প্রতিটি স্ট্রিটপোলে বসবে এয়ার কোয়ালিটি সেন্সর: মেয়র আতিক



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম

মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম

  • Font increase
  • Font Decrease

নগরবাসীর জন্য তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল প্লাটফর্মে সকল সেবা চালু করার পরিকল্পনা করছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আমরা প্রতিটি নাগরিক সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে করার উদ্যােগ গ্রহণ করেছি। এরই অংশ হিসেবে ডিএনসিসির প্রতিটি স্ট্রিটপোলে এয়ার কোয়ালিটি সেন্সর বসানোর পরিকল্পনা করছি। পাশাপাশি গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থায় চালু করবো স্মার্ট ডিজিটাল পদ্ধতি।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শনিবার (১৫ মে) ডিএনসিসি নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এভাবেই কথাগুলো বলেন।

স্মার্ট সিটি গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে মেয়র বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং স্মার্ট সিটি বিনির্মাণের জন্য ২৪৯টি স্থানে স্মার্ট স্ট্রিট ল্যাম্প পোস্ট স্থাপন এবং বিদ্যমান ১০০টি স্ট্রিট লাইটপোস্টে স্মার্ট অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। তাতে থাকবে ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই ইন বাস স্টপ, প্রতিটি স্ট্রিট পোলে এয়ার কোয়ালিটি সেন্সর, বাসস্টপগুলোতে স্মার্ট বিন, ভবিষ্যতের জন্য ডিজিটাল বিলবোর্ড, স্মার্ট স্ট্রিট নেটওয়ার্ক অবকাঠামো, সিসি ক্যামেরা, যানবাহন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু, শব্দ মনিটিংর ব্যবস্থা। স্মার্ট গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা চালু।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মেয়র বলেন, আমাদের সকল সেবা পর্যায়ক্রমে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। ডিএনসিসির বিভিন্ন ফ্রি অনলাইনের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। ডিএনসিসির সকল ওয়ার্ড কার্যালয়সমূহকে ইন্টারনেটের আওতায় আনা হবে। সকল ওয়ার্ডে সিটি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন ও ডিজিটাল সেন্টারসমূহকে আরও অধিক সেবা বন্ধ করা হবে। পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ট্যাকিংয়ের আওতায় আনা হবে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদান করা সকল নাগরিক সুবিধাসমূহ অনলাইনে প্রদানের লক্ষ্যে অনলাইন কাউন্সিলর সিস্টেম চালু করা হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মেয়র বলেন, বিভিন্ন সড়কে স্মার্ট ওয়েস্ট বিন স্থাপন করা হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে সকল খাল দখলমুক্ত করা এবং পূর্ণ সংস্করণসহ দুইপাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও গাছ লাগানো হবে। খালসমূহ নিয়মিত পরিষ্কার করার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হবে। নতুন সংযোজিত ১৮টি ওয়ার্ডের জন্য ঢাকার পূর্বাংশে নাসিরাবাদ নামক স্থানে ইকো টাউন কনসেপ্টে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। আমিনবাজার ল্যান্ডফিল্ডে পরিবেশসম্মত ইনসিনারেশন প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি গড়ে তোলা।

স্বাস্থ্য বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:

মশক নিধন কর্মীদের বায়োমেট্রিক হাজিরা গ্রহণ করা। মোবাইল সিমের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং সুপারভাইজারদের কার্যক্রম ট্যাকিং করা। সান্ধ্যকালীন ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা। মশকনিধন কাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।

প্রকৌশল বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মেয়র বলেন, পাঁচটি ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করা হবে যেগুলোতে ‘ইনক্লুসিভ’ ভাবে লিফট থাকবে। একটি ফুটওভার ব্রিজ, প্রগতি স্মরণীতে শহীদ আবরার ফুটওভার ব্রিজে এস্কেলেটর আছে। আরও সাতটি ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করা হচ্ছে যেগুলোতে এস্কেলেটর থাকবে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের ফুটওভার ব্রিজ ধারণা নিয়ে প্রশ্ন আছে, তাহলে কেন ফুটওভার ব্রিজের মতো প্রকল্পে লিফট, এস্কেলেটর স্থাপন করে বাজেট বাড়ানো হচ্ছে; এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ফুটওভার ব্রিজ যে মাথার উপরে থাকে, এটা আমরাও চাই না। আমরা চেয়েছিলাম মাটির নিচ দিয়ে করতে। অনেক জায়গায় এর সম্ভাব্যতা নিয়ে আমরা কাজ করেছি, করছি। কিন্তু স্বল্প মেয়াদে এটা করা এখনই সম্ভব না। কাজেই দীর্ঘ মেয়াদে মাটির নিচ দিয়ে নেওয়া হবে আর আপাতত স্বল্প মেয়াদের জন্য ফুটওভার ব্রিজ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ডিএনসিরি প্রধান নির্বাহী মো. সেলিম রেজা, সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম প্রমুখ।