ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ আরও ৪ জনের মৃত্যু, আহত ৫০



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ আরো ৪ জনের মৃত্যু, আহত অর্ধশতাধিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ আরো ৪ জনের মৃত্যু, আহত অর্ধশতাধিক

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ, বিজিবি সঙ্গে হেফাজতের কর্মীদের সংঘর্ষে আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দুইদিনে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও আরো অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে রোববার জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- জেলার নন্দনপুরের সাদু মিয়ার ছেলে নুরুল আমিন (২২), সরাইলের সৈয়দটুলা গ্রামের  সফি আলী মিয়ার ছেলে আলামিন (১৯) সরাইলের খাটিহাতা বিশ্বরোডের অলতু মিয়ার ছেলে কালন মিয়া ও একজন অজ্ঞাত (৪০)।

এলাকাবাসী জানান, শনিবার বিকালে হরতালের পক্ষে বুধল এলাকা থেকে একটি মোদিবিরোধীদের একটি মিছিল শুরু হয়। এ সময় বিজিবি, পুলিশ ও কর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হলে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরুল আমিনের মৃত্যু হয়।

বিজিবি, পুলিশ ও কর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ শুরু হয়

হরতালের পক্ষে বিক্ষোভ মিছিলের সময় জেলা সদরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকায় জেলা পুলিশ লাইনে হামলা চালান তারা। এসময় পুলিশের গুলিতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। অন্যদিকে জেলার সরাইলের বিশ্বরোড এলাকায় পুলিশের সাথে হরতালকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ছুড়ে। এ সময় আলামিন ও কালন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে আনা হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় নিহতরা হলেন নন্দনপুর হারিয়া গ্রামের আবদুল লতিফ মিয়ার ছেলে ওয়ার্কশপের দোকানী জুরু আলম (৩৫), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দাবিড় মিয়ার ছেলে শ্রমিক বাদল মিয়া (২৪) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বারিউড়া এলাকার মৈন্দ গ্রামের জুরু আলীর ছেলে সুজন মিয়া (২২), আলী আহমেদের ছেলে শ্রমিক কাউসার মিয়া (২৫) ও বউধল এলাকার জুবায়ের (১৪)।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কার্যালয় ভাঙচুর

এদিকে সকালে জেলার আশুগঞ্জে হেফাজতের লোকজন একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে মিছিলটি থেকে আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম টোলপ্লাজায় হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা টোলপ্লাজা ভাঙচুর করে। পরে তারা টোলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ফাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া এ ছাড়া মহাসড়কের ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত আওয়ামী লীগ নেতাদের বেশ কয়েকটি তোরণ ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামী লীগ এর আহবায়ক হাজি সফিউল্লাহ মিয়া ও যুগ্ম আহবায়ক আবু নাছের আহমেদ এর বাড়িতেও হামলা চালান তারা। এর আগে রোববার ভোর থেকে হরতাল সফল করতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নেন উপজেলার স্থানীয় শীর্ষ উলামাসহ মাদরাসার ছাত্র, শিক্ষক ও সাধারণ জনতা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রানা নূরুস সামস হাসপাতালে আনা ৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।