আধ ঘণ্টার নৌরুট পারাপারের অপেক্ষায় ১১ ঘণ্টা!



খন্দকার সুজন হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মানিকগঞ্জ
পাটুরিয়া ঘাট

পাটুরিয়া ঘাট

  • Font increase
  • Font Decrease

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন বরিশাল সদর উপজেলার হানিফ আলী (৩০)। চাকরির সুবাদে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেন রাজধানীর বাড্ডা এলাকায়। সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনে অফিস বন্ধ থাকায় গন্তব্য এবার গ্রামের বাড়ি।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় আত্মীয় মিজানুর রহমানের পরামর্শে দুই পরিবার মিলে একটি হায়েস গাড়ি ভাড়া করে বাড্ডা থেকে সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় বরিশালের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তারা। এর দেড় ঘণ্টা পর এসে পৌঁছান পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায়।

এখানে এবার বিপত্তি। তার মতো আরো অনেকেই একত্রে যাত্রা শুরু করায় ফেরিঘাট এলাকায় ছোট গাড়ির দীর্ঘ সারিতে যুক্ত হয় তাদের ভাড়া নেওয়া গাড়িটি। নৌরুট পারাপারের জন্য গুণতে শুরু হয় অপেক্ষার প্রহর। এভাবেই পার হয়ে যায় দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা। তবুও মিলেনি ফেরির দেখা।

মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকার ৪ নাম্বার ঘাট পল্টুন এলাকায় আলাপ হলে এভাবেই দীর্ঘ ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরেন তারা।

গাড়ির চালক রুহুল আমিন বলেন, রাত একটার দিকে ঘাট এলাকার অপেক্ষামাণ সারিতে যুক্ত হয় তার গাড়ি। ফেরিঘাটের কয়েক কিলোমিটার আগেই পুলিশের সিগন্যালে ওই সারিবদ্ধ গাড়ির পেছনে পেছনে ঘাটের টিকিট কাউন্টার পর্যন্ত আসতে লেগে যায় প্রায় ১০ ঘণ্টা। এরপর টিকিট নিয়ে ফেরিতে উঠার জন্য ৪ নাম্বার ঘাট পন্টুনে অপেক্ষামাণ রয়েছেন তিনি।

আধ ঘণ্টার নৌরুট পারাপারের অপেক্ষায় ১১ ঘণ্টা

গাড়ির যাত্রী মিজানুর রহমান বলেন, ঈদের আগেও এতো ভোগান্তি হয় না। এর মধ্যে আবার বাস চলাচলও বন্ধ। এরপরও সীমাহীন ভোগান্তির জন্য কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে ফেরিঘাট এলাকায় সরেজমিনে ব্যক্তিগত ছোট গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা। পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকার ট্রাক টার্মিনালেও নৌরুট পারাপারের জন্য অপেক্ষামাণ রয়েছে তিন শতাধিক সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক। এছাড়া ঘাটমুখী আরও শতাধিক সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রয়েছে মহাসড়কের উথুলী সংযোগ মোড় এলাকায়।

ঢাকা, সাভার, আশুলিয়াসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাইভেটকার, হায়েস এবং মোটরসাইকেল করে ঘাট এলাকায় এসে ভিড় জমাচ্ছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ। যানবাহনের তুলনায় ফেরি স্বল্পতার কারণে ভোগান্তির কবলে পড়েছে এসব যাত্রীরা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবির বলেন, পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকার ট্রাক টার্মিনাল দুইটি ট্রাকে ভরপুর থাকায় ঘাটের ছয় কিলোমিটার আগেই ঘাটমুখী ট্রাকগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী আটকে রাখা হচ্ছে। ঘাটে অপেক্ষামাণ ট্রাকের সারি কমে গেলে সিরিয়াল অনুযায়ী কিছু কিছু করে আটকে রাখা ট্রাক ঘাটে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ছোট বড় মিলে মোট ১৭টি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে ছোট একটি ফেরি বিকল থাকায় ১৬টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে।

সবশেষ পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় তিন শতাধিক সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক ও তিন শতাধিক ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি নৌরুট পারাপারের জন্য অপেক্ষামাণ রয়েছে। ফেরির তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় নৌরুট পারাপারে ভোগান্তি বাড়ছে বলে জানান তিনি।