ডেঙ্গু নাকি করোনা? বুঝবেন যেভাবে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা ২৪
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (৭ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ৮ জুলাই সকাল ৮টা) নতুন ৩৬ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর তারা সবাই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ১৫১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, একজন ব্যক্তি একই সাথে করোনা এবং ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক শর্মিলা হুদা গণমাধ্যমকে আজ বলেছেন, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীর জ্বর, গায়ে ব্যথা, মাথা ব্যথা এবং চোখের পেছনে ব্যথা থাকে। সাধারণত এ ধরনের লক্ষণ থাকলে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় না, কারণ হাসপাতালগুলো এখন কোভিড রোগীতে পরিপূর্ণ। তবে পরিস্থিতি যদি জটিলতার ইঙ্গিত দেয় তাহলে হাসপাতালে ভর্তি হতেই হবে। সেক্ষেত্রে অন্য কোন বিকল্প নেই।

একই রোগী কোভিড এবং ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ। গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, দুইটার ক্ষেত্রেই জ্বর, গলা ব্যথা, সর্দি, কাশি এবং স্বাদ না থাকা হতে পারে। করোনার ক্ষেত্রে এসব লক্ষণের সাথে নাকে ঘ্রাণ পায় না এবং কারো কারো পাতলা পায়খানা হয়। এছাড়া করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট-জনিত সমস্যা হতে পারে, যেটি ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে হয় না।

চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চার-পাঁচদিন পরে শরীরে লাল অ্যালার্জির মতো র‍্যাশ হতে পারে। তখন রক্তে প্ল্যাটিলেটের মাত্রা কমে যেতে পারে। ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে 'শক সিন্ড্রোম' হতে পারে যেটি রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়।

কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো থাকলে রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। সেগুলোর মধ্যে যদি দেখা যায় যে রোগীর নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে। অথবা তার কালো পায়খানা হচ্ছে। গুরুতর ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে নারীদের মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তচাপ কিংবা হঠাৎ করে মাসিক হতে পারে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশে এক দিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এ পর্যন্ত করোনায় দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫ হাজার ৭৯২ জনের। এর আগে, বুধবার (৭ জুলাই) রেকর্ড ২০১ জন মারা যান, যা দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। তার আগে গত সোমবার ১৬৪ ও মঙ্গলবার ১৬৩ জন মারা যান। এছাড়া জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে প্রতিদিন ১৩০ জনের বেশি মানুষ করোনায় মারা গেছেন।

এছাড়া একই সময়ে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৬৫১ জন, যা এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। এর আগে গত মঙ্গলবার ২য় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৫২৫ জন শনাক্ত হয়েছিলেন। এ নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ লাখ ৮৯ হাজার ২১৯ জনে।

দেশে করোনা সংক্রমণের এই অবস্থায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকলে সংক্রমণ পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অধিদফতরের মুখপাত্র ডা. নাজমুল ইসলাম।

ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, দেশে এই মুহূর্তে করোনাভাইরাসের প্রতি বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ডেঙ্গুকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। বৃষ্টিতে পানি জমে থাকছে। এ কারণে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা কিছুটা বাড়ছে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে কারও যদি জ্বর থাকে তাহলে কোভিড পরীক্ষার পাশাপাশি ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে হবে। সারাদেশে সিভিল সার্জনদের কাছে পর্যাপ্ত এনএস-১ কিট সরবরাহ করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পরীক্ষা করানো সম্ভব হবে।