ওএমএস ও টিসিবির পণ্যের জন্য দীর্ঘ লাইন, মানছে না স্বাস্থ্যবিধি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
মানছে না স্বাস্থ্যবিধি

মানছে না স্বাস্থ্যবিধি

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও মিলছে না টিসিবি ও ওএমএসে পণ্য। লকডাউনের মাঝে চালের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা। অনেকে চাল ও টিসিবি পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানালেও করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধির কোন তোয়াক্কা করা হচ্ছে না ।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর রবার্টসনগঞ্জ এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়।

সকাল ৯ টায় ওএমএসের দোকান খোলা হয়। কিন্তু ভোর থেকে দোকানের সামনে লাইন ধরে শত শত নারী-পুরুষ ও শিশুকে অপেক্ষা করছেন। বাজারে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেশি। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সংগতি রাখতে পারছে না অনেকেই। ফলে নিম্নবিত্তদের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও ভিড় করছে ওএমএসের লাইনে।

তবে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে অনেকে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে ওএমএসের চাল না পাওয়া মর্জিনা বেগমে (৩৮ ) বলেন, চার দিন থাকি বাড়িত বসি আছি কোন কাম নাই। টেকা পৌইশা নাই। কম দামত চাউল কিনবার আনু তাক তো পানু না। এখন বাড়িত যায়া দেখম কি করা যায়। পাঁচজন খানে আলা। এখন যে কি হবে আল্লাহ যানে।

এ সময় জরিনা বেগম জানান, ভিক (ভিক্ষা) করে খাই। কি যে ওগ আইলো এখন আর কয়দিন থাকি ভিক দেয় না। এটে কম টেকাত বলে চাউল পাওয়া যায় নিবার আনু। এভাবে অনেককেই তাদের অসহায়ত্বের কথা বলতে শোনা গেছে। স্টেশন রোড ও প্রেসক্লাবের সামনে দেখা যায় টিসিবির পণ্যের জন্য দীর্ঘ লাইন। অনেকের মুখে কোন মাস্ক নেই । সামাজিক দূরত্বও মানা হচ্ছে না।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় জানায়, নগরীতে ৮৩ জন ডিলারের মাধ্যমে খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। খাদ্য বিভাগ প্রত্যেক ডিলারকে এক টন করে চাল ও আটা বরাদ্দ দেয়।

একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি করে চাল বা আটা কিনতে পারে। চালের দাম ধরা হয়েছে ৩০ টাকা আর আটা বিক্রি হচ্ছে ১৮ টাকা কেজি দরে।

একাধিক ডিলার জানান, একজন ডিলার প্রতিদিন ২০০ জনকে চাল বা আটা দিতে পারেন, কিন্তু সেখানে অন্তত ৪০০/৫০০ জন উপস্থিত থাকে।

এ কারণে অনেকে খালি হাতে বাড়ি ফেরতে হয়। সদরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) অমূল্য কুমার রায় বলেন, ওএমএসের কার্যক্রমের প্রতি নিম্ন আয়ের মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। তাই বরাদ্দ ও বিস্তৃতি বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।