৪ ডলারের ভ্যাকসিন এখন ১৫ ডলারে কিনতে হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীকে স্থবির করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস যথেষ্ট কষ্ট দিচ্ছে। তারপরও আমাদের অর্থনীতির গতি ঠিক রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যদিও অনেক ক্ষতি হয়েছে, যে লক্ষ্য ছিল সেটা হয়তো পূরণ করতে পারিনি, তারপরও বলব দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ সব থেকে ভালো অবস্থানে আছে এবং থাকবে, সেটাই বড় কথা। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস যখনই দেখা দিয়েছে, ভ্যাকসিনের জন্য যখন গবেষণা চলছে তখন প্রতিটি জায়গায় যোগাযোগ করেছি, কোথায় পাওয়া যায় ভ্যাকসিন এবং পৃথিবীর অনেক দেশ এখনো ভ্যাকসিন দিতে পারেনি, কিন্তু আমরা ভ্যাকসিন নিয়ে এসে দেওয়া শুরু করেছি। ভারতে যখন করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ব্যাপকভাবে শুরু হলো তারা ভ্যাকসিন রফতানি বন্ধ করায় কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আবার ভ্যাকসিন কিনতে শুরু করেছি। যে ভ্যাকসিন ৪ ডলারে নিয়েছি এখন তা ১৫ ডলারে কিনতে হচ্ছে। সামনে হয়তো আরও বেশি দাম হবে।

বুধবার (২৩ জুন) ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস যখনই দেখা দিয়েছে, এই ভ্যাকসিনের জন্য যখন গবেষণা পর্যায়ে ছিল তখন প্রতিটি জায়গায় যোগাযোগ করেছি, কোথায় পাওয়া যায় ভ্যাকসিন এবং পৃথিবীর অনেক দেশ এখনো ভ্যাকসিন দিতে পারেনি কিন্তু আমরা ভ্যাকসিন নিয়ে এসে দেওয়া শুরু করেছি।

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যেকটি মানুষের কাছে যেন ভ্যাকসিন পৌঁছে যায় তার ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে নিচ্ছি এবং সেটাই আমরা করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার খুব দুঃখ লাগে যাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দিয়েছি। তাদের দুই ডোজ নেওয়ার পর তারা এখন সমালোচনা করে, অথচ তারাই কিন্তু সবার আগে নিয়েছে। একে গালি, ওকে গালি দেন সেটাই আমরা শুনি। এটা অবাক লাগে তারা যখন নিয়েছিলেন তখন তো একথা বলেন নাই। এখন আবার সমালোচনা কেন?

তিনি বলেন, বিশ্বের পরিস্থিতি তো বুঝতে হবে। যে ভ্যাকসিন ৪ ডলারে নিয়েছি এখন তা ১৫ ডলারে কিনতে হচ্ছে। সামনে হয়তো আরও বেশি দাম হবে। আমরা আগেই তো টাকা পয়সা দিয়ে চেষ্টা করে রেখেছিলাম। আমরা এখন ভ্যাকসিন উৎপাদনের চিন্তাভাবনা করছি। আন্তর্জাতিকভাবে যেটা গবেষণা হয় আমরা দেশে কাজ করতে পারি কিনা আমরা নিজেরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারি তার জন্য আমাদের ফার্মাসিটিক্যাল তৈরি করা দরকার। আমরা কিভাবে ভ্যাকসিন তৈরি করব, ইনস্টিটিউট তৈরি করব এরপর গবেষণা করে আমরাও যাতে ভবিষ্যতে ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারি তার জন্য যা যা দরকার আমরা সে ব্যবস্থা নেব। সেভাবেই পরিল্পনা নিয়েছি। কাজেই যারা সমালোচনা করছেন তাদের বলব একটু ধর্য্য ধরেন, দেখেন কতটুক কি করতে পারি। তারপর সমালোচনা করেন।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তিনি আমাদের পথ প্রদর্শক আমরা তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলছি। আমাদের এই উন্নয়ন কোন ম্যাজিক না। এটা আমাদের পরিকল্পনা, এটা আমাদের একটা আদর্শ একটা দর্শন। আমরা গ্রামের মানুষকে গুরুত্ব দিয়েছি। গ্রাম থেকে উন্নয়ন করা গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে তাদের দুঃখ দূর করা আমরা ঠিক সেভাবে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি বলেই আজকে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছি এগিয়ে যাচ্ছি।