অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে খালের প্রবাহ ফেরালেন মেয়র



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে খালের প্রবাহ ফেরালেন মেয়র

অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে খালের প্রবাহ ফেরালেন মেয়র

  • Font increase
  • Font Decrease

ঘড়ির কাটায় তখন দুপুর দেড়টা, ঠিক সেই সময় ম্যাজিস্ট্রেট ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং কাউন্সিলরদের নিয়ে হাজির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। দুপুরের আগেও কেউ জানত না সেখানে অবৈধ দখলদার বলে কিছু আছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে ৪০ ফুট খালের ৩৮ ফুট দখল করে রেখেছেন। গড়ে উঠেছে স্থাপনা। খাল পাড়ে ১৬ ফিট চওড়া রাস্তা সেটিরও অস্তিত্ব নেই। অথচ এই রাস্তার দুই মুখ দেখা গেলেও মাঝখানে হোসনা টাওয়ারের মালিক বিশাল অট্টালিকা গড়েছেন খাল পাড়ে। একটু একটু করে পুরো খাল গিলে খেয়েছে হোসনা টাওয়ার।

আশপাশে আরো কিছু লোক অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা করেছেন। মশা মারতে গিয়ে বিশাল সম্পত্তি উদ্ধার করলেন মেয়র। এ যেন কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসার গল্পের মতো। সকালে গেছেন মশক নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রামের কর্মসূচি পরিদর্শনে। সেখান থেকে সব খাল দেখতে গিয়ে দেখেন একটু জীবন্ত খালকে কিভাবে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে।

এসব দেখে তাজ্জব হয়ে যান মেয়র। তিনি সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ দেন গুড়িয়ে দাও সকল অবৈধ স্থাপনা। সরকারি জায়গায় কোন অবৈধ দখলদারের ঠাঁই নাই। যেমন নির্দেশনা তেমন কাজ। এক্সেভেটর দিয়ে খাল পাড়ে থাকা বেড়া ও ছোট্ট ছোট খুপড়ি ঘর গুড়িয়ে দেন। এরপর খালে ভেতরের অবৈধ ভরাট উচ্ছেদ করান মেয়র।

হোসনা টাওয়ারের পক্ষ থেকে এক ব্যক্তি কাগজ নিয়ে এসে দেখাতে চাইলে মেয়র বলেন, বৈধ কাগজ থাকলে অফিসে নিয়ে আসুন। আমরা বৈধ কোন কিছুতে হাত দেব না। কিন্তু কেউ খাল দখল করে স্থাপনা করবে সেটাও হবে। দখলদারদের এক ইঞ্চিও ছাড় নয়।

খাল পাড়ে ১৬ ফিট চওড়া রাস্তা সেটিরও অস্তিত্ব নেই। অথচ এই রাস্তার দুই মুখ দেখা গেলেও মাঝখানে হোসনা টাওয়ারের মালিক বিশাল অট্টালিকা গড়েছেন খাল পাড়ে

স্থানীয় জনসাধারণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে মেয়র আতিক বলেন, আপনারা দেখুন ৪০ ফুট একটি খাল কিভাবে ২ ফুট খালে রূপান্তর হয়েছে। খালের যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি এই পর্যন্ত ওয়াসা ওয়াকওয়ে করলেও অবৈধ দখলদার প্রভাবশালীদের কারণে আর এগুতে পারেনি। দখলদারদের আর এক ইঞ্চিও ছাড় নয়। আমরা এই ওয়াকওয়েটিকে সামনের রাস্তার সাথে সংযোগ করব। তিনি বলেন, আমি দাঁড়িয়ে আছি কারণ আমি চলে গেলে অবৈধদখলদারদের চাপে আমাদের কর্মীরা কাজ করতে পারে না। তাই আমি একবারের জন্যও বসি নাই। এখানে উচ্ছেদ অভিযান শেষে আমি যাব।

কল্যাণপুর 'চ' খাল নামে পরিচিত এই খালটি পশ্চিম আগারগাঁও এলাকার সমাজ কল্যাণ মোড় থেকে বিটিসিএল ভবনের পেছন দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কল্যাণপুর খালের সাথে সংযোগ ঘটেছে। কিন্তু সমাজ কল্যাণ মোড়ের পাশে ৪০ ফুট খালের ৩৮ ফুট দখলে থাকায় পানি প্রবাহ বন্ধ। ফলে ওই এলাকায় মশার লার্ভা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি বর্ষাকালে ওই এলাকা জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এই উচ্ছেদ অভিযানের পর সেখানে পানি প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে।

হোসনা টাওয়ার

অন্যদিকে সমাজ কল্যাণ মোড়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনের মালিক মাহফুজা খাতুন অভিযোগ করেন খালের জায়গায় খাল রয়েছে স্থানীয় কিছু সুবিধাবাদী লোকের পরামর্শে মেয়র আমার বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে দিয়েছে। আমার কাছে সকল কাগজপত্র রয়েছে। তাছাড়া রাজউক তো আর পাগল না তারা সব না দেখে আমাকের প্ল্যান দেয়নি।

কোন ভবন করতে হলে পাশের রাস্তা থাকা কি বাঞ্চনীয় নয় এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন যখন রাস্তা লাগবে দেবো, কিন্তু এভাবে আমার বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙার অধিকার তো কারো নাই।

এসব অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর মো. ফোরকান হোসেন বলেন, সব ভূমিদস্যু। এখানে ওয়াসা এসব দখলের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। এর আগে নদী রক্ষা ট্রাস্কফোর্স কমিটির পক্ষ থেকে কয়েক দফা পরিদর্শনে আসলেও ভূমিদস্যুদের চাপে সেটা করতে পারেনি। আজ মেয়র মহোদয় সেটি করে দেখালেন। আমরা ওয়াকওয়ে করে দেব।