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে নিজের সুস্থতা কামনা করে দোয়া চেয়েছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্নার এপিএস একরামুল হক স্বপন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের এমপি অধ্যাপক হাবিবে মিল্লাত মুন্না। এরপর ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদ ক্লিনিক থেকে দ্বিতীয় ডোজ ও ১২ জানুয়ারি টিকার বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেন তিনি।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় বলেন, দুইটি করোনা টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ করার পরও ১৯ জানুয়ারি তৃতীয়বারের মতো তার শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। ঠান্ডা ছাড়া তেমন কোন সমস্যা হচ্ছে না। বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ সরকার বলেন, দুইটি টিকা নেওয়ার পর ৭ দিন আগে শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। সর্দি-কাশি আছে, কিন্তু তেমন সমস্যা হচ্ছে না। বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। 

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৃপ্তি কনা মন্ডল বলেন, দুইটি টিকা গ্রহণ করার পরও ১৮ জানুয়ারি করোনা ধরা পড়েছে। কাশি আছে, ডাক্তারের পরামর্শে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। 

অপর দিকে দুই টিকা গ্রহণের পরও ১৮ জানুয়ারি কাজিপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী এবং ১৭ জানুয়ারি জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েলের শরীরে করোনা ধরা পড়ে। এদেরও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা।

;

হাতিয়ায় ১৪০ মণ জাটকা জব্দ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী 
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীর মৌলভীর চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৪০ মণ জাটকা ইলিশ জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। 

শনিবার রাতে জব্দকৃত মাছগুলো ২০টি এতিমখানার শিক্ষার্থীসহ সহশ্রাধিক গরীব মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। 

এর আগে শনিবার সন্ধ্যার সময় অভিযান করে ঢাকার মোকামে নিয়ে যাওয়ার সময় মেঘনা নদী থেকে জব্দ করা হয় এসব জাটকা মাছ।

কোস্টগার্ড হাতিয়ার স্টেশন কমান্ডার লে. ইফতেখারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মৌলভীর চর এলাকায় অভিযান চালায় বিসিজি স্টেশান কোস্টগার্ড হাতিয়া।

অভিযান চালিয়ে মৌলভীর চরের উত্তর পাশে মেঘনা নদী থেকে দুটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে থাকা ১৪টি ঝুঁড়ি থেকে ১৪০ মণ জাটকা মাছ জব্দ করা হয় । পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরামর্শ অনুযায়ী এবং মৎস্য অফিসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জাটকা মাছ গুলো এতিমখানা ও গরিব দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। যার বাজার মুল্য প্রায় ১৭লাখ টাকা।

তিনি আরও বলেন, জব্দকৃত এসব জাটকা মাছ ব্যাবসায়ীরা বিক্রির উদ্দেশ্যে ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার হাজিরহাঁট ঘাট থেকে নদী পার হয়ে হাতিয়ার টাংকির ঘাট নিয়ে যাচ্ছিলেন।

;

ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করে স্বচ্ছল কৃষক দম্পত্তি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, ঠাকুরগাঁও
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

একটা সময় ছিল যখন গরু আর মহিষ দিয়েই হাল চাষ করা হতো। এছাড়া কোন উপায়ও ছিলোনা হাল চাষ করার মতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে চাষাবাদেরও এসেছে পরিবর্তন। এখন পশু দিয়ে চাষাবাদ না করে যান্ত্রিক নানা প্রযুক্তির সাহায্যে চাষাবাদ করে থাকে কৃষকরা। কিন্তু ভিন্ন চিত্র দেখা মিললো ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ধন্দোগাঁও গ্রামে। সেখানে ঘোড়া দিয়ে এক ব্যতিক্রমী চাষাবাদ করছেন ভূষন চন্দ্র ও তার স্ত্রী ভানু রাণী। 

ঘোড়া শখের বশে লালন পালন করে তাতে শাওয়ার হয়ে মানুষ যায় এদিক-সেদিক। আবার ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতাও জনপ্রিয় অনেক জেলায়। সৌখিন মানুষরা ঘোড়ার গাড়িতে বসে একটু সময় কাটাতেও পছন্দ করেন। আবার মালামাল টানতেও ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করার দৃশ্য সাধারণত দেখা যায়না। কিন্তু ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন কৃষক ভূষণ চন্দ্র আর তাঁর এই হালচাষের কাজে সহযোগিতা করছেন স্ত্রী ভানু রাণী। 

কৃষক দম্পত্তির সাথে কথা বলে জানাযায়, এক বছর ধরে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করে আসছে ভূষণ চন্দ্র। বাজারে গরুর দাম বেশি হওয়ায় গরুর বদলে ২২হাজার টাকা দিয়ে দুটি ঘোড়া ক্রয় করেন। ভূষণ চন্দ্র শুধু নিজের জমিতে চাষাবাদ করছেন না অন্যের জমিতেও টাকার বিনিময়ে চাষ করে দিচ্ছে। এক বিঘা জমি চাষ দিতে নিচ্ছে ৫০০ টাকা। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই বিঘা জমিতে হালচাষ করেন তিনি। এতে করে বাড়তি আয় হচ্ছে কৃষক দম্পত্তির এবং সংসারেও কিছুটা স্বচ্ছলতা ফিরেছে। 

কৃষক ভূষণ চন্দ্র জানান, আগে আমাদের গরু ছিলো অভাবের কারণে তা বিক্রি করে দেই। বর্তমান সময়ে এক জোড়া হালের গরু কিনতে গেলে খরচ পড়ে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ওই টাকা দিয়ে ইচ্ছে করলে ছয় জোড়া ঘোড়া কেনা যাবে। তবে প্রথম দিকে ঘোড়াগুলোকে হালের কসরত শেখাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। ঘোড়ায় লাঙল-জোয়াল জুড়ে দিয়ে অনেকবার চেষ্টার পর আয়ত্তে আসে। এখন পুরোদমে ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করছি। 

স্থানীয়রা বলেন, ঘোড়া দিয়ে লাঙল দিলে জমি গভীরভাবে খনন হয়। পাওয়ারটিলার বা মাহেন্দ্র গাড়ি দিয়ে হালচাষ করলে জমি সমান হয় না। ঘোড়ার হাল দিয়ে জমি সমান হয়। এতে পানি ধরে রাখা সহজ হয়। 

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন বলেন, কৃষকেরা এখন যান্ত্রিক উপায়ে জমি চাষ করেন। ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করা অপ্রচলিত একটা বিষয়। সময়ের সঙ্গে ঘোড়ার যে ব্যবহার তা উঠে গেছে। কৃষক ভূষণ চন্দ্র নিজের প্রয়োজনে বাড়তি আয়ের জন্য ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ বা মই দেন। তবে কৃষি বিভাগ সব সময় আধুনিক মানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে চাষাবাদ করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয় বলে জানান তিনি।

;