ব্যবসায়ীদের দাবি, ‘এবার খেজুরের বাজার ভালো না’



নাজমুল হাসান সাগর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের খেজুরের আড়ত

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের খেজুরের আড়ত

  • Font increase
  • Font Decrease

কয়েক ঘণ্টা পরেই শুরু হয়ে যাবে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে ফজিলতের মাস রমজান। সিয়াম সাধনার এই মাসে মানুষের পছন্দের ফল খেজুর। রমজান এলেই সুন্নতি এই ফলের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যায় সারা দেশে। রাজধানীর প্রতিষ্ঠিত খেজুর ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের হিসেব অনুযায়ী প্রতি বছর প্রায় ৬০-৬৫ হাজার টন খেজুর আমদানি হয়। এদিকে শুধু রমজানেই এ ফলের চাহিদা থাকে ৪৫-৫০ হাজার টন।

তবে এবারের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও বাবু বাজারের খেজুর পট্টিতে গিয়ে দেখা যায় রমজানের এক দিন আগেও এখানকার খেজুর ব্যবসায়ীরা অলস সময় অতিবাহিত করছেন। করোনাভাইরাসের কারণে বাবুবাজার ও কারওয়ান বাজারের আড়তদারদের প্রায় সবাই দুশ্চিন্তায় আছেন। সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘এবার খেজুরের বাজার ভালো না’।

কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটে মদিনা ফ্রুটসের মালিক মো. ফারুক হোসেন বলেন, বুধবার থেকে রোজা শুরু। অথচ এখন পর্যন্ত মোট মজুদের একভাগ খেজুরও বিক্রি করতে পারিনি। এবার এসব মাল আর বিক্রি হবে কি না জানি না।

একই মার্কেটের তাজা ফল ভান্ডারের মালিক আলহাজ্ব কেরাবীন বলেন, এবার আমাদের খেজুরের ব্যবসা লাটে উঠবে। যা বিক্রি হচ্ছে তা বলার মতো না। খুচরা বিক্রেতাদের দেখা নেই। তারা বাজারে না এলে এসব খেজুর কেনার মানুষ নেই। খেজুরের ব্যবসাটাই হয় রমজানের পনের দিন আগে থেকে পনের রমজান পর্যন্ত। কিন্তু আজ এই সময়ে এসেও ৫০ কেজি খেজুরও বিক্রি করতে পারি নাই। এবার বুঝুন কি ব্যবসাটা হবে।

কয়েক ঘণ্টা পরেই শুরু হয়ে যাবে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে ফজিলতের মাস রমজান

এদিকে বাবুবাজার খেজুর পট্টির ব্যবসায়ীরা এই সময়ে এসে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছেন যে, লকডাউনের এই সময়ে আড়তের খেজুর ব্যবসায় লোকসান গুণতেই হবে।

বাবুবাজার ও কারওয়ান বাজার খেজুরপট্টি ঘুরে দেখা গেছে, ভিড়হীন আড়তে মালিকরা কর্মচারিদের নিয়ে অবসর সময় পার করছেন। দুই মার্কেটেই ১০ কেজি প্যাকেটের দাবাস খেজুর পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮০০ টাকায়, নাগাল এক হাজার ৩০০ টাকা, ছায়ান ৯৫০ টাকা, মাগরুম সাড়ে তিন হাজার টাকা। পাঁচ কেজির প্যাকেটে তিউনেশিয়া ১ হাজার ৫০ টাকা, ম্যাকজেল ৪ হাজার ২০০ টাকা, মরিয়ম ৩ হাজার ১০০ টাকা, আজোয়া ৪ হাজার ৮০০ টাকা। বারারি নামের খেজুরের রয়েছে ছয় কেজির প্যাকেট, যেটির পাইকারি দর ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা।

বাবুবাজার খেজুরপট্টির মৌসুমী ট্রেডার্সের আড়তদার নেহাল ঢালী বলেন, প্রত্যেকবার রমজানের আগের এক সপ্তাহে ৪-৫ কোটি টাকার খেজুর বিক্রি হয়। এ বছর করোনা ও সার্বিক পরিস্থিতে বিশাল মুশকিল হয়ে গেছে। অন্যান্যবারের তুলনায় এবার বিক্রি নেই বললেই চলে। এভাবে চলতে থাকলে পথে বসে যাবো। বিক্রি না হলে অবশিষ্ট খেজুর নিয়ে বেশ বিপাকে পড়তে হবে। এ বছরের খেজুর এ বছরই শেষ করতে হবে। আগামী বছরে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করবে। এ এক উভয় সংকট।

উল্লেখ্য,  বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে এ বছর রমজানের জন্য মোট প্রায় ৫৫ হাজার টনের মতো খেজুর আমদানি হয়েছে। এর বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে। বেশির ভাগ আমদানি হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে।