রাস্তার ধারের ৯২টি গাছ কেটে নিলেন আওয়ামী লীগ নেতা!



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নাটোর
রাস্তার ধারের ৯২টি গাছ কেটে নিলেন আওয়ামী লীগ নেতা

রাস্তার ধারের ৯২টি গাছ কেটে নিলেন আওয়ামী লীগ নেতা

  • Font increase
  • Font Decrease

নাটোরের সিংড়া উপজেলা চামারী ইউনিয়নের গোটিয়া এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশের ৯২টি গাছ কেটে নিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব হোসন। পুরো এলাকার জমিকে নিজের দাবি করে গত চার দিন ধরে তিনি কাউকে না জানিয়ে শ্রমিকদের দিয়ে একের পর এক গাছ কেটেছেন। কেটে নেওয়া গাছগুলো বিলদহর দুলুর মোড়ের আরিফুল ইসলামের সমিলে রাখা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) চামারী ইউনিয়নের গোটিয়া কাঁচা রাস্তার দুই ধারে লাগানো হয় দুই শতাধিক ইউক্যালিপটাস গাছ। গাছগুলো ইতিমধ্যে ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি ব্যাসের গোলাকারে প্রশস্ত হয়েছিলো।

বুধবার (০৫ মে) সকাল থেকে শ্রমিক দ্বারা গাছগুলো কেটে নেয় মোতালেব হোসেন। বিকেলে ওই এলাকা দিয়ে কেটে ফেলা গাছগুলো ভ্যানযোগে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলামের করাতকলে নিতে দেখা যায়।

গাছ বহনকারী ভ্যানচালক আলী হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব হোসেন গাছগুলো কেটেছেন। তাঁর নির্দেশে গাছগুলো সমিলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোতালেব হোসেনের বৃহস্পতিবার (০৬ মে) বলেন, গাছগুলো আমরা জমির ওপর লাগানো। প্রয়োজন হওয়ায় এখন গাছগুলো কেটে নিয়েছি।

সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কাটতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মোতালেব বলেন, অত কিছু বুঝি না, আমি লাগাইছি, আমি কেটে নিচ্ছি। কাউকে জানানোর প্রয়োজন মনে করিনি।

চামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম মৃধা বলেন, গাছগুলো সামাজিক বনায়নের। এসব কাছ কাটতে হলে টেন্ডারের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। এভাবে গাছ কাটার সুযোগ নেই। এলাকাবাসীর অভিযোগের কথা ইউএনওকে জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিরুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠিয়েছিলাম। আসলে এটি এলজিইডির গেজেটভুক্ত কোনো রাস্তা না। ৮৪৪৭ নম্বর দাগে মোতালেব হোসেনের নামে খতিয়ানভুক্ত জমির পরিমাণ এক একর ১২ শতক। ৮৪৭০ নম্বর দাগের ওপর যে রাস্তা করা হয়েছে তার ব্যক্তি মালিকানার জমির ওপর। তবে যেহেতু রাস্তা রয়েছে, সেহেতু এলজিইডিকে বলা হয়েছে অধিগ্রহণ করে নিতে। এ ক্ষেত্রে মোতালেব হোসেন সরকারি গাছ কেটেছে, এমনটি বলা যাবে না।

রাস্তা ও গাছের মালিকানা ঠিক কার, তা জানতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডির) উপজেলা প্রকৌশলী হাসান আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।