বৃহত্তর রংপুরে রাজাকার ১৬০৭ জন, রাজাকার শূন্য ৬ জেলা



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যতদ্রুত সম্ভব রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করার সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। তিন দিনের মধ্যে রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করার প্রস্তাব করেছে কমিটি।

রাজাকার ও স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা যতটুকুই এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে-তা অবিলম্বে গেজেট আকারে প্রকাশের সুপারিশ করে কমিটি।

এদিকে মন্ত্রণালয় থেকে রাজাকারের তালিকার বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে- সকল জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বৃন্দের নিকট রাজাকার-আলবদর-আলশামস স্বাধীনতাবিরোধীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে পত্র প্রদানের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ৮৯৭ জন এবং বৃহত্তর রংপুর জেলা থেকে ১ হাজার ৬০৭ জন সর্বমোট ২ হাজার ৫০৪ জনের তালিকা পাওয়া গেছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার আলবদর আলশামস পিস কমিটি সদস্যদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি উপকমিটি কমিটি গঠন করেছে উপ কমিটির নিকট থেকে তালিকা পাওয়া গেলে প্রাপ্ত তালিকা সহ যাচাই বাছাই পূর্বক গেজেট আকারে প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এর নিকট প্রেরণ করা হবে।

প্রাপ্ত তালিকা মোতাবেক রাজাকারদের সংখ্যা:  চাঁদপুরে ৯ জন রাজাকার, মেহেরপুরে ২১৬ জন, কেশবপুরে ১২৬ জন, শরীয়তপুরে ৪১ জন, বাগেরহাটে ১ জন,  নড়াইলে ৫০ জন, রংপুরের পীরগাছায় ৩৫ জন, ঢাকার গেন্ডারিয়ায় ২ জন, বরিশালের বানারীপাড়ায় ৮২ জন, সিরাজগঞ্জ সদরের ৩ জন ময়মনসিংহের পাগলা ও গফরগাঁও ২৬ জন, চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া ১৮৩ জন, সিরাজগঞ্জ পৌরসভা,  সাঁথিয়া থানায় ৩ জন, বাগেরহাটের কচুয়ায় ১ জন, সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ৭ জন, সাতক্ষীরা কলারোয়া ৭৫ জন, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরায় ২৯ জন, সুনামগঞ্জ সদরে ৪ জন, পাবনার বেড়া উপজেলার ২ জন, কুড়িগ্রামের উলিপুরে ১ জন চাঁদপুরে মতলব উত্তরে ১ জন। মোট ৮৯৭ জন।

রাজাকার নেই যেসব জেলায়:  খাগড়াছড়ি, রাজবাড়ী, পটুয়াখালী, মাগুরা, শেরপুর, গাইবান্ধা এবং যশোরের শার্শা উপজেলায় রাজাকার নেই।

বৃহত্তর রংপুর জেলার রাজাকারদের তালিকা: নীলফামারীর ডিমলা থানায় ২৩৯ জন, নীলফামারী ডোমার থানায় ৩৩৬ জন, নীলফামারী থানায় ৩২৯ জন, নীলফামারীর জলঢাকা থানায় ৩১২ জন, নীলফামারী কিশোরগঞ্জ থানায় ১৫১ জন, নীলফামারীর সৈয়দপুর থানায় ২২৩ জন, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ১৭ জন। মোট ১ হাজার ৬০৭ জন।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সংসদ ভবনে ‘মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র বৈঠকের কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

বৈঠকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের অগ্রগতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত পরিকল্পনাসমূহের অগ্রগতি এবং  বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শারিরীক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ঔষধ ক্রয়ের প্রয়োজনীয় অর্থ বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটি কর্তৃক সুপারিশ করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলার সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে যথাশীঘ্র  চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সুপারিশ করা হয়। পরবর্তী প্রজন্মকে অবহিত করার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু কর্ণার ও পাঠাগার স্থাপনের পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া, সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে রাজাকারের তালিকা চূড়ান্ত করার সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম, কাজী ফিরোজ রশীদ এবং মোছলেম উদ্দিন আহমদ অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন সংস্থা প্রধানগণসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।