বরিশালে করোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ



জহির রায়হান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
বরিশালে করোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

বরিশালে করোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

  • Font increase
  • Font Decrease

 

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় উদ্বেগজনক হারে প্রতিদিন বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। এতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে শয্যা সংকটের পাশাপাশি বিভাগের সকল জেলা জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালগুলোর ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর কারণে তিল রাখার জায়গায় নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৩৭ জন। এতে শুধু বরিশাল জেলায় মারা গেছেন দুুইজন।

আর গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৯ জন। এতে শুধু বরিশাল জেলায় মারা গেছেন দুইজন।

এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ৬ জন রোগী মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে এই বিভাগে এদিকে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা, আরেক দিকে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ।

স্বাস্থ্য-সুরক্ষ বিধি না মানার করণে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে আর আবহাওয়া পরিবর্তন ও মানুষের অসতর্কতায় দিনে দিনে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েই চলছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিভাগ।

বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত সাত দিনে ৪ হাজার ৫৭৭ জন ও গত এক মাসে ১২ হাজার ৮৯৬ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এনিয়ে চলতি বছরে গত সাড়ে চার মাসে (১ জানুয়ারি- ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত) বরিশাল বিভাগে মোট ২৫ হাজার ৬৯৩ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোলায় ৬ হাজার ৬০৬ জন, পটুয়াখালী জেলায় ৫ হাজার ৯২০ জন, বরগুনায় চার হাজার ৪০ জন, পিরোজপুরে ৩ হাজার ৪৮৬ জন, বরিশালে ৩ হাজার ২১৭ জন ও ঝালকাঠিতে ২ হাজার ৪২৪ জন রয়েছেন।

এছাড়া একই সময়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে বরিশাল জেলায় দুই ও বরগুনায় একজন রয়েছে।

অপরদিকে বরিশাল বিভাগে গত ১ বছরে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৯৭৩ জন। এতে মোট মারা গেছে ২৩৪ জন।

শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বছর থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালের আইসোলেশন ও করোনা ওয়ার্ডে ৩ হাজার ৭৪৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। যারমধ্যে করোনায় আক্রান্ত ছিলেন ১ হাজার ১০৯ জন। মোট রোগীর মধ্যে ৩ হাজার ৫৭ জন রোগী এ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র ও রেফার্ড হয়েছেন, যার মধ্যে শুধু করোনার রোগী ছিলেন ৯২৩ জন।

এছাড়াও শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোট রোগীর মধ্যে ১৫৭ জন করোনা ওয়ার্ডে ও ৩৮৯ জন রোগী আইসোলেশন ওয়ার্ডে মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া মৃতুবরণকারী ৩১ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে প্রেরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে এ হাসপাতালের আইসোলেশন ও করোনা ওয়ার্ডে মোট ৫৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস বার্তা২৪.কম-কে জানান, স্বাস্থ্য-সুরক্ষ বিধি না মানার করণে করোনা আক্রান্তের পাশাপাশি আবহাওয়া পরিবর্তন ও মানুষের অসতর্কতায় দিনে দিনে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে স্বাস্থ্য বিভাগও অনেকটা উদ্বিগ্ন। এই সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে সরকারের আইইডিসিআরের একদল গবেষক বরিশালে এসেছেন। তাদের সরেজমিন প্রতিবেদন পেলে ডায়রিয়া প্রকোপের মূল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, করোনার প্রথম ঢেউয়ে বরিশাল বিভাগে সংক্রমণের হার কম ছিল। কিন্তু বরিশালে দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণের হার বেশি। তাই করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানা, ঘরে থাকাসহ মাস্ক পরার বিকল্প কিছু নেই।