করোনা সংক্রমণ ঝুঁকিতে বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারীরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বেনাপোল (যশোর)
বেনাপোল বন্দর

বেনাপোল বন্দর

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে বেনাপোল স্থলবন্দরে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক চালকদের মধ্যে নেই তেমন কোন স্বাস্থ্য সচেতনতা। ফলে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যের সাথে জড়িত সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পণ্য খালাসের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক, চালকসহ প্রায় ২০ হাজার কর্মজীবী মানুষ।

স্থানীয়রা বলছেন, যেহেতু ভারতের বিভিন্ন প্রবেশ থেকে এসব ট্রাক চালকেরা বন্দরে আসছেন তাই সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কার্যকর করা খুব জরুরি। আর বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন, স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে আলোচনা করে খুব দ্রুত সব ধরনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (০৮ এপিল) দুপুরে বন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভারত অংশে প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল থাকলেও বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ অংশে পণ্য প্রবেশদ্বারে ট্রাকে জীবাণু নাশক স্প্রে ও চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম। কারো মধ্যে কোন সামাজিক দূরত্ব নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় অবাধে মাস্ক-পিপি ছাড়া চলাফেরা করছেন ভারত ও বাংলাদেশি ট্রাক চালকেরা। তবে কারো কাছে মাস্ক বা পিপি থাকলেও তা ঠিক মত ব্যবহার করছেন না। কারো মুখে মাস্ক থাকলেও তা ঝুলছে থুতনিতে। আবার কারো কাছে পিপি থাকলে তা রয়েছে গাড়িতে। এমনকি বন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরাও অনেকে দায়িত্ব পালন করছেন মাস্ক ছাড়া। এতে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

জানা যায়, দেশ জুড়ে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সরকার সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছেন। তবে এ লকডাউনের মধ্যে দেশের শিল্প কলকারখানাগুলোতে উৎপাদন ও সহবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থায় বেনাপোল বন্দর লকডাউনের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে রেল ও স্থলপথে বেনাপোল-পেট্রাপোল দুই দেশের মধ্যে চলছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। বন্দরে বাণিজ্য সম্পাদনায় কাজ করছেন বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকসহ প্রায় ২০ হাজার কর্মজীবী মানুষ। তবে এ বন্দরটিতে স্বাস্থ্য বিধির বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

আমদানি ও রফতানি পণ্য বহনকারী ভারত ও বাংলাদেশি ট্রাক চালকেরা জানান, বেনাপোল বন্দরে এখন আর কেউ ট্রাকে জীবাণু নাশক স্প্রে করে না। স্বাস্থ্য পরীক্ষাও হ য়না। তবে সুরক্ষার জন্য ট্রাক চালকদের মাস্ক, পিপি পরা উচিত। কিন্তু কেউ কিছু বলে না বলে পরা হয় না।

বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বলেন, বন্দরে কোন স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। ইতিমধ্যে এ অঞ্চলের অনেকেই করোনা আক্রান্ত হয়েছে। জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

বেনাপোল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি ও রফতানি পণ্য পরিবহনের কাজে প্রায় দেড় হাজার ট্রাক চালক দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করে থাকে। শ্রমিকরা এসব পণ্য খালাস করছে। বন্দরে করোনা প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় দুই হাজার অসহায় শ্রমিকরা পড়েছে ঝুঁকির মধ্যে।

বেনাপোল রেলওয়ে মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, আগে করোনা সংক্রমণ রোধে রেলস্টেশনে বন্দরের পক্ষে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা কাজ করতেন। এখন আর কেউ আসে না। তবে নিরাপত্তার জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল রাখা জরুরি।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, যেহেতু ভারতের বিভিন্ন প্ররদশ থেকে ট্রাক চালকেরা বেনাপোল বন্দরে আসছে। বাংলাদেশ থেকে ও চালকেরা যাচ্ছে ভারতে । এদের মাধ্যমে সহজে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভবনা বেশি। তাই বন্দরে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আব্দুল জলিল জানান, আগে প্রতিরোধ ব্যবস্থা সব ছিল। জনবল সংকটে এখন কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে আলোচনা করে বন্দরে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের সব ব্যবস্থা খুব দ্রুত কার্যকর করা হবে।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা বলছেন, বর্তমানে করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতার এ সময়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বন্দরে যাতে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় তার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন।