প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর পরিচয়ে প্রতারণার ফাঁদ, অবশেষে গ্রেফতার



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রতারক গিয়াস উদ্দিন কবির

প্রতারক গিয়াস উদ্দিন কবির

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন গিয়াস উদ্দিন কবির নামের এক ব্যক্তি। বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে চাইতেন মোটা অংকের টাকা। টানা না পেলে দিতেন হুমকি-ধামকিও। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি।

সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন এহেন অভিযোগের ভিত্তিতে উক্ত চক্রকে শনাক্ত করে আজ ভোর ২ টা ৫ মিনিটে কুমিল্লা জেলা থেকে গিয়াস উদ্দিন কবির (৩৯) কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে উক্ত মোবাইল ও সিম উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার অপরাধের কথা স্বীকার করে।

উক্ত বিষয়ে পল্টন থানায় মামলা নম্বর ১১, তারিখ ১০/০৭/২০২১, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর ২৩/২৪ ধারায় রজু করা হয়। আদালতে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করলে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সিটিটিসির সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সিনিয়র সহকারী উপ-পুলিশ কমিশনার (এসি) ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ বলেন, গ্রেপ্তার গিয়াস উদ্দিন কবির মন্ত্রী-এমপির কাছ থেকে সুকৌশলে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। এমনকি তিনি ক্ষমতাশীন দলের প্রবীণ নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায় করতেন। বিষয়টি ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জানার পরে মামলা করেন। সেই মামলায় কুমিল্লা থেকে গিয়াস উদ্দিন কবিরকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি।’

সিটিটিসির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্রেফতার গিয়াস উদ্দিন মাস্টার্স পাস। তিনি একটি ব্যাটারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারে।’

গ্রেফতারের পর গিয়াস উদ্দিন সিটিটিসিকে জানিয়েছেন, তিনি মন্ত্রী ও সংসদ সদ্যদের ফোন করার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন।

তার দেয়া তথ্যানুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভালো জায়গায় পোস্টিং, আত্মীয়দের ভালো জায়গায় চাকরি পাইয়ে দেয়ার নাম করে প্রতারণা করেছেন। একইভাবে পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন তিনি। কোনো কর্মকর্তা বা আওয়ামী লীগ নেতা টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাদের ভয়ভীতি ও সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দিতেন তিনি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, আমার নাম ব্যবহারের অভিযোগ শুনলে এবং মাননীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রী বিষয়টি আমাকে জানালে আমি তাৎক্ষণিকভাবে তা পুলিশকে জানাই। পুলিশ তাকে ট্র্যাক করে আজ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রতারক চক্রের কাছ থেকে সতর্ক থাকতে এবং কখনো এমন কোন ফোনকল পেলে তাকে বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছেন।