‌চিরচেনা মার্কেট পাড়া, নির্বাসনে স্বাস্থ্যবিধি



নাজমুল হাসান সাগর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে শুক্রবার (৯ এপ্রিল) সকাল থেকে বিভিন্ন মার্কেট খুলে দিয়েছে সরকার। সরকারি নির্দেশনা মেনে রাজধানীর প্রায় সবগুলো মার্কেট খোলার কথা থাকলেও কোথাও নিয়ম মেনে মার্কেট পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। সকালে ক্রেতা সমাগম না থাকলেও দুপুরের পর ও বিকেল হতেই পুরোনো রূপ পায় মার্কেটগুলো।

সরেজমিনে রাজধানীর নিউমার্কেট, নিউ সুপার মার্কেট, চন্দ্রিমা, গাউছিয়া, চাঁদনিচকসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে কোন মার্কেটের প্রবেশ পথেই জীবাণুনাশক ট্যানেল নেই। শারীরিক দূরত্ব মানার বালাই নেই। ক্ষেত্র বিশেষে সাধারণ মাস্ক ব্যবহারেও অনীহা দেখা গেছে অনেকের মাঝেই।

সকালে এসব ফাঁকা মার্কেটের দোকানদারদের সাফ সাফাইয়ের কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেলেও দুপুরের পর থেকে তাদের ক্রেতা সামাল দিতেই বেশি সময় ব্যয় করতে হয়েছে।

নিউমার্কেট এলাকার চিরচেনা রূপ

নিউ সুপার মার্কেটের দোতলার প্রবেশ পথে একজন নিরাপত্তা কর্মীকে মাস্ক ছাড়া মানুষদের মার্কেটের ভেতরে প্রবেশ করতে বাঁধা দিতে দেখা গেলেও এর বেশি আর কোন তৎপরতা চোখে পড়েনি। এদিকে নিউ মার্কেটের একদল নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীদের দেখা গেছে সেই মার্কেটের দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না সেই বিষয়ে তদারকি করতে। তবে এতে দোকানদার ও ক্রেতাদের খুব একটা আগ্রহী হতে দেখা যায়নি।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন দোকান মালিকদের হুঁশিয়ার করে বলেছেন, যে স্বাস্থ্যবিধি মানবে না তার দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমন অবস্থায় ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারায় আমরা স্বস্তি অনুভব করছি। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টির ওপর সর্বাত্মক জোর দিচ্ছি। ক্রেতাদের চলাফেরায় জটলা এড়াতে মার্কেটে ফাঁকা জায়গা নিশ্চিত করায় জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রথম দিনে ক্রেতা সমাগমের বিষয়ে জানতে চাইলে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে নিউ মার্কেটের দিপ্তি-মনি বস্ত্রালয়ের মালিক আনসার হামিদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, বেশ কিছু দিন বন্ধ থাকা ও করোনা ভীতির কারণে মার্কেট খোলার প্রথম দিনে ক্রেতা সমাগম তুলনামূলক কম, বিক্রিও কম। তবে বেচা বিক্রি বাড়বে। সামনে রমজান এবং ঈদ। এটাই ব্যবসার মূল মৌসুম। আশা রাখি বেচাকেনা হবে। আবারও আমরা লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াব।

মার্কেটে ক্রেতা সমাগম কম

সুপার মার্কেটের আদিল গার্মেন্টসের বিক্রিয় কর্মী বলেন, সকাল থেকে কাস্টমার ছিল না। বিকেলে কিছুটা ক্রেতা সমাগম হলেও বিক্রি হচ্ছে না।

একই মার্কেটের দোকানদারি ফ্যাশনের বিক্রয় কর্মী লাবলু ইসলাম বলেন, লোক সমাগমের তুলনায় বিক্রি হচ্ছে কম। এই অবস্থায় অল্প লাভে মাল বিক্রি করে দিচ্ছি আমরা। আর সময়ের সৎ ব্যবহার করছেন ক্রেতারা। তারা ন্যায্য দাম চাইলে মাল কিনতে অনীহা প্রকাশ করতেছে।

সন্তানদের নিয়ে গাউসিয়া মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা শামসুন্নাহার বলেন, ঈদ ও রমজানকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে এসেছি। স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টা মাথায় আছে কিন্তু এসবও তো জরুরি। তবে মার্কেট কর্তৃপক্ষের উচিত ছিলো স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে আরও সচেতন পদক্ষেপ নেওয়া।

চাঁদনিচক মার্কেটের এআরবি ফ্যাশনের মালিক আলাউদ্দীনের সাথে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, কখন কোন সিদ্ধান্ত আসে সেটা অনুমান করা মুশকিল। আমরা আয়োজন করে সব কিছু করলাম পরে দেখা গেলো দুই দিন পর আবার সব বন্ধ করে দিল। তখন ব্যাপারটা কেমন হবে? আজকে যখন মার্কেট খোলা হলো তখন ঘোষণা এলো ১৪ তারিখ থেকে সর্বাত্মক লকডাউনে যাওয়ার কথা ভাবছে সরকার। এই যে দোটানা, এই কারণেই কোন কিছু সঠিকভাবে হচ্ছে না।