উদ্বেগ ছড়াচ্ছে রাজশাহী



শিরিন সুলতানা কেয়া, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চেয়েও এখন রাজশাহীর করোনা পরিস্থিতি ভীতিকর। এ মাসের শুরুর দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মৃত্যুর তালিকায় বেশি নাম থাকতো চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোগীর। কিন্তু গেলো কয়েকদিনে সে চিত্র একেবারেই বদলে গেছে। এখন সবচেয়ে বেশি রোগী মারা যাচ্ছেন রাজশাহীরই। প্রতিদিন ভর্তি তালিকাতেও রাজশাহীর রোগী বেশি।

রামেক হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন ছিলেন। অন্য তিনজনের বাড়ি রাজশাহী। শনিবার (১২ জুন) সকালে হাসপাতালে রাজশাহীর ১২২ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১২০ জন, নাটোরের ১৪ জন, নওগাঁর ২৪ জন, পাবনার পাঁচজন এবং কুষ্টিয়ার একজন রোগী ভর্তি ছিলেন। ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীর ১৪ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আটজন, নাটোরের দুইজন ও পাবনার একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত করোনা ওয়ার্ডে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে রাজশাহীর আটজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছয়জন ও নাটোরের একজন রোগী ছিলেন। এদের মধ্যে রাজশাহীর চারজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুইজন এবং নাটোরের একজন করোনা পজিটিভ ছিলেন।

এরও আগে বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এই হাসপাতালে ১২ জনের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে সাতজনের করোনা পজিটিভ ছিল। অন্য পাঁচজন মারা গেছেন উপসর্গ নিয়ে। করোনা পজিটিভ মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের বাড়িই ছিল রাজশাহী। আর দুইজনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

হাসপাতালের ভর্তির চিত্র দেখলে দেখা যায় রাজশাহীর রোগীই বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের আট জেলায় ৩৪৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯৫ জনই শনাক্ত হয়েছেন রাজশাহীতে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে শনাক্ত হয়েছেন ৩২ জন। এর বাইরে নওগাঁয় ৫৯ জন, নাটোরে একজন, জয়পুরহাটে ১০ জন, বগুড়ায় ২৭ জন, সিরাজগঞ্জে ১৫ জন এবং পাবনায় ছয়জন শনাক্ত হয়েছেন। আগের দিনও রাজশাহীতেই শনাক্ত ছিল সবচেয়ে বেশি।

‘বিষয়টা উদ্বেগের’ উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. চিন্ময় কান্তি বলেন, শুধু মৃত্যুই নয়, রাজশাহীতে আক্রান্তের হারও যথেষ্ট ভয় ও শঙ্কার। র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন, আরটিপিসিআর , জিনএক্সপার্ট পরীক্ষায় মিলে রাজশাহীতে আক্রান্তের হার ২০ শতাংশ। কিন্তু শুধু আরটিপিসিআর পরীক্ষায় আক্রান্তের হার ৩৯ শতাংশ এবং জিনএক্সপার্ট পরীক্ষায় ৫৭ শতাংশ। মহামারির প্রবণতাকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এচিত্র বেশ খারাপ বলেও উল্লেখ করেন ডা. চিন্ময় কান্তি।

সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, রাজশাহী জেলায় এখন মোট সংক্রমণের ৭৭ শতাংশই নগরীর। এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্যবিদ চিন্ময় কান্তি বলেন, যেসব এলাকায় ভিড় বেশি, সে এলাকায় করোনার সংক্রমণের হারও বেশি। এবং এ চিত্র প্রমাণ করে যে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় সামাজিক সংক্রমণ চলছে। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের মতে হিসেবে করলে, প্রকৃত চিত্র আরও বেশি।

এদিকে রাজশাহী শহরে যখন করোনার পরিসংখ্যান উদ্বেগ ছড়াচ্ছিল তখনও নগরীতে স্বাস্থ্যবিধি মানার খুব একটা গরজ দেখা যায়নি সাধারণ মানুষের। সড়ক, শপিংমল কিংবা খাবার হোটেল- সবখানেই উপেক্ষিত হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি। আমের হাটে তো সামাজিক দূরত্বের কিছুই নেই।

অথচ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় মানুষের সতর্কতা ভালো ছিল বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম। সম্প্রতি এ অঞ্চল সফর শেষে তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিধিনিষেধ মানার ক্ষেত্রে আন্তরিকতা দেখা গেছে। তবে রাজশাহীতে এই প্রবণতা খানিকটা কম দেখেছেন বলেও জানিয়েছিলেন ডা. নাজমুল ইসলাম।

বাধ্য হয়ে গত শুক্রবার বিকাল ৫টা থেকে আগামী ১৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত শহরে শুরু হয়েছে কঠোর লকডাউন।

রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার বলেন, করোনার প্রকোপ দেখে মনে হচ্ছে সামাজিক সংক্রমণ হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতর ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ৮০ ভাগ উপস্থিতি পেয়েছে, সে হিসেবে ধারনা করা যায় রাজশাহীতেও ডেল্টার উপস্থিতি রয়েছে। এখন লকডাউন দেওয়ায় এর সুফল পাওয়া যাবে।

নোয়াখালীতে আশ্রয়ণের জরাজীর্ণ ঘরে ৪০০ পরিবারের দুর্ভোগ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নোয়াখালীতে আশ্রয়ণের জরাজীর্ণ ঘরে ৪০০ পরিবারের দুর্ভোগ

নোয়াখালীতে আশ্রয়ণের জরাজীর্ণ ঘরে ৪০০ পরিবারের দুর্ভোগ

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের মুকিমপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০০টি ঘর এবং আন্ডারচর ইউনিয়নের পূর্ব মাইজচরা গ্রামের দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০০টি ঘর জরাজীর্ণ হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শুধু আশ্রয়ণের ঘরই নয়, পুকুরের চার পাড় ও খালের অংশে ভেঙে বাসিন্দাদের বসবাসের জায়গাও অনেকটা ছোট হয়ে গেছে। ফলে এসব আশ্রয়ণের ৪০০ পরিবারের সদস্যদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ।

উপজেলার মুকিমপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০০টি ও পূর্ব মাইজচরার ৫০টি ঘর দীর্ঘ ২২ বছর সংস্কারহীন রয়েছে। অপরদিকে গত ৯ বছর সংস্কারহীন রয়েছে পূর্ব মাইজচরার ১৫০টি ঘর।

এসব আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রতিটি ঘরের টিনগুলো মরিচা ধরে ঝরে পড়ছে। অনেক আগেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে শৌচাগারগুলো। আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে না পারা সমাজের নিম্নবিত্ত ও হতদরিদ্র মানুষ তার পরও ছাড়তে পারছে না আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। এখানে থেকে সন্তানদের নিয়ে বৃষ্টির দিনে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন তারা। মাঝেমধ্যে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রকল্প পরিদর্শনে এসে আশ্বাস দিলেও উদ্বোধনের পর আর কোনো সংস্কারকাজ এখানে হয়নি বলে দাবি বাসিন্দাদের। এতে প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারী সহস্রাধিক মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্ষার পানি ঘরে পড়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। ঘর ও শৌচাগার সমস্যার বাহিরে রয়েছে পুকুর ও খাল পাড় ভেঙে বসবাসের জায়গা ছোট হওয়ার বেদনাও। উদ্বোধনের সময় বসবাসের যতটুকু জায়গা ছিল, পাড় ভেঙে এখন তার অর্ধেকে চলে এসেছে।

এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভূমিহীন, গৃহহীন এবং হতদরিদ্র মানুষের জন্য ১৯৯৯-২০০০ সালে নোয়াখালী সদরের অশ্বদিয়া ইউনিয়নের মুকিমপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ২০০টি পরিবার মাথাগোঁজার ঠিকানা পায়। একই বছর সদরের আন্ডারচরের পূর্ব মাইজচরা গ্রামে মাথাগোঁজার ঠাঁই হয় ৫০ পরিবারের। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আন্ডারচরের পূর্ব মাইজচরা গ্রামে আরো ১৫০টি পরিবারের জন্য আশ্রয়ণের ঘরের ব্যবস্থা করে সরকার। তৎকালীন সময়ের অন-উন্নত এসব এলাকায় নানা সূচকে এখন উন্নয়ন হচ্ছে। পাল্টে যাচ্ছে মানুষের জীবনের গতি ও আয় রোজগার। কিন্তু সুদিন ফিরছে না আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী হতদরিদ্র এসব মানুষের। তারা এখনো আশ্রয়ণের ঝরাজীর্ণ ঘরে জোড়াতালি ও প্লাস্টিক টাঙ্গিয়ে কোনোরকম পরিবার নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। ঘরের বাহিরে গিয়ে যে কিছু একটা করবে, সেই উপায়ও নাই। কারণ দীর্ঘ সময় বৃষ্টির স্রোতে পুকুর ও খালের গর্ভে চলে গেছে বসতের জায়গা।

মুকিমপুর আশ্রয়ণের সভাপতি মো. ইদ্রিস মিয়া বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ঘরে একটি করে পরিবারকে সংস্থাপন করা হয়। তৎকালীন সময়ে পৃথক শৌচাগার ও সুপেয় পানি জন্য টিউবওয়েল বসানো ছিল। কিন্তু কয়েক বছরের মাথায় ঘরের টিনগুলো মরিচা ধরে ঝরে ঝরে পড়তে থাকে। শৌচাগারগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় বন্ধ করে দেয়া হয়। পানি না ওঠায় চাপকলগুলোও পরিত্যক্ত হয়ে যায়। পুকরের চার পাড় ভেঙে বসতের জায়গা ছোট হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও চলাচলের রাস্তাও পুকুরে ভেঙে পড়ে গেছে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আবাসন প্রকল্প এলাকায় সংস্কারের দাবি জানিয়েও  কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এ অবস্থায় নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ঘরগুলো জোড়াতালির সংস্কার করে কোনো রকম দিনাতিপাত করছে বাসিন্দারা। বর্ষার মৌসুমে নিজেদের উদ্যোগে পুকুর ঘাট ও রাস্তায় মাটি ফেলে কোনরকম চলাচলের উপযোগী করা হয়।

পূর্ব মাইজচরা আশ্রয়ণের বাসিন্দা শাহ আলম, নুর জাহান, বিবি কুলসুম বলেন, আমাদের আশ্রয়ণের ঘরগুলোর টিনসব মুইচ্চা (মরিচা) ধরি ঝরি হরছে। আমরা প্লাষ্টিক ও তেরপাল (তাবু) টাঙ্গিয়ে কোনরকম থাকছি। হইরের হাড় (পুকুর পাড়) ও খালের পাশে ভেঙে আমাদের বসবাসের জায়গা ও চলাচলের রাস্তা ছোড (ছোট) অই গেছে। মেলা বার (অনেক বার) অফিসাররা আইছে, হেতারা কইছে ঠিক করি দিবো। কিন্তু অনও ঠিক করে নো। আমরা অসহায় মানুষ, কোনাই যামু, কার কাছে যামু। আঙ্গো এগুলা কি দেখার কেউ নাই।

অশ্বদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বাবলু বলেন, আশ্রয়ণের ঘরগুলো সংস্কার ও পুকুর পাড় ভরাটের জন্য একাধিক বার উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এই বিষয়টি উপজেলা সমন্বয় সভায়ও উপস্থাপন করেছি। কিন্তু কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। একই কথা বললেন, আন্ডারচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিনও। তিনি বলেন, ভুলুয়া খালের পাশের আশ্রয়ণটির বেশিরভাগ জায়গা পানির স্রোতে ভেঙে গেছে। গাইড ওয়াল নির্মাণ করে মাটি ভরাটের জন্য আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব রেখেছি। তা করা না হলে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পটির ঘরগুলো বিলীন হয়ে যাবে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করেছি। ঘরগুলো সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘরগুলো সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া, জেলা প্রশাসক মহোদয় পুকুর ও খাল পাড় মাটি ভরাটের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি পূর্ব মাইজচরার দুটি আশ্রয়ণের দুটি প্রকল্প এবং ২৪ মার্চ মুকিমপুর আশ্রয়ণের একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন। প্রকল্পগুলো অনুমোদন হলে মাটি ভরাটের সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

;

বগুড়ায় বাস চাপায় পথচারী নিহত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
বগুড়ায় বাস চাপায় পথচারী নিহত

বগুড়ায় বাস চাপায় পথচারী নিহত

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ার শাজাহানপুরে রাস্তা পারাপারে সময় বাসের চাপায় আবদুল বাকী (৬২) নামের এক ব্যক্তি  নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবদুল বাকী শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের রাধানগর  গ্রামের বাসিন্দা।

জানাগেছে, আব্দুল  বাকী নয় মাইল বাজারে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময়  উল্টো পথে বগুড়াগামী একটি বাস তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

হাইওয়ে পুলিশ শেরপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক বানিউল আনাম বলেন, বাসটি আটক করা হয়েছে। মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

;

দেশে করোনায় ৬ জনের মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
দেশে করোনায় ৬ জনের মৃত্যু

দেশে করোনায় ৬ জনের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ৬ জন মারা গেছেন। আগের দিন ২ জন মারা যায়। এখন পর্যন্ত দেশে মোট মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ৩৫৯ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা সংক্রমণ বেড়েছে দশমিক ৬২ শতাংশ। রোববার করোনায় শনাক্তের হার ছিল ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আজ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৫৮ শতাংশে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ ৫ হাজার ২৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ৭১৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আগের দিন ৪ হাজার ৪১৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিল ৫৭২ জন। দেশে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় মোট শনাক্ত হয়েছে ২০ লাখ ২২ হাজার ৪০৮ জন। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬১ শতাংশ।

দেশে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছে ৪৩৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৯ লাখ ৬৩ হাজার ৩০৮ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। গতকাল সুস্থতার হার ছিল ৯৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এদিকে, রাজধানীসহ ঢাকা জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৪ হাজার ১৩০ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে ৫৭৩ জন। শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গতকাল শনাক্তের হার ছিল ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ।

;

কটিয়াদীতে চোখ ওঠা রোগের প্রাদুর্ভাব, মিলছেনা চোখের ড্রপ



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, কটিয়াদী ( কিশোরগঞ্জ)
চোখ ওঠা রোগের প্রাদুর্ভাব, মিলছেনা পর্যাপ্ত ওষুধ

চোখ ওঠা রোগের প্রাদুর্ভাব, মিলছেনা পর্যাপ্ত ওষুধ

  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা জুড়ে চোখ ওঠা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন অনেক রোগী। এদিকে হঠাৎ এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পর্যাপ্ত ওষুধ মিলছেনা দোকানগুলোতে ৷ ফলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে রোগীদের। এদিকে চোখ ওঠা রোগীদের সচেতন ও সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত একসপ্তাহ ধরে এই রোগের প্রকোপ দেখা যায়। উপজেলা জুড়েই এমন অবস্থা দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়তই একি পরিবারের নতুন কারো চোখ উঠছে। পৌর এলাকাসহ গ্রামের বাজার গুলোতে মিলছেনা চাহিদামত চোখের ড্রপ।

বনগ্রাম ইউপির নাগেরগাও গ্রামের জসিম উদ্দিন বলেন, 'আমার পরিবারে প্রথমে একজনের চোখ ওঠার পর পর্যায়ক্রমে আরো দুইজন আক্রান্ত হয়'।

লোহাজুরী ইউপির বাসিন্দা ফজলুল হক কবির বলেন,'ঘুম থেকে উঠেই দেখি চোখ লাল হয়ে আছে এবং তীব্র ব্যথা করছে। চিকিৎসকের পরামর্শে চোখের ড্রপ আনতে গিয়ে অনেক ফার্মেসী খুঁজে একটি ড্রপ পেয়েছি'।

হাসপাতাল রোডে ওষুধ মার্কেটের একাধিক ওষুধের ফার্মেসী মালিকদের সাথে কথা হয়। এর মধ্যে নাঈম মেডিকেল হল , আলতা মেডিকেল হল, গ্রীন ও সাহা ফার্মেসীর মালিকরা জানান, প্রতিদিন শতশত চোখের রোগী আসছেন। চাহিদামতো কোম্পানি গুলো চোখের ওষুধ সরবরাহ করতে পারছেনা। যা কিছু আসে তাও মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

একাধিক চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জানা যায়, চোখ ওঠলে কখনো কখনো এক চোখে অথবা দুই চোখেই জ্বালা করে এবং লাল হয়ে চোখ ফুলে যায়। চোখ জ্বলা, চুলকানি, খচখচে ভাব থাকা, চোখ থেকে পানি পড়া, চোখে বার বার সাদা ময়লা আসা, কিছু ক্ষেত্রে চোখে তীব্র ব্যথা এ রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

চিকিৎসকরা বলছেন, গরমে আর বর্ষায় চোখ ওঠার প্রকোপ বাড়ে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটিকে কনজাংটিভাইটিস বা কনজাংটিভার বলা হয়। তবে এ সমস্যাটি চোখ ওঠা নামেই বেশি পরিচিত। রোগটি ছোঁয়াচে ফলে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্তদের উল্লেখযোগ্য অংশই শিশু। সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যেই এই রোগ সেরে যায়। তবে জটিল রূপ ধারণ করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

কটিয়াদী হাসপাতালে চোখের চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. ফারজানা আক্তার। তিনি বলেন, ‘রোজ ৫০-৬০ জন চোখ ওঠা রোগী আসছেন। সপ্তাহ আগেও এর পরিমাণ কম ছিল। তাদেরকে চশমা ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে’।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.তাজরীনা তৈয়ব বলেন, 'এটা সিজনাল একটি রোগ। গরমে এবং বৃষ্টিতে এই রোগ বেশি হয়। হাসপাতালের আই ভিশন সেন্টার থেকে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চোখ ওঠা নিশ্চিত হয়ে এন্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা ও সচেতন থাকতে হবে'।

;