মেডিকেলে চান্স পেয়েও ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় মিজান



হাসান মাহমুদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লালমনিরহাট
মেধাবী শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান। ছবি: বার্তা২৪.কম

মেধাবী শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সর্বনাসী ধরলার জলাধারে কূল ভাঙা-গড়ার সমাপ্তহীন যুদ্ধের একজন সৈনিক মিজান। চরাঞ্চলের আর দশটা পরিবারের মতোই সেও আজ এ চর তো কাল আর এক চরে বসবাস করেই বেড়ে ওঠে। ভাঙনের সাথী দৈন্দিন জীবনের অভাব-অনটনের ঘানি টানা চর নির্ভর পরিবারের সন্তান মিজান বাবার হাত ধরে প্রাথমিকের গন্ডি পেড়িয়ে মাধ্যমিকে পা রেখেই বাবাকে হারান। এরপরেও থেমে থাকেনি মিজানের স্কুলের পথ চলা। একমাত্র পুঁজি মায়ের কষ্টের আয়ে মাধ্যমিক শেষে উচ্চ মাধ্যমিকে সফলতা পেয়ে ভর্তির সুযোগ পান মেডিকেলে। কিন্তু সেই কষ্টের সফলতায় বড় বাধা অর্থ। অর্থের অভাবে মেডিকেলে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন মিজান ও তার মা।

লালমনিরহাটের সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চর কুলাঘাট গ্রামের দুর্গম চরাঞ্চলের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান। উপার্জনক্ষম মা জোবেদা বেগমই একমাত্র ভরসা মিজানের ৭ সদস্যের পরিবারের। ক্ষনস্থায়ী চরের বুকে বসবাস তাদের।

জানা গেছে, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান মিজানের বাবা। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়লেও থমকে থাকেন নি মা জোবেদা বেগম। ধরলায় বিলিন জমি ও স্বামীর অকাল মৃত্যুতে সর্ব শান্ত হয়েও সন্তানদের কথা ভেবে নতুন করে বাঁচার স্বপ্নে কষ্টের লাগাম ধরে ছুটে বেড়ান জোবেদা বেগম। অন্যের বাড়ি বাড়ি কাজ করে যা আয় হয় তাতে দু-এক বেলা খেয়ে না খেয়ে চালিয়ে যান মিজানের পড়াশুনা। এদিকে মিজানও টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালায়।

মায়ের সাথে মেধাবী শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান
মায়ের সাথে মেধাবী শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান

শত কষ্টের মাঝেও মিজান উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চর কুলাঘাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ ও লালমনিরহাট সরকারী কলেজ থেকে উচ্চ মাধমিকে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেন। অবশেষে দারিদ্রতাকে জয় করে মিজানুর রহমান ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। কিন্তু অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছেন না। মেডিকেলে ভর্তি ফি, কঙ্কাল ক্রয় ও আনুষাঙ্গিক খরচসহ পাঁচ বছরের পড়াশুনায় প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। কোথায় পাবো? কে দিবে? এমন নানা প্রশ্ন মিজানকে তাড়া করছে।

শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন,    অনেক আগে বাবা মরে গেছে। কিন্তু এরপরেও মা আমাকে অনেক কষ্ট করে আমায় লোখাপড়া করায়। আমি এবার শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছে না। আমার সাহায্য প্রয়োজন। তাই সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমি লেখাপড়া শেষ করে বন্যাপীড়িত দরিদ্র মানুষদের পাশে থাকতে চাই।’

মিজানের মা জোবেদা বেগম বলেন, ‘আমার ৬ সন্তানের মধ্যে একমাত্র মিজান লোখাপড়া করছে। অনেক কষ্ট করে সে ডাক্তারী পড়ার সুযোগ পেয়েছে। আপনারা একটু সাহায্য করলে মিজান ডাক্তার হতে পারবে। তাই আপনাদের সাহায্য কামনা করছি।’

এ বিষয়ে চর কুলাঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী বলেন, ‘শত কষ্টের মাঝেও শক্ত মনোবল ও ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মিজান এত দূর এগিয়েছে। এতে আমরা খুবই আনন্দিত। আমাদের সবার উচিৎ তাকে সাহায্য করা।’