আ.লীগের লোকেরাই আওয়ামী লীগকে ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে: প্রধানমন্ত্রী



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর বার বার আঘাত এসেছে। সংগঠনকে ভাঙার চেষ্টা হয়েছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ, এই সংগঠন মাটি ও মানুষের থেকে উঠে এসেছে। এটা কোন ক্ষমতা দখল করে হাতে গড়া সংগঠন নয়। যে সংগঠন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠে সেই সংগঠন এতো সহজে শেষ করে দেওয়া যায় না, হয়তো সাময়িক আঘাত আসে। আওয়ামী লীগের ওপর অনেকবার আঘাত এসছে। আওয়ামী লীগের ভেতরের লোকরাই তো আওয়ামী লীগকে ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে।

বুধবার (২৩ জুন) ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, মুসলিম লীগ সরকারের অন্যায়ের প্রতিবাদ করে এই সংগঠন গড়ে উঠেছে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে যে সংগঠন গড়ে ওঠে সেই সংগঠন এতো সহজে ধ্বংস করা যায় না।

তিনি বলেন, মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, তিনিই তো সবার আগে আওয়ামী লীগ ভেঙে চেলে গেলেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি করতে। ঠিক এভাবে কতবার আওয়ামী লীগ ভেঙেছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালে যখন আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হল আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য। দুর্ভাগ্য যে আমি প্রবাসে থাকতে যাকে সব থেকে বেশি সংগঠনের জন্য সহযোগিতা করেছি, আমি ফিরে আসার পর তিনিই আমাকে ছেড়ে, আওয়ামী লীগ ছেড়ে চলে গেলেন আমাদের আব্দুর রাজ্জাক সাহেব। বার বার তাকে বললাম আপনার তো যাওয়ার দরকার নাই, আপনি থাকেন। সে পার্টির সেক্রেটারি। না সে পার্টি ভেঙে বাকশাল করল। এরপর আবার ড. কামাল হোসেন যাকে আমরা রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করলাম। তার নাম ডাক হলো। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বলে তাকে প্রচার করলাম। আসলে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন তখন কি? তিনি তো বঙ্গবন্ধুর কেবিনেটের একজন মন্ত্রী ছিলেন মাত্র। আমাদের প্রচারের মাধ্যমে তাকে তুলে ধরলাম। যিনি ভালো করে বাংলায় কথাও বলতে পারতেন না। তিনি ১৯৯১ সালে পার্টি ভেঙে চলে গেলেন। আর একটা পার্টি বানাবার চেষ্টা করলেন। প্রথমে আওয়ামী লীগের একটা করতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তারপর গণফোরাম করে চলে গেলেন।

তিনি বলেন, এভাবে বার বার আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এসেছে। তবে আমি বলব আওয়ামী লীগ হীরার টুকরা। যতবার ভাঙার চেষ্টা হয়েছে ততো আরও জনবল বেড়েছে, আরও নতুনভাবে জ্যোতি ছড়িয়েছে। কাজেই এই সংগঠনকে ধ্বংস করার জন্য যতই চেষ্টা করুক, সেটা পারেনি পারবে না।

তিনি বলেন, এদেশ থেকে আওয়ামী লীগের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ যখন সৃষ্টি হয়, মুসলিম লীগ ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। আইয়ুব খান যখন ক্ষমতায় এসেছে সেও আওয়ামী লীগ ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। ইয়াহিয়া খান সেও আওয়ামী লীগ ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে, কারণ তখন যে গণহত্যা করেছিল ১৯৭১ সালে সেটা সত্যিকার লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। ঠিক জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে সেও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। জেনারেল এরশাদও একই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। আর খালেদা জিয়া এসে তো আরও একধাপ উপরে।

তিনি বলেন, একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে ১৯৯১-৯৬ সাল আর ২০০১-২০০৬ কত মানুষকে তারা হত্যা করেছে। তাদের লক্ষ্য একটা আওয়ামী লীগকে শেষ করা। আবার যখন জরুরি অবস্থা দেওয়া হল তখন সবার আগে আমাকেই গ্রেফতার করা হল। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের উপরই আক্রোশ। কেন? আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা এনেছে সেজন্য? আওয়ামী লীগের সৃষ্টি সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এদেশের গরিব, দুঃখী মানুষ তারা পেটে ভাত পায়, তারা মাথা গোঁজার ঠাঁই পায়, ঘর পায়, চিকিৎসা পায়, লেখা পড়ার সুযোগ। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনা যখনই করেছে এই বঞ্চিত মানুষেরই ভাগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। রাজনৈতিক দখল হিসেবে যদি বিবেচনা করা যায় এখানে হ্যাঁ কিছু বাম দল আছে, কিছু দক্ষিণপন্থী আছে, কিন্তু সত্যিকার গণমানুষের দল হিসেবে যদি বাংলাদেশে কোন দল থেকে তাকে সেটা হচ্ছে একমাত্র দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের অনেকে অনেক কিছু বলেন। কিন্তু তারা কখন এই জিনিসটা উপলব্ধি করেন না। করবেন কি করে? কারণ এদেশে যখন একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, বাংলাদেশে যখন কোন অরাজনৈতিক অথবা অগণতান্ত্রিক অসাংবিধানিক সরকার আসে তখন ইনাদের মূল্যাটা একটু বাড়ে। কেউ কেউ পতাকা নিয়ে বসে থাকেন। যে কারণে এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে নাই। তারা ক্ষমতাটাকে পদলেহন করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে যা করে জনগণের জন্য করে। আওয়ামী লীগ জনমানুষের দল।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যার পর সংবিধানের বিধানগুলি তো আর অনুসরণ করাই হয়নি। অনুসরণ করবে কি, সংবিধান লঙ্ঘন করেই তো ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য ছুটেছে, মানুষের কল্যাণের জন্য না। তারা কিছু চাটুকারের দল সৃষ্টি করেছে, তোষামোদির দল সৃষ্টি করে তাদের নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা না করে।

এদেশের ইতিহাস অত্যন্ত করুণ ইতিহাস। ’৭৫-এর পর বার বার ক্যু করা হয়েছে। সব থেকে বড় ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর। কত সৈনিকের জীবন দিতে হয়েছে। আর ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের। কত মানুষের জীবন দিতে হয়েছে, একটার পর একটা ক্যু আর মানুষকে হত্যা। সেই জায়গা থেকে দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে যেয়ে আমাদের পদে পদে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। জীবন্ত মানুষকে অগ্নিসংযোগ করে সন্ত্রাস করে হত্যা, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা দেখেছি। ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা নিরহ মানুষ হত্যা করা নানাভাবে তারা চেষ্টা করেছে দেশটাকে অস্থিতিশীল করতে।

আওয়ামী লীগ প্রধান দলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের প্রত্যেক নেতা-কর্মী যখনই যে ডাক দিয়েছি যে কাজ দিয়েছি নিজের জীবন বাজি রেখে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী মাঠে থেকেছে জনগণের পাশে থেকেছে। জনগণের জানমাল রক্ষা করেছে। সেই আদর্শ নিয়েই তারা চলেছে। সেটাই সব চেয়ে বড় কথা। আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সাথে এদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস জড়িত। এদশের সংস্কৃতিক মুক্তি, সামাজিক নিরাপত্তা সামাজিকভাবে যতটুক অর্জন অর্থনৈতিকভাবে যতটুক অর্জন সবকিছুর পেছনে শক্তিশালী সংগঠন আওয়ামী লীগের অর্জন। দলটা যদি শক্তিশালী না হয় তাহলে আসলে কোন কাজ করা যায় না। আর সেটা বাস্তবায়ন করা যায় না। শুধুমাত্র সরকার দিয়ে হয় না, তার পেছনে শক্তিশালী সংগঠনও থাকতে হয়। সরকারের পাশে যদি শক্তিশালী সংগঠন থাকে তাহলে যে কোন অর্জন সম্ভব। আজকে যতটুক অর্জন করেছি এই সুসংগঠিত আওয়ামী লীগ আমার পাশে ছিল বলেই আমার অর্জনগুলি করতে সক্ষম হয়েছি। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের একটি আদর্শ আছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ নিয়েই আমরা চলি। আমরা কোন কাজ করার আগে লক্ষ্য স্থির করি। অন্যা কোন রাজনৈতিক দলের এরকম কোন লক্ষ্যও নেই, কোন চিন্তাভাবনাও নেই। আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা আছে, আমাদের ঘোষণাপত্র আছে আমরা সেগুলো মেনে সংগঠন করি, সেগুলো মেনেই আমরা যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসি আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালায় কি ছিল দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি এবং বস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমরা শুরু থেকেই চিন্তা করেছি বলেই এবং পরিকল্পনা নিয়েছি বলেই তা বাস্তবায়ন করতে সহজ হয়েছে। যার জন্য এত অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়শীল দেশে উন্নীত হয়েছে। ৭৫ পর্যন্ত জাতির পিতা যেটুক অর্জন করে রেখে গিয়েছিলেন স্বল্পোন্নত দেশ। এরপর ’৭৫ পরবর্তী যারা ক্ষমতায় ছিল প্রায় ২৯ বছর। তারা কিন্তু কিছু দিতে পারেনি। দিয়েছি আওয়ামী লীগ যখনই আওয়ামী লীগ এসেছে তখনই এদেশে মানুষ কিছু পেয়েছে।