সাদুল্লাপুরে মানবেতর জীবন যাপন করছে নকল নবিসরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গাইবান্ধা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রায় ৭ মাস ধরে নেই বালাম বই। সেই সঙ্গে টানা লকডাউনের কারণে বন্ধ রয়েছে অফিসটি। যার ফলে এ অফিসের নকল নবিসরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাই মানবেতার জীবন যাপন করছে তারা।

জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অস্থায়ীভাবে ৩২ জন অতিরিক্ত নকল নবিস কাজ করছেন। কাজ আছে মজুরি আছে ভিত্তিতে যুগযুগ ধরে কাজ করছেন তারা। প্রতি পৃষ্ঠা দলিলের নকল বালাম থেকে ভলিয়ম লেখে মাত্র ২৪ টাকা পান । সব মিলিয়ে মাসে যা লেখেন, সেটাই তাদের বেতন-ভাতা। এভাবেই কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। কিন্তু, সেখানেও ঘটে বিপত্তি। ওই অফিসটিতে প্রায় দীর্ঘ ৭ মাস ধরে নেই বালাম বই। মজুরি ভিত্তিতে দলিলের নকল করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তারা। একই সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরাও।

এরই মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সাদুল্লাপুরে চলছে লকডাউন। এতে বন্ধ রয়েছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসটি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নকল নবিসরা অর্থ সংকটে পড়েছেন। দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে তারা।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানান, করোনার কারণে লম্বা লকডাউনে নকল নবিসদের খোঁজ রাখেনি সংশ্লিষ্টরা। যাদের পরিশ্রমের টাকায় বছরে রাজস্ব খাতে কয়েক হাজার কোটি টাকা জমা হচ্ছে। তাদের স্থায়ীকরণের বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না কেউই।

বাংলাদেশ রেক্সরা (মোহরার) নকল নবিস অ্যাসোসিয়েশনের সাদুল্লাপুর উপজেলা সভাপতি সবুজ মিয়া বলেন, এই অফিসটিতে টানা ৭ মাস যাবৎ বালাম বই সরবরাহ নেই। যার কারণে ভলিয়ম করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও গ্রাকদের চাহিদা অনুযায়ী জাবেদা সম্পাদন ও তল্লাসি কাজ করে কিছুটা রোজগার করা হয়েছিলো। বর্তমানে লকডাউনের কারণে অফিসটি বন্ধ থাকায় সেটি থেকেও বঞ্চিত আমরা।

সাদুল্লাপুর সাব-রেজিস্ট্রার কামরুজ্জামান জানান, বালাম বই চেয়ে জেলা রেজিস্ট্রারের নিকট পত্র দেওয়া হয়েছে। সরবরাহ পেলে নকল নবিসরা নিয়মিত কাজ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ রেক্সরা (মোহরার) নকল নবিস অ্যাসোসিয়েশনের রংপুর বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব সৈয়দ রাহেনুল ইসলাম রবার্ট জানান, নকল নবিসদের চাকরি স্থায়ীকরণ ঘোষণা থাকলেও এটি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এতে নকল নবিসরা চরম হতাশায় ভুগছে। আর করোনাকালে তারা কোনো সহায়তাও পাচ্ছেন না।

সরকার যেন নকল নবিসদের চাকরি দ্রুত স্থায়ীকরণ করে সে দাবিও জানান তিনি।