আমাকে মেরে ফেলবে, আপু তুমি তাড়াতাড়ি ঢাকায় আসো



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আনভীর আমাকে ধোঁকা দিয়েছে, আমার অনেক বড় বিপদ। আমাকে মেরে ফেলবে, আপু তুমি তাড়াতাড়ি ঢাকায় আসো। আমার যেকোন সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মুনিয়ার লাশ ‌কুমিল্লায় নেওয়ার পর এভাবেই কান্না জড়িত কণ্ঠে বলছিলেন রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া মৃত কলেজছাত্রী মুশরাত জাহান মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকা থেকে কুমিল্লায় ফিরে নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় অরণী ভবনের ফ্ল্যাটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে এসব কথা বলেন মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান।

তিনি বলেন, কালকে মুনিয়া আমাকে ফোন করে বলে, আমাকে মেরে ফেলবে। আমাকে ধোঁকা দিয়েছে, ধোঁকা দিয়েছে। আপু তুমি তাড়াতাড়ি ঢাকায় আসো, আমার অনেক বড় বিপদ। আমার যেকোনও সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি জেনে ঢাকায় রওনা দেই এবং যেতে যেতে তাকে অনেক ফোন দেওয়া হয়, কিন্তু সে আর ফোন ধরেনি। পরে বাসায় গিয়ে দরজা নক করলেও কেউ দরজা খোলেনি। এ সময় বাসার মালিককে ডেকে ঘরের তালা ভেঙে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই।

নুসরাত জাহান ‌আরও বলেন, আনভীর ওই বাসায় আসা-যাওয়া করেছে, সিসিটিভির এমন ফুটেজ পুলিশ পেয়েছে। দুবছর আগে থেকে বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে মুনিয়ার সম্পর্ক হয়। ওই সম্পর্কের পর তাদের মধ্যে অনেক কিছুই হয়েছে। গত কিছু দিন ধরে মুনিয়ার মন খারাপ। সে বিয়ের কথা আনভীরকে বলেছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছে।

জানা যায়, নগরীর মনোহরপুরের উজির দীঘির দক্ষিণপাড় এলাকার বাসিন্দা মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সফিকুর রহমানের মেয়ে মোসারাত জাহান মুনিয়া রাজধানীর মিরপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। এবার এ প্রতিষ্ঠান থেকে তার এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। এর আগে সে কুমিল্লা নগরীর বাদুরতলা এলাকার ওয়াইডব্লিউসিএ নামক একটি স্কুল থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে। পরে সে নগরীর নজরুল এভিনিউ এলাকার মডার্ন হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে এবং সর্বশেষ রাজধানীর মিরপুর মনিপুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করে। পরিবারে এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে সবার কনিষ্ঠ।

গুলশান দুই নম্বর এভিনিউয়ের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর প্লটের বি/৩ ফ্ল্যাটে একা থাকতেন কলেজছাত্রী মুনিয়া। চলতি বছরের মার্চ মাসে এক লাখ টাকা মাসিক ভাড়ায় তিনি ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন। সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ওই বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) বাদ আসর কুমিল্লা নগরীর টমসমব্রিজ কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।