‘সুখ সাগর’ পেঁয়াজ বীজে মুক্তি চাষিদের



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মেহেরপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

উচ্চফলনশীল ভারতীয় ‘সুখ সাগর’ জাতের পেঁয়াজ চাষ করে ভাগ্য বদলে গেছে মেহেরপুর জেলার অনেক চাষির। তবে মাঝে মাঝে ভালো বীজ সংকটের কারণে নানা সমস্যায় ভোগেন তারা। তাই এখন নিজ উদ্যোগেই সুখ সাগর জাতের পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করেন অনেক চাষি। কারণ এই বীজ সহজে পাওয়া যায় এবং এর আবাদ খরচও কম।

শিবপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, এবছর তিনি এক বিঘা জমিতে সুখ সাগর জাতের পেয়াজ বীজ উৎপাদন করেছেন। আর সেটা দিয়ে তিনি ২০ বিঘা জমিতে শীতকালীন পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। বাজার থেকে বীজ কিনে রোপণ করলে উৎপাদন খরচ বেশি হয়। ফলে কয়েকবার লোকসান হওয়ায় তিনি নিজেই বীজ উৎপাদন করেন। ফলে পেঁয়াজ চাষের জন্য তাকে এখন আর পরনির্ভরশীল হয়ে থাকতে হয় না।

পেঁয়াজ বীজ ক্ষেতে কাজ করছেন চাষি

আগামী মৌসুমে নিজের চাহিদা মিটিয়ে অন্য কৃষকের কাছেও বীজ সরবরাহ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান কৃষক নুরুল ইসলাম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে জেলায় পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিল ২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে। আর চলতি বছরে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে। এর একটি অংশ জুড়ে রয়েছে সুখ সাগর জাতের পেঁয়াজের অবস্থান।

চাষিরা জানান, সাধারণত দেশি তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজ আবাদ হয় জেলাজুড়ে। তবে বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই মুজিবনগর উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী মাঠে সুখ সাগর পেঁয়াজের আবাদ শুরু হয়। ভারতীয় চাষিদের থেকে বীজ সংগ্রহ করে এ আবাদ করতেন স্থানীয় চাষিরা। গেল কয়েক বছর পেঁয়াজ বীজের সংকটের কারণে এলাকার চাষিরা এবার ব্যাপকভাবে সুখ সাগর পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করেছেন।

এ পেঁয়াজের ফলন সম্পর্কে চাষিরা জানান, বিঘায় ৭০-১২০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। স্থানীয় জাতের চেয়ে সুখ সাগর পেঁয়াজের ফলন যেমনি বেশি তেমনি উৎপাদন খরচও কয়েকগুণ বেশি। অপরদিকে বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না বিধায় দ্রুত বিক্রি করতে হয়। এতে প্রায়ই মৌসুমে কম দামেই বেঁচতে বাধ্য হন উৎপানকারীরা। চড়া দামে বীজ কিনতে গেলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। এ কারণে কৃষকরা এখন নিজেরাই পেঁয়াজের বীজ তৈরীতে মনোযোগ দিয়েছেন।

চাষিরা জানান, সুখ সাগর পেঁয়াজ চাষ করে গ্রামের প্রতিটি পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের মুখে ছিল হাসি, মনে ছিল আনন্দ। সে আশায় গত কয়েক বছর ধরে মুজিবনগর উপজেলার চাষিরা পেঁয়াজ চাষ করে আসছেন। করোনার সময় পেঁয়াজের দাম ছিল অনেক বেশি। এ জন্য শীতাকলীন পেঁয়াজ চাষ করার সময় বেশি দাম দিয়ে বীজ ক্রয় করতে হয়েছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে বর্তমান পেঁয়াজের বাজার দরের কারণে। যে টাকায় এবার পেঁয়াজ বিক্রি করছেন তাতে আবাদ খরচ পুষিয়ে নিতেই সংকটে পড়েছেন চাষিরা।

পেঁয়াজ বীজ ক্ষেতে কাজ করছেন চাষি
পেঁয়াজ বীজ ক্ষেত

চাষীরা জানান, এ বছর ভরা মৌসুমে বিদেশ থেকে দেশ থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। যার বিরুপ প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পেঁয়াজ বিক্রি দরের উপর। তাই বীজের নিশ্চয়তা ও ভরা মৌসুমে একটি নির্দিষ্ট বাজার দর থাকলে পেঁয়াজ উৎপাদেন স্ববলম্বী হবে দেশ।

শিবপুর গ্রামের জিয়াউল ইসলাম, হায়াত আলী, আশিক গাজী ও বাবুল জানান, পেঁয়াজের বীজ বেশি দরে কিনতে হয়েছে। এখন পেঁয়াজের যে দর তাতে নিশ্চিত লোকসান গুনতে হবে। এর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তারা পেঁয়াজ বীজ তৈরি করছেন। ভালো মানের বীজ উৎপাদন করতে পারলে পেঁয়াজ চাষের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন এসব চাষিরা।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ জানান, সারাদেশে এ জাতের পেঁয়াজের চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করছে কৃষি বিভাগ। সুখ সাগর জাতের পেঁয়াজ সংরক্ষণের গবেষণা অব্যাহত আছে। তবে পেঁয়াজ চাষ বাড়ছে। বীজ উৎপাদনের এ আগ্রহ পেঁয়াজ চাষে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।