লকডাউনের চতুর্থদিন: প্রয়োজন শুনে শিথিল বিধি-নিষেধ



আরমান আলী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
লকডাউনের চতুর্থদিন: প্রয়োজন শুনে শিথিল বিধি-নিষেধ

লকডাউনের চতুর্থদিন: প্রয়োজন শুনে শিথিল বিধি-নিষেধ

  • Font increase
  • Font Decrease

শনিবার সকাল ৯টা, লকডাউনের চতুর্থদিন। রাস্তার মাঝখানে পুলিশ ব্যারিকেড। একটার পর একটা গাড়ি আসছে আটকে দিচ্ছে পুলিশ। জেরে শেষে কোন গাড়ি ব্যারিকেড পার হয়ে গন্তব্যে ছুটছে। আর কোন গাড়ি ব্যারিকেড থেকে ফেরত যাচ্ছে। এর পাশে কয়েকটা রিকশা উল্টিয়ে রাখা।

রাজধানীর বিজয় সরণি সিগন্যালে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সরকার ঘোষিত লকডাউনের চতুর্থদিন চলছে। এদিন গতকয়েকদিনের তুলনায় যানবাহন ও মানুষ কম দেখা গেছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহন ও মানুষ বাড়তে পারে। পুলিশের দাবি, রাজধানীবাসীর প্রয়োজন অনুসারে লকডাউন কঠোর ও শিথিল করা হচ্ছে। জনগণকে আইন মানতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

বিজয় সরণিতে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জন্ট সামসুদ্দোহা বার্তা২৪.কম’কে জানান, প্রয়োজন ও আইন মেনে যারা রাস্তায় বের হচ্ছেন, নিশ্চিত হয়ে তাদের ছেড়ে দিচ্ছি। যারা অহেতুক গাড়ি বের করছে তাদের আমরা আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা ঘোরাঘুরি করছে তারা সামনে আসছে না। পুলিশের অবস্থান জেনে দূর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, ফলে আমরা তাদের আটকাতে পারছি না।

করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সরকার ঘোষিত লকডাউনের চতুর্থদিন চলছে

রিকশা উল্টানোর কথা বিষয়ে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী তারা মূল সড়কে আসতে পারেন না, এজন্য রিকশা আটকানো হয়েছে। তবে যাত্রীর প্রয়োজন বিবেচনায় তাদের আবার ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আজকে যারা বাইরে তাদের অনেকের মুভমেন্ট পাসসহ প্রয়োজনীয় কাগজ রয়েছে, যা গত কয়েকদিনে পাওয়া যায় নি।

সকালে রাজধানীতে যানবাহন না থাকায় শিল্প-কারখানা খোলা থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন শ্রমিকরা। তবে বেশি ভাড়া দিয়েও নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার বাহন পাওয়া যাবে না এটা প্রায় নিশ্চিত জেনে তারা হাঁটা পথেই রওনা দিয়েছেন।

এদিকে প্রাইভেট গাড়িতে বেশি ভাড়া নিয়ে কৌশলে একাধিক যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে৷ অধিকাংশ সড়কের প্রবেশ পথই অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ তারপরও লোকজন  জরুরি প্রয়োজনে ‘মুভমেন্ট পাস' নিয়ে বের হয়েছেন৷ পুলিশ যানবাহন থামিয়ে মুভমেন্ট পাস চেক করে তারপর গাড়ি ছাড়ছেন। তবে মুভমেন্ট পাস ছাড়াও অনেক যানবাহন দেখা গেছে়। বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি না হলেও ট্রাফিক সিগনালে দীর্ঘ গাড়ির লাইন দেখা যায়।

মেইন রোডে মানুষজন কম চলাচল করলেও এলাকাভিত্তিক কাঁচাবাজারগুলোতে ছিলো মানুষের প্রচুর মানুষের চলাচল

কিন্তু জরুরি সেবা বিভাগে যাদের মুভমেন্ট পাস লাগার কথা নয় তাদেরও রাস্তা আটকে পাস চাওয়া হয়েছে। চিকিৎসক, সাংবাদিক, ডেলিভারিম্যান থেকে শুরু করে অনেকেই এমন অভিযোগ করেছেন।

সকালে গেন্ডারিয়া এলাকায় এক সাংবাদিকের বাইক থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মুভমেন্ট পাস সাংবাদিকদের লাগে না জানালে তাকে বলা হয়, অফিস থেকে বাইরে বের হওয়ার কাগজ দিছে কিনা? এরপর তিনি কার্ড দেখিয়ে ও কোন এলাকায় যাবেন সেটি জানিয়ে সেখান থেকে ছাড়া পান।

একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করা চিকিৎসক দম্পতি বার্তা২৪.কম’কে জানান, উত্তরা থেকে আজিমপুর আসতে পদে পদে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, অথচ আমাদের গাড়ির উপরে চিকিৎসক লেখা স্টিকার লাগানো আছে, এতে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়েছে।

ধোলাই খালের এক কারখানার ম্যানেজার পদে চাকরি করা আলম খান জানান, অফিসে আসার পথে পুলিশ আমাকে রিকশা থেকে নামিয়ে মুভমেন্ট পাস না থাকার কারণে জরিমানা করে। কিন্তু আমি মুভমেন্ট পাসের জন্য চেষ্টা করেও পুলিশের ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারেন নি।

ঢাকার ধানমন্ডি, পান্থপথ, কারওয়ারন বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরে লকডাউনে কিছু ব্যক্তিগত যানবাহন ও রিকশার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও তারা অন্যান্য দিনের মতো এখন সুবিধা করতে পারছে না।

এক রিকশাচালক বলেন, রিকশা নিয়ে ফজরের নামাজের পর বের হলেও এখন পর্যন্ত জমার টাকা ওঠেনি, পুলিশ রাস্তার মোড়ে গেইলে গাড়ি উল্টে রাখে।

মেইন রোডে মানুষজন কম চলাচল করলেও এলাকাভিত্তিক কাঁচাবাজারগুলোতে ছিলো মানুষের প্রচুর মানুষের চলাচল। এমনকি রাস্তায়তে চলাচলরত মানুষের মাঝে ছিল না লকডাউনের নিয়ম মানার প্রবণতা। অনেকক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধিও ছিল উপেক্ষিত।