দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য করবেন না: মেয়র আতিক



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম

মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম

  • Font increase
  • Font Decrease

জীবন ও জীবিকা চালানোর স্বার্থে সরকার শর্তসাপেক্ষে দোকান খোলার সুযোগ দিয়েছিল। দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ অঙ্গীকার করেছিলেন তারা সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান পরিচালনা করবেন। কিন্তু আজ আমি সরেজমিনে এসে দেখলাম বাস্তবতা। অনেকেই দোকান খোলা রেখেছেন মাস্ক পরছেন না, আমাকে দেখে অনেকেই মাস্ক পরছেন এটা কিন্তু ঠিক না। আপনারা নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং আপনার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য মাস্ক পরুন। আমি যেখানে যে দোকানে যাব যদি দেখি ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ যদি মাস্ক পরা না থাকে তাহলে আমি কিন্তু ওই দোকান বন্ধ করে দিব। আমাকে ঈদের আগে দোকান বন্ধ করতে বাধ্য করবেন না।

বুধবার (০৫ মে) বিকেলে গুলশান-১ এর গুলশান শপিং সেন্টার ও ডিএনসিসি মার্কেট পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

মেয়র বলেন, সরকার জীবন-জীবিকা চালানোর জন্য দোকান মালিক সমিতি অনুরোধে মার্কেট খোলার সুযোগ দিয়েছিল। মালিক সমিতির লোকেরাও অঙ্গীকার করেছিল তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে। তারা বলেছিল এখানে তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র থাকবে, স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে, তার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কেটটা খোলা রাখা হয়েছে। কিন্তু আজকে সেই বাস্তবতা কতটুকু পালন হচ্ছে? আমি দোকান মালিক সমিতির সাথে কথা বলেছি, উনারাও আমাকে বলেছেন মেয়র সাহেব আমরা চেষ্টা করছি কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি।

তিনি বলেন, আমি আজকে এসে সরেজমিনে দেখলাম। অনেকে দেখলাম আমাকে দেখে মাস্ক পরছে, কিছু দোকান আছে নির্বিঘ্নে তারা ব্যবসা করছে। আমার মেসেজ হচ্ছে কোন দোকানে গিয়ে যদি দেখি বিক্রেতা হোক অথবা ক্রেতা হোক মাস্ক পরেন নাই সে যেই হোক না কেন সে দোকান আমি বন্ধ করে দিব।

তিনি আরও বলেন, আজকে আমরা বিভিন্ন জায়গায় যাব দেখে অনেকেই তাদের দোকানপাট বন্ধ রেখেছে। গ্লোরিয়া জিন্স এতো দিন খোলা রেখে ছিলেন, উনারা আজকে যেভাবেই হোক খবর পেয়েছে তাই বন্ধ করে রেখেছে। এরকম গ্লোরিয়া জিন্সসহ যারা আছে, কোন রেস্টুরেন্ট খোলা রাখতে পারবেন না। আপনারা অনলাইনে ডেলিভারি দিতে পারবেন। কিন্তু আমরা দেখছি অনেকেই রেস্টুরেন্ট খোলা রাখছেন চুপিসারে। এটি আপনারা করবেন না, আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট যাবে, গিয়ে যদি দেখি খোলা আছে আমরা কিন্তু বন্ধ করে দেবো।

মেয়র বলেন, পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতে দেখছি হোটেলের ভিতরে ইফতার পার্টি করছেন। সরকার যেখানে আপনাদেরকে বলেছে কোন হোটেলে বসে সার্ভিস দেওয়া যাবে না, হোটেলের ভেতরে অথবা খোলা জায়গায় কোথাও খাওয়া যাবে না। আপনার রুমে নিয়ে খাবার খান, কিন্তু এটাও আপনারা মানছেন না। আমি কিন্তু বন্ধ করে দিচ্ছি। আজ কেউ আমার কাছে অনেকে রিকোয়েস্ট করেছে আমি বলেছি না।

দোকানের ক্রেতা বিক্রেতাদের উদ্দেশ্য বলেন, আপনাদের বুঝতে হবে, নিজের যদি সুরক্ষিত থাকি তাহলে আমার পরিবারও সুরক্ষিত থাকবে। পরিবার সুরক্ষিত থাকলে শহর সুরক্ষিত থাকবে, এই দেশ সুরক্ষিত থাকবে। আমি অনুরোধ করছি আপনারা আমাকে দোকান বন্ধ করতে বাধ্য করবেন না।

মাস্ক না পরলে দোকান বন্ধ এবং জরিমানা করা হচ্ছে। তাছাড়া অনাদায়ে জেলেও যাবে তারা। এটা চলমান থাকবে। আমরা যেকোন সময় যেকোন জায়গায় যাব। আমি চাই না ঈদের আগে কারো দোকান বন্ধ হোক। জীবন-জীবিকা চালানোর জন্য আমাদেরকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, তারপর আমরা চলতে পারব। কিন্তু আপনারা কোন কিছু তোয়াক্কা করবেন না, এখন আপনারা বলবেন মাফ করে দেন মাফ করে দেন এটা হবে না। আপনারা দেখেছেন যারা মাস্ক পরেছে তাদেরকে আমি গিফট দিচ্ছি মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

অভিযানের সময় সঙ্গে ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহা. আমিরুল ইসলাম, সচিব রবিন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল হামিদ মিয়া, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ।