আন্দোলনে যাবেন না দোকান ব্যবসায়ীরা, প্রণোদনা চান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সর্বাত্মক লকডাউনের কারণে দোকান বন্ধ থাকলে ব্যবসায়ীদের যদি ব্যবসা পরিচালনা করতে অসুবিধা হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রনোদনা চেয়েছেন সম্মিলিত দোকান ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ।

মঙ্গলবার (১৩  সকাল ১১ টায় সুবাস্তু আর্কেড আইসিটি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত দোকান ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক তৌফিক এহেসান এ আশা প্রকাশ করেন।

আহ্বায়ক তৌফিক এহেসান বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামীকাল বুধবার থেকে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সরকারের এই সিদ্ধান্ত আমরা সঠিক বলে মনে করি। আমরা আশা করি সরকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কিন্তু এই লকডাউনে সবচেয়ে কষ্টকর পরিস্থিতিতে পড়ে দৈনিক আয়ের উপর নির্ভরশীল এবং সাধারণ দোকান ব্যবসায়ীরা। মাহে রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা তাদের পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। এমতাবস্থায় যদি সর্বাত্তক লকডাউন দেওয়া হয় তাহলে ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব হয়ে যাবে।

পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। পূর্বেও দেশের যে কোন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবসায়ীদের নিয়ে ভেবেছেন। আমরা বিশ্বাস করি এবারের লকডাউনেও তিনি ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে সীমিত সময়ের জন্য কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ করে দিবেন।

দেশের ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে তৌফিক এহেসান বলেন, দেশে ২ কোটি ৫০ লাখ ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী রয়েছে, যারা দৈনিক আয়ের উপর নির্ভরশীল এবং এ আয় থেকেই দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় চাহিদা ও জীবন নির্বাহ হয়ে থাকে। যদি তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তাদের আর কোন ব্যবসায়ীক অস্থিত্ব থাকবে না এবং এরা পথে বসে যাবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন করছি, আপনি আমাদের ব্যবসা বান্ধব প্রধানমন্ত্রী, আপনি ব্যবসায়ীদের অভিভাবক হিসেবে আমাদের প্রতি সদয় বিবেচনা করে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। যাতে আমরা ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হই। আইটি পণ্য, কৃষি পণ্য ও যন্ত্রাংশ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি গার্মেন্টস শিল্প, কুরিয়ার সেবা, অন লাইনে পণ্য সরবরাহ সেবা যাতে এ লকডাউনে খোলা থাকে সে দিক বিবেচনা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি। এছাড়া অন্যান্য জরুরি পণ্যের সাথে আইটি পণ্যকেও জরুরি পণ্য হিসেবে বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করছি।

যদি আপনাদের এই দাবি না মানা হয় তাহলে আপনারা কি আন্দোলনে নামবেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, না আমরা আন্দোলনে যাবো না। কারণ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমি সবসময় ব্যবসায়ীদের পাশে ছিলেন। যখনই দুর্যোগ এসেছে তখন কোনো না কোনোভাবে তিনি আমাদের সাহায্য করেছেন। আমরা এখনো আল্লাহকে হাজিরানা সাক্ষী রেখে বলতে পারি তিনি আমাদের পাশে থেকে একটা পথ বের করে দেবেন।

ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে তৌফিক এহেসান বলেন, সারা বাংলাদেশে চার কোটি ব্যবসায়ী রয়েছি আমরা। তার মধ্যে আড়াই কোটি হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝামাঝি ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে রয়েছে কর্মচারি, সেলস ম্যান, পরিবার ইত্যাদি। এই আড়াই কোটি ব্যবসায়ী যদি পথে বসে যায় তাহলে রাষ্ট্রের জন্য, অর্থনৈতিক কাঠামো কে শক্তিশালী করার জন্য, আগামী প্রোভিত্তি অর্জনের ক্ষেত্রে একটা বাধা হয়ে দাঁড়াবে। কাজেই আমরা চাই প্রধানমন্ত্রীকে সাথে নিয়ে ব্যবসায়ী সব শ্রেণীর একসাথে হয় একটা সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি সামনে নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।