সার্ভার ডাউন থাকায় বিপাকে মানিকগঞ্জ পৌরবাসী



খন্দকার সুজন হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মানিকগঞ্জ
সার্ভার ডাউন থাকায় বিপাকে মানিকগঞ্জ পৌরবাসী

সার্ভার ডাউন থাকায় বিপাকে মানিকগঞ্জ পৌরবাসী

  • Font increase
  • Font Decrease

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম থেকে শুরু করে প্রায় সকল কাজেই এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ জন্ম এবং মৃত্যু সনদ। মাত্র কয়েক মিনিটে জন্ম ও মৃত্যু সনদের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও এই সনদ পেতে মানিকগঞ্জ পৌরবাসীদেরকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত।

এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মানিকগঞ্জ পৌরবাসী। সার্ভার ডাউন থাকায় এসব ভোগান্তি হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। তবে অচিরেই এসব সমস্যা সমাধানের দাবি পৌরবাসীর।

মঙ্গলবার(১ জুন) দুপুরে সরেজমিনে মানিকগঞ্জ পৌরসভার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগের সময় নজরে আসে অস্থায়ী এক নোটিশ বোর্ডের। জন্ম সনদ ও মৃত্যু সনদ সার্ভার ডাউন থাকায় সনদ দিতে দেরি হচ্ছে। সনদ ইস্যুতে দেরি হওয়ায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত লেখা একটি নোটিশ টাঙানো রয়েছে।

নতুন জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ, দ্বি-নকল সনদ এবং এসব সনদ সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের তালিকাও দেওয়া হয়েছে ওই অস্থায়ী নোটিশ বোর্ডে। কক্ষের ভেতরের টেবিলে ফাইল বন্দি অবস্থায় জমে আছে চার শতাধিক আবেদন।

মায়ের নাম ভুল থাকায় জন্ম সনদ সংশোধন করতে আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার সেওতা এলাকায় তার বাড়ি। তার মায়ের প্রকৃত নাম আছমা আক্তার এ্যামিলি। তবে জন্ম সনদে নাম দেওয়া হয়েছে আমিনা আক্তার। মায়ের নাম সংশোধন করার জন্য দুই ‍মাস আগে পৌরসভায় আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।

এর মাঝে খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য একাদিকবারের মত আজও পৌরসভায়ে এসেছেন তিনি। তবে সার্ভার ডাউন থাকায় এখনো পর্যন্ত ভুল সংশোধনের কাজ সমাধান হয়নি বলে তাকে অফিসিয়াল ভাবে জানানো হয়েছে। কাজেই বাধ্য হয়ে আবারো অপেক্ষার প্রহর গুনা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বার্ধক্যজনিত কারণে মা মারা যাওয়ার পর এবার মায়ের মৃত্যু সনদের জন্য মানিকগঞ্জ পৌরসভায় এসেছেন কান্দা পৌলি এলাকার মান্নান মিয়া। তবে মৃত্যুর আগে তার মায়ের জন্ম সনদ করা হয়নি। তাই আগে জন্ম সনদ তুলে পরে মৃত্যু সনদ করতে হবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

সেই উদ্দেশ্যে সে আগে জন্ম সনদ তুলে পরে মৃত্যু সনদের জন্য আবেদন করেন। তবে সার্ভার ডাউন থাকায় এক মাসেও তিনি মৃত্যু সনদ তুলতে পারেননি। জরুরি প্রয়োজন থাকা সত্বেও মৃত্যু সনদ পেতে বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি। এসব ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ পৌরসভার স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মো. জসিম উদ্দিন বলেন, জন্ম বা মৃত্যু সনদের কাজ সম্পূর্ণ করতে সময় লাগে মাত্র আধ ঘণ্টা। তবে সার্ভার ডাউন থাকায় ইচ্ছে থাকা সত্বেও কাজে অগ্রগতি কম।

জন্ম,মৃত্যু,ভুল সংশোধন এবং দ্বি-নকল মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০টি আবেদন পত্র জমা পড়ে। এখন গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২৫টি আবেদনের কাজ সমাধান করা যায়। তবে সার্ভার স্বাভাবিক থাকলে ভোগান্তির কোন সম্ভাবনা থাকবে না। সবশেষ প্রায় চার শতাধিক আবেদন পত্র টেবিলে ফাইল বন্দি অবস্থায় জমা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ পৌরসভা মেয়র মো. রমজান আলী বলেন, জন্ম এবং মৃত্যু সনদ পেতে পৌরবাসির কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে। বেশ কিছু আবেদনপত্র ফাইল বন্দি হয়ে পড়ে আছে। সার্ভার সমস্যার কারণে এসব ভোগান্তি হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, সার্ভারে ধীরগতি থাকায় জন্ম, মৃত্যু, ভুল সংশোধন এবং দ্বি-নকলের আবেদনগুলোর কাজ সমাধান করতে বিলম্ব হচ্ছে। খুব শিগশিগরই এই সমস্যা সমাধান হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।