কারাগারে বন্ধুত্ব, জামিনে এসে দলবেঁধে ডাকাতি



খন্দকার সুজন হোসেন ,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মানিকগঞ্জ
কারাগারে বন্ধুত্ব, জামিনে এসে দলবেঁধে ডাকাতি

কারাগারে বন্ধুত্ব, জামিনে এসে দলবেঁধে ডাকাতি

  • Font increase
  • Font Decrease

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লী ব্রীজ এলাকায় দলবেঁধে ডাকাতি করে একদল ডাকাত। পরে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের প্রধান কারুনসহ ছয় ডাকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রোববার (১৩ জুন) দুপুরে গ্রেফতার হওয়া ডাকাতদের বিষয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে প্রেস বিফ্রিংকালে এসব বিষয় নিশ্চিত করেন মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার চেচুরিয়া এলাকার মৃত মোহম্মদ আলীর ছেলে কারুন মিয়া ওরফে শমসের মিয়া, অস্ত্র ও ডাকাতিসহ মোট ১০টি মামলা চলমান রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কারাগারে থাকার সময়ে বন্ধুত্ব হয় কারাগারে আগত বিভিন্ন ডাকাতদের সঙ্গে। এরপর জামিনে বের হয়ে দেখা সাক্ষাত করে জামিনে থাকা অপর ডাকাতদের সাথে। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ডাকাতি করে বেড়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়। সম্প্রতি কারুনের নেতৃত্বে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লী ব্রীজ এলাকায়  ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

ডাকাতি কাজে বাধা দেওয়ায় রাজ্জাক নামের স্থানীয় এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে গুরুতর ভাবে আহত করেছে তারা। সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে রাজ্জাক। পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের প্রধান কারুনসহ ছয় ডাকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ডাকাত সর্দার কারুনের দলে থাকা গ্রেফতার হওয়া অপর ডাকাতরা হলেন, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার তিলকপাড়া এলাকার শফি মিয়ার ছেলে সুরুজ মিয়া (২৬), গাইবান্ধা সদর উপজেলার কাশাদহ গ্রামের উজ্বল মিয়া (২৪), একই জেলার পলাশবাড়ি উপজলোর দুর্গাপুর গ্রামের জব্বার মিয়ার চেলে গোলজার ওরফে সাগর (৩৫), বগুড়া জেলার গাবতলী থানার সন্ধ্যাবাড়ি এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহিন (৩০) এবং টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার শাহ আলমের ছেলে টুটুল মিয়া (৩০)।

এর মধ্যে সুরুজের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতিসহ ৪টি মামলা চলমান, উজ্বলের বিরুদ্ধে খুন ও ডাকাতিসহ ৪টি মামলা এবং শাহিনের বিরুদ্ধে ২টি মামলা চলমান রয়েছে।

মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা বলেন, জেলার সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লী ব্রিজ এলাকায় ২জুন এবং ৮জুন রাতে গাছের গুঁড়ি ফেলে ডাকাতি করে এই ডাকাতদল। পরে অভিযান চালিয়ে প্রথমে কারুন এবং পরে পৃথক অভিযানে বাকী আসামিদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, গ্রেফতার হওয়া ডাকাত দলের কাছ থেকে ৪০টি মোবাইল ফোন, এক রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল, সোনা, রুপার জুয়েলারি, নগদ টাকা, ফ্রিজসহ বিভিন্ন রকমের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ডাকাতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।