গাঁজা সেবনে বাধা, নৈশপ্রহরীকে হত্যা করে কথিত সাংবাদিক!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়ায় নৈশপ্রহরীকে হত্যা করে কথিত সাংবাদিক

গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়ায় নৈশপ্রহরীকে হত্যা করে কথিত সাংবাদিক

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ার শাজাহানপুরে জয়নাল আবেদীনকে (৭০) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তানভিরুল ইসলাম (২২) নামের কথিত এক সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাদরাসার বারান্দায় গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়ায় মাদরাসার নৈশ প্রহরীকে হত্যা করে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে তানভিরুল ইসলাম।

শনিবার (২৯ মে) বিকেলে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা এতথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃত তানভিরুল ইসলাম শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর উত্তরপাড়ার মিঠু মিয়ার ছেলে এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক মাতৃভূমির খবর নামের একটি পত্রিকার বগুড়া জেলা সংবাদদাতা।

গ্রেফতারকৃত তানভিরুল ইসলাম পুলিশকে জানিয়েছে, তিনি প্রায় রাতেই সাজাপুর উত্তরপাড়া দাখিল মাদরাসার অভ্যন্তরে গাঁজা সেবন করতেন। নৈশ্য প্রহরী জয়নাল আবেদীন তাকে নিষেধ করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৭ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাদরাসার ভিতরে গাঁজা সেবন করছিলেন তিনি। বিষয়টি টের পেয়ে নৈশ প্রহরী তাকে গালিগালাজ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তানভিরুল নৈশ প্রহরীকে ধাক্কা দেয়। নৈশ প্রহরীও তানভিরকে থাপ্পড় দিয়ে তার ঘরে যায় ঘুমাতে।সঙ্গে সঙ্গে তানভির ঘরে ঢুকে নৈশ প্রহরী জয়নাল আবেদীনের পেটে ছুরিকাঘাত করে এবং ছুরি দিয়ে গলা কেটে দেয়। এরপর মাদরাসার পার্শ্বে পুকুরে চাকু ফেলে দিয়ে পুকুরের পানিতে হাত-মুখ পরিষ্কার করে বাড়িতে যায়। বাড়ি গিয়ে গোসল করে ঘুমিয়ে পড়ে।

পরদিন শুক্রবার (২৮ মে) নৈশ প্রহরী খুনের খবর জানাজানি হলে গ্রামের লোকজনের সাথে মাদরাসায় মরদেহ দেখতে যান তানভির। তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে মরদেহের ভিডিও ধারণ শুরু করেন। সেখানে উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকরা তথ্য নিয়ে চলে গেলেও তানভির পুলিশের পিছু ছাড়ছিলেন না। তিনি সকল কর্মকাণ্ড ভিডিও ধারণ করছিলেন। বেলা ৩টার দিকে পুলিশের আরেকটি দল মাদরাসা চত্বরে গেলে তানভির সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকার কয়েকজন মাদকসেবীর নাম ঠিকানা দিয়ে পুলিশকে জানায় তারা হত্যার সাথে জড়িত থাকতে পারে। তানভীরের অতি উৎসাহী আচরণে পুলিশের সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয়। পাশাপাশি তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ আরও তিন যুবককে আটক করেন। রাতে পুুলিশ চারজনকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তানভীর হত্যার সাথে নিজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।