দেশে গণমানুষের একমাত্র দল আওয়ামী লীগ: প্রধানমন্ত্রী



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, এদেশের মাটি ও মানুষ থেকে গড়ে ওঠা দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমরা যদি জনগণের সংগঠন দেখি গণমানুষের সংগঠন দেখি, তৃণমূল মানুষের দ্বারা গঠিত একটি সংগঠন সেটা কিন্তু আওয়ামী লীগ। সেই সাথে কমিউনিস্ট পার্টি বা আরও অন্যান্য পার্টি আছে, ছোট খাটো দল আছে, কিন্তু মূল একটা সংগঠন সেটা হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এদেশের নিপীড়িত-বঞ্চিত মানুষের দুঃখ থেকে মুক্তি দেবার জন্য আওয়ামী লীগের সৃষ্টি। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনা যখনই করেছে এই বঞ্চিত মানুষেরই ভাগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। রাজনৈতিক দখল হিসেবে যদি বিবেচনা করা যায় এখানে হ্যাঁ কিছু বাম দল আছে, কিছু দক্ষিণপন্থী আছে কিন্তু সত্যিকার গণমানুষের দল হিসেবে যদি বাংলাদেশের জন্য কোন দল থেকে থাকে সেটা হচ্ছে একমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

বুধবার (২৩ জুন) ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল ২৩ জুন ১৯৪৯ সালে। একটা অদ্ভুত মিল ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির আম্রকাননে বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব সিরাজ-উদ দৌলা যুদ্ধে পরাজিত হয়। সেই পরাজয়ের পেছনে চক্রান্ত করেছিল তারই প্রধান সেনাপতি মীর জাফর। বাংলা বিহার উড়িষ্যা তখন স্বাধীন ভূখণ্ড। কিন্তু তা ব্রিটিশ বেনিয়াদের হাতে চলে যায়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা ক্ষমতা দখল করে। এরপর প্রায় ২০০ বছর এই গোলামী চলে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামে একটি রাষ্ট্র যার দুটি শাখা একটি পূর্ববঙ্গ আর একটি পশ্চিম পাকিস্তান। আমরা যদি পাকিস্তান সৃষ্টির ইতিহাস দেখি তাহলে এই পাকিস্তান সৃষ্টির পেছনে এই বাঙালিদেরই অবদান, কিন্তু বাঙালিরাই পাকিস্তান সৃষ্টির পর শোষণ বঞ্চনার শিকার হয় এবং মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার হারায়। এই বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে ঠিক সেই ২৩ জুন। যে ২৩ শে জুন পলাশির আম্রকাননে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল মনে হয় যেন সেই সূর্যকে উদিত করার জন্য সেই ২৩ জুন আওয়ামী লীগ সৃষ্টি হয়েছিল, ঠিক সেটাই হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা যে বিজয় অর্জন করি। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সরকার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ যখন সরকার গঠন হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুর ইসলামকে উপ রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সেই আম্রকাননেই শপথ গ্রহণ করেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুর একটা শক্তি ছিল সংগঠন তৈরি করার। তিনি গুরুত্বই দিয়েছিলেন সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য। কারণ তিনি জানতেন সংগঠন ছাড়া কোন অর্জন সম্ভব নয়। তিনি যখন দেখলেন বাঙালিরা শোষিত লাঞ্চিত। এই শোষণ বঞ্চনা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ ছিল স্বাধীনতা অর্জন, তাছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। সেই সংগঠনকে তিনি সেভাবেই গড়ে তুলেছিলেন। আওয়ামী লীগ এদেশের জনগণের জন্য। এই দেশের মানুষ যা কিছু পেয়েছে সবকিছু আওয়ামী লীগেই দিয়েছে। ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন শুরু, ভাষা আন্দোলন শুরুর আগেই ছাত্রলীগ গঠন করেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ নিয়েই কিন্তু তিনি সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। আর ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়। আওয়ামী প্রতিষ্ঠা লাভ করার পর ভাষা সংগ্রাম অব্যাহত থাকে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন হয়, কিন্তু সেটি বেশিদিন টেকেনি। ১৯৫৬ সালে মার্শাল ল জারি হয় তখন রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়, আবার জাতির পিতার গ্রেফতার অধিকাংশ সময় তো জেলেই থাকতেন। ১৯৬৪ সালে আওয়ামী লীগ আবার পুনর্গঠন করা হয়। তখন মওলানা তর্কবাগীশ সভাপতি আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাধারণ সম্পাদক। ৬৬ সালে তিনি যখন ৬ দফা দিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসে যখন ৬ দফা দিলেন মার্চ মাসে যে কাউন্সিল অধিবেশন হয় ১৮, ১৯ ও ২০ শে মার্চ। ১৯ তারিখ কাউন্সিল অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তাজউদ্দিন আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই ৬ দফা দিয়ে তিনি সমগ্র বাংলাদেশ সফর করেন। তখনকার পাকিস্তানি সরকার তাকে গ্রেফতার করে। মে মাসে গ্রেফতার হন। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে এই দফা মানুষের কাছে মুক্তির সনদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এটাই শুধু না প্রতিটি সংগ্রামে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যদি শহীদের হারটা দেখি যে কতগুলো মানুষ জীবন দিয়েছে এদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য একমাত্র আওয়ামী লীগ আর একটা রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে এই দেশে কয়টা রাজনৈতিক দল আছে এমন ত্যাগ শিকার করেছে। অনেকে অনেক কথা বলেন কেউ বলে একটা দল হয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি জনগণের সংগঠন দেখি গণমানুষের সংগঠন দেখি, তৃণমূল মানুষের দ্বারা গঠিত একটি সংগঠন দেখি সেটা কিন্তু আওয়ামী লীগ। সেই সাথে কমিউনিস্ট পার্টি বা আরও অন্যান্য পার্টি আছে ছোট খাটো দল কিন্তু মূল একটা সংগঠন সেটা হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এর বিপরীতে যে দলগুলো করা আহাজারি করে। তাদের কিভাব সৃষ্টি?

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাব হত্যা করে অবৈধভাবে হত্যা ক্যু ষড়ন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে যে সামরিক সরকার। প্রথমে ক্ষমতায় উত্তরণ করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দেয় ক্ষমতা দখল করে আর্মির সমস্ত রুলস ভঙ্গ করে দখল করে নিজেদেরকে ঘোষণা দিয়ে তারপর আবার রাজনীতে অবতরণ করে। তখন ক্ষমতায় বসে মার্শাল ল জারি অবস্থায় যে দল তৈরি করে সেটার একটা হল বিএনপি পরবর্তীতে আর একটা হল জাতীয় পার্টি। বিএনপি, জাতীয় পার্টি তো জনগণের মধ্যে থেকে উঠে আসে নাই বা জনগণের কল্যাণে কাজ করেও উঠে আসেনি। ক্ষমতা দখল করে হাতে সৃষ্টি করা একটি দল। আমি মনে করি যারা সমালোচনা করে তাদের মনে রাখা উচিত।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দীর্ঘ সময়ে যে ক্ষমতার খেলা চলছে বাংলাদেশে সেই পাকিস্তান আমল থেকে ১৯১৮ সালে আইয়ুব খান যে পদ্ধতিতে এসেছিল সেনাপ্রধান হিসেবে। আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করে একাধারে প্রেসিডেন্ট, জিয়াউর রহমানও একাধারে প্রেসিডেন্ট হয় আবার নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে। জেনারেল এরশাদও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে।

তিনি বলেন, এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামে যারা রাজপথে রক্ত দিয়েছে সংগ্রাম করেছে সেটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সংগ্রাম করেছে বিধায় আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি। আজকে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন সেটাও যদি বিবেচনা করেন সেটাও কিন্তু আওয়ামী লীগের হাতেই। তার কারণ একটাই যেহেতু এদেশের গণমানুষের সংগঠন, অধিকার হারা মানুষের বঞ্চনা শোষণ তারা দেখেছে। মানুষের কষ্ট দুঃখ যন্ত্রণা তারা উপলব্ধি করেছে। দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত একটি জাতি যাদের একবেলা খাদ্যে জুটত না তাদের থাকার জায়গা নাই রোগের চিকিৎসা নাই তাদের কোন আশা ভরসা নাই শিক্ষা নাই কিচ্ছু নাই সেই শোষিত বঞ্চিত জাতির এই কষ্ট দুঃখ থেকে মুক্তি দেবার জন্য আওয়ামী লীগের সৃষ্টি।

আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এসেছে। তবে আমি বলব আওয়ামী লীগ হীরার টুকরা। যতবার ভাঙার চেষ্টা হয়েছে ততো আরও জনবল বেড়েছে, আরও নতুনভাবে জ্যোতি ছড়িয়েছে। কাজেই এই সংগঠনকে ধ্বংস করার জন্য যতই চেষ্টা করুক, সেটা পারেনি পারবে না।