শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে হারাগাছ পৌর নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা



আমিনুল ইসলাম জুয়েল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে হারাগাছ পৌর নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে হারাগাছ পৌর নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা

  • Font increase
  • Font Decrease

 

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে বিড়ি শিল্পনগরী খ্যাত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীরা ফিরিস্তি দিয়ে যাচ্ছেন উন্নয়নের ফুলঝুরি। প্রার্থীদের প্রচারণা আর কৌশল ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে প্রাণচাঞ্চল্য। প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। ঘরে বাইরে সবখানে এখন ভোটের আমেজ।

নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র। হাল ছাড়েননি মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী। আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর বিরোধে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে বিএনপির প্রার্থী। তবে ২০১৬ সালের নির্বাচনের মতো এবারও হারাগাছ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী দিতে পারেনি জাতীয় পার্টি (জাপা)।

হারাগাছ পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন পেয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন বর্তমান মেয়র হাকিবুর রহমান মাস্টার (নৌকা)। বিএনপির মোনায়েম হোসেন ফারুক (ধানের শীষ)। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে রয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সদ্য বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী এরশাদুল হক এরশাদ (নারকেল গাছ)। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী জাহিদ হোসেন (হাতপাখা) মাঠে রয়েছেন।

শ্রমিক অধ্যুষিত হারাগাছ পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটের আলোচনায় সরগরম থাকছে পৌর এলাকার চারপাশ।  ভোটাররা এখন থেকে কষছেন জয় পরাজয়ের হিসাব নিকাশ। জাতীয় পার্টির প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমবে বলে ভোটারদের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। তবে শিক্ষিত, যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চান ভোটাররা।

২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার আলতাফ হোসেন বলেন, ভোটের জন্য তো সব প্রার্থী বাড়ি বাড়ি আসতেছে। কিন্তু ভোট বাইর হইলে তো ওমাক খুঁজে পাওয়া যায় না। এবার যোগ্য প্রার্থী দেখে ভোট দিমো। যাতে এলাকার উন্নয়ন হয়।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্থানীয় মুরুব্বি, যুব সমাজের অনুমতি নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। সবার কাছ থেকে ভালোই সাড়া পেয়েছি। আশা করছি এলাকার উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ দিবে ভোটাররা।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র হাকিবুর রহমান মাস্টার জানান, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এবারের ভোটে উন্নয়নমূলক কাজের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আওয়ামী লীগ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত এরশাদুর হক এরশাদ বলেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও দলীয় বেশীরভাগ নেতাকর্মী ও  সাধারণ ভোটার আমার পক্ষে আছে। নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নসহ নাগরিকদের সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবো।

বিএনপির প্রার্থী মোনায়েম হোসেন ফারুক বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নেই। তবুও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলে বিএনপির পক্ষে ভোটাররা রায় দিবেন।

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপে হারাগাছ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেয়র পদে চারজন ছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৪৮ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

হারাগাছ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ২০টি কেন্দ্রে ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট দিবেন ভোটাররা। পৌরসভায় মোট ভোটার ৪৯ হাজার ১৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ২৫ হাজার ৩২৪ এবং পুরুষ ভোটার ২৩ হাজার ৬৯৩ জন ।